img

বাংলাদেশিসহ ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বড় সুখবর দিল স্পেন

প্রকাশিত :  ০৯:৫৫, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশিসহ ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বড় সুখবর দিল স্পেন

স্পেন সরকার দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতার আওতায় আনার লক্ষ্যে ‘সাধারণ ক্ষমা’ (অ্যামনেস্টি) কর্মসূচি অনুমোদন করেছে । মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। খবর আল-জাজিরা। 

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে এবং ২০ এপ্রিল থেকে সরাসরি আবেদন করা যাবে। আবেদন গ্রহণ চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। 

এই কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারীরা এক বছরের জন্য আবাসন ও কাজের অনুমতি পাবেন, যা পরে নবায়নের সুযোগ থাকবে। আবেদনকারীদের অবশ্যই চলতি বছরের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে, অন্তত পাঁচ মাস বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে এবং কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না। 

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫ লাখ মানুষ এই সুবিধা পেতে পারেন, যদিও বিশ্লেষকদের মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। 

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই উদ্যোগকে ‘ন্যায়বিচার এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অভিবাসীদের অবদান স্পেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল এটিকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছে, আর সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশ সতর্ক করেছে যে এত বিপুল সংখ্যক আবেদন সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুতি প্রশাসনের নেই।

ইউরোপের অনেক দেশে যখন অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে, তখন স্পেনের এই পদক্ষেপকে ভিন্নধর্মী নীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

স্পেন সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীরা। গতকাল মঙ্গলবার আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক ভিডিও ক্লিপে বার্সেলোনায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের উল্লাস করতে দেখা যায়। বৈধ হওয়ার সুযোগ তৈরি করায় তারা প্রধানমন্ত্রী সানচেজকে ধন্যবাদ জানান।

মুরুল ওয়াইদ নামের বাংলাদেশি একজন অভিবাসী আল-জাজিরাকে বলেন, এখানে কাজ নেই, থাকার ঘর নেই। এখানে জীবনযাপন খুবই কঠিন। তাই এখন বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর খবরে সবাই খুবই খুশি।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

সাংস্কৃতিক বিনিয়োগে গোল্ডেন ভিসা দিচ্ছে পর্তুগাল

প্রকাশিত :  ০৮:১৫, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মো : ফেরদৌস আহমাদ: আবাসন খাতে গোল্ডেন ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে সাংস্কৃতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ভিসা দিচ্ছে পর্তুগাল সরকার। এক্ষেত্রে বেশকিছু বাংলাদেশিও সাংস্কৃতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে গোল্ডেন ভিসার সুবিধা নিয়েছেন।

সাংস্কৃতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে গোল্ডেন ভিসার সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছেন মার্কিন নাগরিকরা। তারা মোট ১২০টি অনুদান দিয়েছেন। ৭০টি অনুদান দিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চীনারা।

এরপরই ৩০টি ভিসা নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ভারতীয়রা। এ তালিকায় ব্রিটিশ, পাকিস্তানি, তুর্কি ও ইরাকি নাগরিকদের পাশাপাশি শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে রয়েছে বাংলাদেশ, ইরান ও জর্ডান।

এছাড়া ৩৬টি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দাতার জাতীয়তা উল্লেখ করা হয়নি।

২০২৫ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গোল্ডেন ভিসা পাওয়ার লক্ষ্যে দেশটির সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে বিদেশি কোটিপতিদের অনুদানের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে।

২০২৪ সালে এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল মাত্র ১১ মিলিয়ন ইউরো। অনুদানের এই উল্লম্ফনের ফলে চলতি বছর এ প্রক্রিয়ায় বসবাসের অনুমতি পাওয়ার হারও প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, এই বিশাল বিনিয়োগের বিপরীতে ২০২৫ সালে ২১১টি বসবাসের অনুমতিপত্র বা রেসিডেন্স পারমিট জারি করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল মাত্র ৫০টি। বর্তমানে পর্তুগিজ আইন অনুযায়ী কোনো বিদেশি নাগরিক দেশটির শিল্পকলা বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রক্ষণাবেক্ষণে ন্যূনতম ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো দান করলে এই গোল্ডেন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

সাংস্কৃতিক অনুদান ছাড়াও অন্তত ১০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি অথবা ৫ লাখ ইউরো বা তার বেশি মূলধন স্থানান্তরের মাধ্যমেও পর্তুগালে গোল্ডেন ভিসার মাধ্যমে বসবাসের সুযোগ পাওয়া সম্ভব।


কমিউনিটি এর আরও খবর