বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী, সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়ল ৩০ শতাংশ
প্রকাশিত :
০৮:০২, ০৭ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। গত এক সপ্তাহে তেলের মূল্য নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৮.৫ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়।
এর ফলে যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্বল তথ্যের কারণে শেয়ারবাজারেও পতন দেখা দিয়েছে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের পাল্টা হামলার ফলে বিশ্বের জ্বালানি ও পরিবহন খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হামলার ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড তেলের দাম আজ ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া যুদ্ধ থামবে না বলে ঘোষণা করার পর এক সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল চুক্তি ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা এক সপ্তাহে তেলের দাম বৃদ্ধির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই পথে সামুদ্রিক যান চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ।
এদিকে দক্ষিণ ও উত্তর ইরাকের তেলক্ষেত্রগুলোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে একটি মার্কিন-পরিচালিত তেলক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারণক্ষমতার অভাবে কুয়েতও তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে।
দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানির উচ্চমূল্য বজায় থাকলে পুনরায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রবৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়বে।
অর্থনীতি চাঙা করার কথা উঠলেই আমাদের আলোচনার বড় অংশজুড়ে থাকে ব্যাংক, ঋণ, সুদহার, আমদানি, রপ্তানি আর সরকারি ব্যয়। এসবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই আলোচনার বাইরে যদি পুঁজিবাজারকে রেখে দেওয়া হয়, তাহলে অর্থনীতির পুরো ছবিটা আর দেখা হয় না।
একটি দেশের অর্থনীতি একক কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। ব্যাংক তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, পুঁজিবাজার আরেকটি। একটিকে শক্তিশালী করে অন্যটিকে দুর্বল রেখে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। বরং পুঁজিবাজারকে বাদ দিয়ে অর্থনীতিকে চাঙা করার চেষ্টা অনেকটা একটি চাকা খুলে রেখে গাড়ি চালানোর মতো। কিছুটা পথ হয়তো এগোনো যাবে, কিন্তু সেই যাত্রা কতটা স্থায়ী হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
অর্থনীতির মূল শক্তি বিনিয়োগ। আর বিনিয়োগের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান আস্থা। যেখানে বিনিয়োগকারীর আস্থা নেই, সেখানে নতুন মূলধন আসে না। উদ্যোক্তা ঝুঁকি নিতে চান না। ব্যবসা সম্প্রসারণের সাহস কমে যায়। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
পুঁজিবাজার সেই বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এখানে শুধু শেয়ার কেনাবেচা হয় না। একটি কোম্পানি যখন বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করে, তখন সেই অর্থ দিয়ে কারখানা বাড়াতে পারে, নতুন প্রকল্প হাতে নিতে পারে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে। অর্থাৎ একটি সক্রিয় পুঁজিবাজারের সঙ্গে দেশের বাস্তব অর্থনীতির সম্পর্ক অনেক গভীর।
ব্যাংকের ভূমিকা অবশ্যই অস্বীকার করার উপায় নেই। একটি অর্থনীতিতে ব্যাংক অপরিহার্য। কিন্তু শুধু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করে ব্যবসা ও শিল্পকে দীর্ঘদিন এগিয়ে নেওয়া সব সময় সম্ভব হয় না। ঋণের সঙ্গে থাকে সুদ ও কিস্তির দায়। অন্যদিকে পুঁজিবাজার উদ্যোক্তাকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের সুযোগ দেয়। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সম্ভাবনাময় কোম্পানি পর্যন্ত অনেক ব্যবসার জন্য এই বিকল্প অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণেই এখনো সময় আছে। সরকারকে পুঁজিবাজারের দিকে নতুন করে তাকাতে হবে। শুধু সূচক কত বাড়ল বা কমল, সেই হিসাব দিয়ে বাজারের গুরুত্ব নির্ধারণ করলে চলবে না। বাজারের পেছনে আছে মানুষের সঞ্চয়, পরিবারের স্বপ্ন, উদ্যোক্তার পরিকল্পনা এবং বহু মানুষের জীবিকা।
পুঁজিবাজারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক পরিবার জড়িত। সংশ্লিষ্ট মহলে প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ পরিবার কোনো না কোনোভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। একটি পরিবারের সদস্যসংখ্যা গড়ে চারজন ধরে হিসাব করলে এই খাতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের সংখ্যা কয়েক দশক লাখে পৌঁছে যায়। সংখ্যাটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে একটি পরিবার, একটি সংসার, একটি প্রত্যাশা।
একজন ছোট বিনিয়োগকারী যখন নিজের জমানো টাকা বাজারে বিনিয়োগ করেন, তখন তাঁর কাছে সেটি শুধু একটি শেয়ার নয়। সেটি হয়তো সন্তানের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ। হয়তো অবসরের নিরাপত্তা। হয়তো একটি ছোট ব্যবসা শুরু করার পুঁজি। কিংবা কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর শেষ ভরসা।
তাই বাজারে দীর্ঘস্থায়ী আস্থার সংকট তৈরি হলে ক্ষতিটা শুধু হিসাবের খাতায় থাকে না। তার অভিঘাত পৌঁছে যায় ঘরে ঘরে।
পুঁজিবাজারের সঙ্গে শুধু বিনিয়োগকারীরাই যুক্ত নন। ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা বিভাগ, অডিট, আইন, তথ্যপ্রযুক্তি, গণমাধ্যমসহ নানা পেশার মানুষের কর্মসংস্থানও এই বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাজারের কর্মকাণ্ড যখন সংকুচিত হয়, তখন এর প্রভাব ধীরে ধীরে এসব ক্ষেত্রেও পড়ে।
অথচ পুঁজিবাজার নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে এখনো এক ধরনের সংকীর্ণতা আছে। বাজার মানেই যেন শেয়ার কেনাবেচা, সূচকের ওঠানামা আর মুনাফার হিসাব। বাস্তবতা আরও বড়। একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার দেশের শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে।
তবে সেই বাজার শক্তিশালী করতে হলে শুধু প্রণোদনা দিলেই হবে না। সবচেয়ে আগে প্রয়োজন আস্থা। বিনিয়োগকারীকে বিশ্বাস করতে হবে, বাজারে নিয়ম সবার জন্য সমান। কারসাজি করে কেউ পার পেয়ে যাবে না। গোপন তথ্য ব্যবহার করে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভালো কোম্পানি বাজারে আসবে এবং দুর্বল কোম্পানির দায়ও যথাযথভাবে নির্ধারিত হবে।
এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। আর্থিক প্রতিবেদনকে নির্ভরযোগ্য করতে হবে। করপোরেট সুশাসন শক্তিশালী করতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি বাড়াতে হবে। বিনিয়োগকারীর অধিকার রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে বাজারে ভালো কোম্পানি আনার উদ্যোগও জরুরি। দেশের বড় বড় ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের একটি অংশ যদি পুঁজিবাজারে আসে, তাহলে বাজারের গভীরতা বাড়বে। বিনিয়োগকারীর সামনে ভালো বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। কোম্পানিগুলোও ব্যাংকঋণের বাইরে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাবে।
সরকারের দেওয়া প্রণোদনাও তাই হতে হবে বাজারের ভিত্তি শক্ত করার জন্য। কৃত্রিমভাবে সূচক বাড়িয়ে সাময়িক স্বস্তি তৈরি করলে কোনো লাভ নেই। বাজারকে টেকসই করতে হলে প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার, ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা।
ব্যাংক ও পুঁজিবাজারকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখারও কোনো কারণ নেই। বরং তাদের পাশাপাশি এগোতে হবে। ব্যাংক অর্থনীতির স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, পুঁজিবাজার দেবে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের সুযোগ। এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারলে অর্থনীতির ভিত আরও শক্ত হবে।
কোনো ব্যবসা যদি বছরের পর বছর শুধু ব্যাংকঋণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে তার ওপর ঋণের বোঝা বাড়তে পারে। সুদ ও কিস্তির চাপ অনেক সময় ব্যবসার সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত করে। বিশেষ করে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের প্রয়োজন হয়। সেই জায়গায় একটি কার্যকর পুঁজিবাজার উদ্যোক্তার জন্য বড় বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
তাই ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা করার যে কোনো জাতীয় পরিকল্পনায় পুঁজিবাজারকে পাশে রাখতে হবে। পুঁজিবাজারকে অবহেলা করে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বা দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনা করলে সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনুপস্থিত থেকে যাবে।
আমাদের মনে রাখা দরকার, অর্থনীতির শক্তি শুধু বড় বাজেট, বড় ঋণ বা বড় সরকারি ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনীতির আসল শক্তি মানুষের আস্থা এবং বিনিয়োগের সাহসে। একজন মানুষ যখন নিজের সঞ্চয় বিনিয়োগ করতে ভয় পান, তখন সেটি শুধু একজন বিনিয়োগকারীর সমস্যা নয়। এটি অর্থনীতির জন্যও একটি সতর্কবার্তা।
পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় সংকট তাই হয়তো টাকার নয়, বিশ্বাসের। সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারলে অর্থের প্রবাহও ফিরবে। নতুন বিনিয়োগকারী আসবেন। উদ্যোক্তা সাহস পাবেন। ভালো কোম্পানি বাজারে আসবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মধ্যে অর্থের প্রবাহও বাড়বে।
এখনো দেরি হয়ে যায়নি। সরকার চাইলে নীতিগত উদ্যোগ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং কার্যকর প্রণোদনার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে সেই উদ্যোগ হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি এবং ধারাবাহিক। এক দিনের সিদ্ধান্ত দিয়ে বহু বছরের আস্থার সংকট দূর করা সম্ভব নয়।
অর্থনীতির একটি চাকা শক্তিশালী আর অন্যটি দুর্বল রেখে অনেক দূর যাওয়া যায় না। ব্যাংককে শক্তিশালী করতে হবে, একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকেও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে হবে। কারণ একটি দেশের অর্থনীতি তখনই সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়, যখন তার অর্থায়নের পথগুলো বহুমুখী হয় এবং বিনিয়োগের জন্য মানুষের আস্থা থাকে।
পুঁজিবাজারকে তাই আর অবহেলার জায়গায় রাখা উচিত নয়। এখানে শুধু টাকা ঘোরে না, মানুষের স্বপ্নও ঘোরে। এখানে শুধু কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হয় না, উদ্যোক্তার ভবিষ্যৎও তৈরি হয়। একটি বিনিয়োগের সঙ্গে একটি পরিবারের আশা জড়িয়ে থাকে। একটি কোম্পানির সম্প্রসারণের সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান জড়িয়ে থাকে।
অর্থনীতিকে সত্যিকার অর্থে চাঙা করতে হলে সেই স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ব্যাংকের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের হাতও শক্ত করে ধরতে হবে। কারণ অর্থনীতির চাকা দুটোই নিয়ে ঘোরে। একটি দুর্বল থাকলে অন্যটির শক্তিও একসময় সীমিত হয়ে পড়ে।
এখনো সময় আছে। প্রশ্ন শুধু, আমরা সেই সময়টাকে কাজে লাগাতে পারব কি না।