অটোম বা বসন্তের ছুটিতে পুরো পরিবার নিয়ে সুস্থ বিনোদনের জন্য দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে বাইকওয়ার্কস।
টাওয়ার হ্যামলেটস বারায় বসবাসকারী, কর্মরত বা পড়াশোনা করা পরিবারগুলোর জন্য ভিক্টোরিয়া পার্কে আয়োজন করা হয়েছে বিনামূল্যের পারিবারিক সাইকেল প্রশিক্ষণের। যারা সাইকেল চালাতে একটু ভয় পান বা নিজের ও পরিবারের সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে চান, তাদের জন্যই এই বিশেষ উদ্যোগ। এই সুযোগ নেওয়ার জন্য কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বারার বাসিন্দাদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকেরা পার্কের নিরাপদ পরিবেশে শুরু থেকে শেখাবেন কীভাবে আনন্দের সাথে পুরো পরিবার একসঙ্গে সাইকেল চালানো যায়। আগ্রহী ব্যক্তিদের আগে থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে, আর যারা টাওয়ার হ্যামলেটসে থাকেন, কাজ করেন বা পড়েন, তারাই শুধু এই সুবিধা পাবেন।
প্রতিটি সেশনের মেয়াদ দুই ঘণ্টা, এবং একটি পরিবারে সর্বোচ্চ ৬ জন অংশ নিতে পারেন তবে অবশ্যই বাবা-মা বা অভিভাবক উপস্থিত থাকতে হবে।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা এবং দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ২টা ৩০ মিনিট - এই দুইটি সময়-স্লটে প্রশিক্ষণ চলবে।
আপনার নিজের বাইক না থাকলেও চিন্তার কিছু নেই, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে বাইক ও হেলমেট দেওয়া হবে। তবে একটি শর্ত আছে, প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হলেও বুকিং নিশ্চিত করতে ৫ পাউন্ড জামানত দিতে হবে, যা প্রশিক্ষণ শেষে ফেরত দেওয়া হবে।
শুধু সাধারণ প্রশিক্ষণই নয়, বাইকওয়ার্কসের \"অল এবিলিটি সাইক্লিং ক্লাব\" সবার জন্য দরজা খোলা রেখেছে, যা মূলত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা যারা শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে তাদের জন্য। এখানে হুইলচেয়ার প্ল্যাটফর্ম বাইক, ট্রাইসাইকেল, এমনকি পাশাপাশি বসে চালানোর বাইকও রয়েছে।
এই ক্লাবে অংশ নিতে কোনো বুকিংয়ের প্রয়োজন নেই; প্রতি বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ১টা পর্যন্ত এবং প্রতি বিকল্প শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৬ বছরের নিচে ও দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত সবার জন্য এই সেশন চলে।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সাইকেল চালনা শুধু শরীর ভালো রাখে না, এটি পরিবেশ দূষণ কমাতেও সাহায্য করে। বর্তমান দূষিত বাতাস ও যানজটের যুগে সাইকেল একটি চমৎকার সমাধান, আর এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা চায় মানুষজন নিরাপদে ও আত্মবিশ্বাসের সাথে সাইকেল চালাতে শিখুক। যেকোনো প্রশ্ন বা বুকিংয়ের জন্য ইমেইল করতে পারেন [email protected] ঠিকানায় অথবা ফোন করতে পারেন ০২০ ৮৯৮০ ৭৯৯৮ নম্বরে। ভিক্টোরিয়া পার্কের পূর্ব পাশে পার্নেল রোড দিয়ে ঢুকে বাইকওয়ার্কসের হাবে গেলেই মিলবে এই সুযোগ।
উৎসবের উচ্ছ্বাস আর গভীর আবেগে ঢাকা ইউনিভার্সিটি আ্যলামনাই ইন দ্য ইউকের বর্ষবরণ
প্রকাশিত :
১৮:৩২, ১৩ মে ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৯:০৯, ১৩ মে ২০২৬
লন্ডন: ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে (DUAUK) অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বর্ষবরণ ১৪৩৩ – বৈশাখী মেলা ও ভর্তা উৎসব’ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে। বর্ণিল আয়োজনে বাঙালির ঐতিহ্য ধারণ করে নাচ, গান, আবৃত্তি, ফ্যাশন শো, আনন্দ উল্লাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। গত ৯ই মে শনিবার পূর্ব লন্ডনের ‘লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে’ বর্ষবরনের আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী, পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা ও অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান। সিনিয়র সহ-সভাপতি ও অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী মেসবাহ উদ্দিন ইকো সংক্ষিপ্ত ব্ক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফরসহ একটি নিবেদিতপ্রাণ টিম। চমৎকারভাবে সাস্কৃতিক পর্ব সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক এরিনা সিদ্দিকী সুপ্রভা।
সাধারণ সম্পাদক এম কিউ হাসান তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় জীবনের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ব্যবসায়িক হালখাতা, বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ, আর লোকজ গান-বাজনার মধ্য দিয়ে এই দিনটি হয়ে ওঠে এক আনন্দঘন উৎসব। পহেলা বৈশাখ আমাদেরকে শেকড়ের সাথে যুক্ত করে, আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বাঙালির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা। এই উৎসব তাই শুধু উদযাপন নয়, এটি আমাদের পরিচয়ের এক গর্বিত প্রকাশ।
বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কালজয়ী গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গান সমবেতভাবে পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির নানা পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। যা বাংলা নববর্ষের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সদস্যদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান মুগ্ধ হয়ে সকলে উপভোগ করেছেন। মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে উপস্থিত সকলে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানে গান, নাচ, সমবেত ছড়া, প্রেম-বিরহ-রোমান্টিক কবিতা পরিবেশন,ফ্যাশনশো, ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্য, অতিথি আপ্যায়ন এবং খাবার পরিবেশনে যারা অংশগ্রহন করেছেন এবং যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে, প্রশংসীয় উদ্যোগে একটি সফল অনুষ্ঠান হয়েছে তাঁরা হলেন:
গানের সাথে একক নৃত্য পরিবেশন করে শিশু শিল্পী শ্রেয়সী রাজভি ইসলাম।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় আরও সংগীত পরিবেশন করে Ocopot Bangla Band UK।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য ও তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনা ঘরে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়। মুড়ি, চানাচুর, চটপটি, পিঠা, পুলি, পায়েস, শুঁটকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, সরিষা ইলিশ, বিরিয়ানী, সাদা ভাত, খিচুড়ি, ডাল কোন খাবারের কমতি ছিলনা। ঘরে তৈরি সুস্বাদু খাবার সকলে তৃপ্তি সহকারে ভোজন করেছেন।
বিশেষ সম্মাননা পর্ব - ‘মাস্টার শেফ’ খেতাব:
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “মাস্টার শেফ” সম্মাননা প্রদান। ঘরে তৈরি খাবার প্রস্তুতকারী ৩৩ জন সদস্য এবং পরিবারকে সংগঠনের লোগো সংবলিত পদক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। এই পর্বটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান এবং সমন্বয় করেন মেসবাহ উদ্দিন ইকো। উপস্থিত সবাই পর্বটি অত্যন্ত উপভোগ করেন।
উপদেষ্টা সম্মাননা:
উপদেষ্টাদের সংগঠনের জন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন হাবিব রহমান (অনুপস্থিত), এস বি ফারুক, মুহাম্মাদ আব্দুব রাকীব, আবু মুসা হাসান, নাজির উদ্দিন চৌধুরী বাবর এবং সোহুল আহমেদ মকু।
নতুন সদস্যদের স্বাগত:
মঞ্চে স্বাগত জানানো হয় নতুন নিবন্ধিত সদস্যদের। তাঁরা হলেন:
রফিকুল ইসলাম (কম্পিউটার সায়েন্স), বিভা মোশাররফ (আইন), খালেদা জামান পূর্ণি (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), চৌধুরী রেজওয়ানা বাশার (মৃত্তিকা বিজ্ঞান) এবং ড. অধ্যাপক মশফিক উদ্দিন (ফাইন্যান্স), লিডস ইউনিভার্সিটি।
স্পন্সর সম্মাননা:
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ‘বৈশাখী’ নামে একটি স্মরনীকা প্রকাশ করা হয়। বর্ষবরণ ১৪৩৩ উপলক্ষে প্রকাশিত বর্ণিল স্মরণিকাটি স্পন্সরদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। বিশেষভাবে মাহফুজা রহমান স্মরণিকাটির মোড়ক উন্মোচন করেন এবং অন্যান্য স্পন্সরবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন। স্মরণিকা প্রকাশনার স্পন্সরদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন: মাহফুজা রহমান, Advocacy for Green — সৈয়দ ইকবাল ও সৈয়দা তামান্না, LURIS VINCE Solicitors — নজির উদ্দিন চৌধুরী, Liberty Law Solicitors — সোহুল আহমেদ মকু এবং MQ Hassan Solicitors — এম কিউ হাসান।
সংগঠনের সাবেক নেতৃবৃন্দকে অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হয়। সাবেক সভাপতিদের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন ব্যারিস্টার আনিসুর রহমান (অনুপস্থিত), দেওয়ান গৌস সুলতান, মারুফ চৌধুরী এবং প্রশান্ত পুরকায়স্থ BEM (অনুপস্থিত)। সাবেক সাধারণ সম্পাদকদেরও স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন: মারুফ চৌধুরী, মুহাম্মাদ আব্দুর রাকীব, ইসমাইল হোসেন এবং মেসবাহ উদ্দিন ইকো।
সাবেক কোষাধ্যক্ষদের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন এম এ কালাম এবং সৈয়দ হামিদুল হক। এছাড়াও “Slum in Mega City” শীর্ষক গবেষণার মাধ্যমে পিএইচডি সম্পন্ন করায় সংগঠনের সদস্য ড. মুসফিকা আশরাফ-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে কমিউনির অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরীর পক্ষে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজবাহ উদ্দিন ইকো ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সকল সদস্য, পরিবার, অতিথি, শিল্পী, স্বেচ্ছাসেবক, স্পন্সর ও সংগঠকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তির জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। নববর্ষের কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে কারোই বাড়ি ফেরার তাড়া ছিলনা। নববর্ষ উদযাপনের এতো চমৎকার অনুষ্ঠানের রেশ দীর্ঘদিন মনে থাকবে।