img

নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু, কোন গাড়িতে কতটুকু?

প্রকাশিত :  ০৫:৪৯, ০৮ মার্চ ২০২৬

নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু, কোন গাড়িতে কতটুকু?

জ্বালানি সংকট এড়াতে আজ থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট যানের ধরন অনুযায়ী তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

আজ রোববার (৮ মার্চ) সকাল থেকে নতুন পদ্ধতি পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে।

বিপিসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির (কার) ক্ষেত্রে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লিটার। এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) বা জিপ এবং মাইক্রোবাসের জন্য দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পরিবহন খাতের জন্য ডিজেল সরবরাহেও রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। স্থানীয় রুটের বাস বা পিকআপ ভ্যান দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। অন্যদিকে, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনারবাহী ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল বরাদ্দ করা হয়েছে। 

সরকার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই নতুন পদ্ধতির বিষয়ে পাম্পগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

জ্বালানি তেলের এই নতুন বণ্টন ব্যবস্থা তদারকি করতে আজ থেকে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট নামানো হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কৃত্রিম সংকট বা পাম্পগুলোর অনিয়ম রোধেই এই কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ সারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় সরকার বারবার আশ্বস্ত করছে। তেলের রেশন নিয়ে পাম্পগুলো যাতে কোনো বৈষম্য না করে এবং নির্ধারিত পরিমাণের বেশি তেল বিক্রি করে মজুত দ্রুত শেষ না করে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

img

বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা

প্রকাশিত :  ০৭:৫১, ০১ মে ২০২৬

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ভারী বৃষ্টির ফলে পানি জমে গেছে। আজ শুক্রবার (০১ মে) ভোর ৫টার কিছু পর থেকে সকাল ৭টার আগ পর্যন্ত অঝোরে বৃষ্টি হয়। এতে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে কয়েক ফুট পর্যন্ত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে রাজধানীর- মালিবাগ, শান্তিনগর, রাজারবাগ, সায়াদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর ১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তায়, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায়, মোহাম্মদপুর, ইসিবি, কালশিসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলগলিতে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। 

অবশ্য ধীরে ধীরে পানি নেমে যাওয়ায় অনেক সড়কে জলাবদ্ধতার পরিমাণ কমে আসতে শুরু করেছে। তবে সকাল থেকেই বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহনগুলো ধীর গতিতে চলছে। পায়ে হেঁটে মানুষের যাতায়াতও কম দেখা গেছে।

ছুটির দিন হওয়ায় সকালে যানবাহন তুলনামূলক কম ছিল, তাই দুর্ভোগ কিছুটা সীমিত ছিল। তবে সকাল ৮টার পরও অনেক সড়কে পানি আটকে থাকতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মুখপাত্র রাসেল রহমান বলেন, বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট অস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে ভোর থেকে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা। আশা করছি খুব অল্প সময়ে সব সড়ক থেকে পানি নেমে যাবে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য দেশের ছয় বিভাগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। বিভাগগুলো হলো- ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট। এসব বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তায় বলা হয়।

গত রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে অন্তত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহ কমে আসে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৬° সেলসিয়াস, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

বৃহস্পতিবার সারা দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে, ৬০ মিলিমিটার। আগের দিন সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছিল পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১২১ মিলিমিটার।

বাংলাদেশ এর আরও খবর