ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ । তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবন ও ক্যারিয়ারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব বলেন।
জিএস লিখেছেন, আমরা বেঁচে থাকতে এই ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের রাজনীতিকে ফিরতে দেবো না। খোদার কসম!
তিনি আরও লিখেছেন, আর কোনো শিক্ষার্থীকে গণরুম-গেস্টরুমের ভিক্টিম হইতে দেবো না। প্রতিটি শিক্ষার্থী ভাই-বোনের জীবন ও ক্যারিয়ারের সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আমাদের জীবন যাবে; তবু এই লড়াই কখনোই থামবে না, ইনশাআল্লাহ।
পোস্টে ছাত্রদলের উদ্দেশেও বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, হল দখলের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে এবং সেটিকে ‘দুঃস্বপ্নে’ পরিণত করা হবে।
রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ঢুকে এক শিক্ষিকাকে জুতাপেটা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলী ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এ সময় কলেজে ভাঙচুর ও অন্য শিক্ষককেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় অন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ ও নারী শিক্ষকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের ১০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, দুপুরের দিকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। বিশেষ করে আগের অধ্যক্ষের সময়ে কলেজের আয়-ব্যায়ের হিসাব চান তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করেন। এর কিছুক্ষণ পর বিএনপির নেতাকর্মীরা গিয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালান। এ সময় অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুরও করা হয়।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুই কর্মচারী। তাদের কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা হিসাব চাইতেন, মূলত চাঁদাই দাবি ছিল তাদের। অধ্যক্ষের পাশে থেকে প্রতিবাদ করায় আমিও হামলার শিকার হয়েছি।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আকবর আলীর দাবি, কলেজের আগের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির হিসাব চাইতে গেলে উলটো তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা প্রথমে আমাদের ওপর হামলা করেছেন।
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের অভিযোগ করে জানান, চার মাস আগে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।
দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল এবং উভয়পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।