সুজনের বিশ্লেষণ

img

সংরক্ষিত নারী এমপিদের ১০ জন ঋণগ্রহীতা, বিএনপির ৯

প্রকাশিত :  ১০:০৮, ০৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৯, ০৭ মে ২০২৬

সংরক্ষিত নারী এমপিদের ১০ জন ঋণগ্রহীতা, বিএনপির ৯

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সদস্যের মধ্যে ১০ জনের নামে ঋণ ও দায়-দেনা রয়েছে, যা মোট নির্বাচিতদের ২০ শতাংশ। এদের মধ্যে ৪ জনের ঋণ ও দায়-দেনার পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া শীর্ষ ১০ ঋণগ্রহীতার সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সুজনের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

সুজনের বিশ্লেষণে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের মধ্যে মোট ঋণগ্রহীতা ছিলেন ১৩ জন (২৬ শতাংশ)। অর্থাৎ দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচিতদের মধ্যে ঋণগ্রহীতার হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, শীর্ষ দশজন ঋণগ্রহীতা হচ্ছেন- বিএনপির সেলিমা রহমান, হেলেন জেরিন খান, শিরিন সুলতানা, নিপুণ রায় চৌধুরী, মারদিয়া মমতাজ, সাকিলা ফারজানা, সুলতানা আহমেদ, সানজিদা ইসলাম ও ফাহমিদা হক এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবিকুন্নাহার।

শীর্ষ ১০ জন উপার্জনকারী ও কোটিপতি ৪ জন 

সুজন জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনে বিজয়ীদের ১০ জন শীর্ষ উপার্জনকারীর সবাই বিএনপির। তারা হচ্ছেন- শামীম আরা বেগম স্বপ্না, জহরত আদিব চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা, আন্না মিনজ, সুলতানা আহমেদ, সানজিদা ইসলাম, নিপুণ রায় চৌধুরী, বীথিকা বিনতে হোসাইন, হেলেন জেরিন খান ও সেলিমা রহমান। তাদের মধ্যে কোটি টাকার অধিক আয়কারী অর্থাৎ কোটিপতি চারজন হচ্ছেন-  বিএনপি থেকে নবনির্বাচিত এমপি শামীম আরা বেগম স্বপ্না (৪ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৫০৬ টাকা), জহরত আদিব চৌধুরী (৩ কোটি ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৩৯৩ টাকা), সাকিলা ফারজানা (৩ কোটি ৭১ হাজার ১২৩ টাকা) এবং আন্না মিনজ (১ কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ২৪৬ টাকা)।

আবার সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে (নির্ভরশীলসহ) বাৎসরিক ৫ লাখ টাকা বা তার চেয়ে কম আয় করেন মাত্র ১৬ জন (২৬ শতাংশ)। আয়ের ঘর পূরণ না করা ৭ জনসহ এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ জন (৪০%)। বছরে ৫ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় করেন ১৯ জন (৩৮%), ২৫ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ৫ জন (১০%), ৫০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা আয় করে ২ জন (৪৭%) এবং ১ কোটি টাকার অধিক আয় করেন ৪ জন (৮%)।

এছাড়া ৫ লাখ টাকা বা তার চেয়ে কম আয়কারী ২০ জনের (আয়ের ঘর পূরণ না করা ৭ জনসহ) মধ্যে ১১ জনই (৫৫%) জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত।

এতে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিতদের মধ্যে স্বল্প আয়কারীর (৫ লাখ টাকার কম) হার ছিল ২৪% (১২ জন) এবং কোটি টাকার অধিক আয়কারীর হার ছিল ৪% (২ জন)। ত্রয়োদশ সংসদে তা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪০% (২০ জন) ও ৮% (৪ জন)।

বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্বল্প আয়কারীর হার যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, অধিক আয়কারীর হারও তেমনই বৃদ্ধি পেয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশা

সুজন জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৭৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)। তাদের মধ্যে ৩০ জন স্নাতকোত্তর, ১৪ জন স্নাতক, দুজন এইচএসসি পাস, একজন এসএসসি ও দুজন স্বশিক্ষিত। এছাড়া ১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য প্রদান করেননি।

এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৫ জন পেশায় আইনজীবী। ১০ জনের পেশা ব্যবসা, চারজনের শিক্ষকতা। এছাড়াও ১ জন চাকরিজীবী ও ৫ জন গৃহিণী। ৬ জনের পেশা রাজনীতি। এছাড়াও ৮ জন বিভিন্ন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ৩ জন পেশার ঘর পূরণ করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন সুজনের ঢাকা মহানগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী এবং সদস্য সজল ঘোষ।


img

বগুড়ায় হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, সাড়ে ১০ হাজার ফুটের রানওয়ে

প্রকাশিত :  ১৪:১৬, ০৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:২৪, ০৭ মে ২০২৬

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণ এবং সাড়ে ১০ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়ে তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বগুড়া বিমানবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। 

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের পাশাপাশি ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারে। একই সঙ্গে কার্গো ফ্যাসিলিটি স্থাপন করা হবে, যা উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা বগুড়া পরিদর্শনে এসেছি। উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে। বগুড়াবাসী সত্যিই ভাগ্যবান। মন্ত্রণালয়ের এই বৃহৎ পরিকল্পনার যাত্রা বগুড়া দিয়েই শুরু হচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও এভিয়েশন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে বগুড়া বিমানবন্দরকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে পাইলট ট্রেনিং একাডেমি ও কার্গো ফ্যাসিলিটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আজকের এই পরিদর্শন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জাতীয় এর আরও খবর