পাহাড় কাটায় বিপিসিকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা জরিমানা
চট্টগ্রামের আবাসিক এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে পাহাড় কাটার দায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ এবং কেটে ফেলা স্থান আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আদেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নগরের জামালখান এলাকার জয়পাহাড়ে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিপিসি অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কাজ শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে পাহাড় কাটার দৃশ্যমান প্রমাণ পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শন রিপোর্ট অনুযায়ী তপশিলভুক্ত ওই স্থানে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। পরিদর্শনে দেখা যায়, দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৫০ ফুট, প্রস্থে ৮ ফুট এবং উচ্চতায় ৮ ফুট—মোট আনুমানিক ৯ হাজার ৬০০ ঘনফুট দৃশ্যমান পাহাড় কাটা হয়েছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ কার্যক্রম পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬ (খ) ধারার অপরাধ এবং ৭ ধারার আওতায় পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতিসাধনের শামিল। আইন অনুযায়ী পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কাটা স্থান আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুমোদন ছাড়া কোনো পাহাড় বা টিলা কর্তন না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
শুনানিতে বিপিসির পক্ষে ডিজিএম এস এম জোবায়ের হোসেন এবং এলডিএ মো. শিহাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ আশফাকুর রহমান ও সিনিয়র টেকনিশিয়ান মো. ওমর ফারুক উপস্থিত থেকে সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদন, লিখিত বক্তব্য ও দালিলিক প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন। শুনানিতে উত্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা করে জরিমানার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
এর আগে বিপিসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। পরিদর্শন প্রতিবেদনে দৃশ্যমান পাহাড় কাটার বিষয়টি উল্লেখ থাকায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে জরিমানার আদেশ জারি করা হয়।
চট্টগ্রাম নগরে পাহাড় ও টিলা কর্তন দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বিষয়। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অনুমোদন ছাড়া যে কোনো পাহাড় বা টিলা কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের ব্যাপারে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর এসে কাজ বন্ধ রাখতে হবে, তারপরও ভবন নির্মাণ চলমান থাকে। এভাবে চললে পাহাড় নিঃশেষ হয়ে যাবে।’ সরকারি-বেসরকারি মালিকানায় সাইনবোর্ড ঝুলি দিয়ে নিষেধাজ্ঞা দিলে পাহাড়গুলো রক্ষা পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



















