img

পাহাড় কাটায় বিপিসিকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশিত :  ০৫:২১, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাহাড় কাটায় বিপিসিকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা জরিমানা

চট্টগ্রামের আবাসিক এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে পাহাড় কাটার দায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ এবং কেটে ফেলা স্থান আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আদেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নগরের জামালখান এলাকার জয়পাহাড়ে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিপিসি অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কাজ শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে পাহাড় কাটার দৃশ্যমান প্রমাণ পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শন রিপোর্ট অনুযায়ী তপশিলভুক্ত ওই স্থানে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। পরিদর্শনে দেখা যায়, দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৫০ ফুট, প্রস্থে ৮ ফুট এবং উচ্চতায় ৮ ফুট—মোট আনুমানিক ৯ হাজার ৬০০ ঘনফুট দৃশ্যমান পাহাড় কাটা হয়েছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ কার্যক্রম পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬ (খ) ধারার অপরাধ এবং ৭ ধারার আওতায় পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতিসাধনের শামিল। আইন অনুযায়ী পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কাটা স্থান আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুমোদন ছাড়া কোনো পাহাড় বা টিলা কর্তন না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

শুনানিতে বিপিসির পক্ষে ডিজিএম এস এম জোবায়ের হোসেন এবং এলডিএ মো. শিহাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ আশফাকুর রহমান ও সিনিয়র টেকনিশিয়ান মো. ওমর ফারুক উপস্থিত থেকে সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদন, লিখিত বক্তব্য ও দালিলিক প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন। শুনানিতে উত্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা করে জরিমানার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

এর আগে বিপিসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। পরিদর্শন প্রতিবেদনে দৃশ্যমান পাহাড় কাটার বিষয়টি উল্লেখ থাকায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে জরিমানার আদেশ জারি করা হয়।

চট্টগ্রাম নগরে পাহাড় ও টিলা কর্তন দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বিষয়। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অনুমোদন ছাড়া যে কোনো পাহাড় বা টিলা কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের ব্যাপারে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর এসে কাজ বন্ধ রাখতে হবে, তারপরও ভবন নির্মাণ চলমান থাকে। এভাবে চললে পাহাড় নিঃশেষ হয়ে যাবে।’ সরকারি-বেসরকারি মালিকানায় সাইনবোর্ড ঝুলি দিয়ে নিষেধাজ্ঞা দিলে পাহাড়গুলো রক্ষা পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


img

বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা

প্রকাশিত :  ০৭:৫১, ০১ মে ২০২৬

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ভারী বৃষ্টির ফলে পানি জমে গেছে। আজ শুক্রবার (০১ মে) ভোর ৫টার কিছু পর থেকে সকাল ৭টার আগ পর্যন্ত অঝোরে বৃষ্টি হয়। এতে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে কয়েক ফুট পর্যন্ত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে রাজধানীর- মালিবাগ, শান্তিনগর, রাজারবাগ, সায়াদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর ১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তায়, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায়, মোহাম্মদপুর, ইসিবি, কালশিসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলগলিতে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। 

অবশ্য ধীরে ধীরে পানি নেমে যাওয়ায় অনেক সড়কে জলাবদ্ধতার পরিমাণ কমে আসতে শুরু করেছে। তবে সকাল থেকেই বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহনগুলো ধীর গতিতে চলছে। পায়ে হেঁটে মানুষের যাতায়াতও কম দেখা গেছে।

ছুটির দিন হওয়ায় সকালে যানবাহন তুলনামূলক কম ছিল, তাই দুর্ভোগ কিছুটা সীমিত ছিল। তবে সকাল ৮টার পরও অনেক সড়কে পানি আটকে থাকতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মুখপাত্র রাসেল রহমান বলেন, বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট অস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে ভোর থেকে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা। আশা করছি খুব অল্প সময়ে সব সড়ক থেকে পানি নেমে যাবে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য দেশের ছয় বিভাগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। বিভাগগুলো হলো- ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট। এসব বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তায় বলা হয়।

গত রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে অন্তত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহ কমে আসে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৬° সেলসিয়াস, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

বৃহস্পতিবার সারা দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে, ৬০ মিলিমিটার। আগের দিন সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছিল পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১২১ মিলিমিটার।

বাংলাদেশ এর আরও খবর