img

৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর

প্রকাশিত :  ০৬:০৩, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:০৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬

৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের ১৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ রয়েছেন। গত পাঁচ দিন ধরে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, তিনি বর্তমানে University of South Florida-এ স্নাতকোত্তর (এমএসসি) পর্যায়ে অধ্যয়নরত।

সহপাঠী ও বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচ দিন আগে এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হন বৃষ্টি। এরপর থেকে তার ও সঙ্গে থাকা ওই সহপাঠীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।

এসিসিই বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানান, নিখোঁজের বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও স্টেট পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে। ফোন ট্র্যাকিংয়ে সর্বশেষ অবস্থান ক্যাম্পাসের ভেতরে শনাক্ত হলেও এরপর আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলকে জানানো হয়েছে। কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে Federal Bureau of Investigation (এফবিআই)-কে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিকটবর্তী হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পায়নি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ বৃষ্টির সঙ্গে তাদের কথা হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। সহপাঠীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর পরিবার পুলিশকে অবহিত করে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিবার আরও জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে।

এদিকে সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা বৃষ্টির নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। কেউ তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আকাশ স্মৃতি নামের এক সহপাঠী বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বন্ধুর নিরাপদ ফিরে আসার আশায় সবাই অপেক্ষা করছেন। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় সহপাঠীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে।

নোবিপ্রবির অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাতেহা নুর রুবেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং দ্রুত তাকে খুঁজে বের করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

দক্ষিণ আফ্রিকায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশিত :  ০৬:২২, ২২ এপ্রিল ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। নিহত আবু নাসের শামীম (বারা শামীম) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে জোহানেসবার্গের বারাকওয়ানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আবু নাসের শামীম (বারা শামীম)। তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে। বাড়িতে তার স্ত্রী ও চার ছেলে রয়েছে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয় প্রবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ফোর্ডসবার্গ থেকে বাজার করে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছান শামীম। এ সময় আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা এক ব্যক্তি তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আউয়াল তানসেন জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ফোর্ডসবার্গ থেকে বাজার করে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছান শামীম। এ সময় আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বড় ছেলে আবু রাফসান পিয়াস জানান, তার বাবা আবু নাসের শামীম ২০০৭ সালে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। চার বছর আগে দেশে এসে পুনরায় সেখানে ফিরে গিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তার ৪-৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। কিছু দিন আগে একটি বড় দোকান বিক্রি নিয়ে তার বাবার সঙ্গে এক ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরোধ সৃষ্টি হয়। সে সূত্রে বা অন্য কোনো কারনে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা নিশ্চিত নন। 

এসময় তিনি নিহতের মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। 

কমিউনিটি এর আরও খবর