img

ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৭ দিন ছুটি

প্রকাশিত :  ১৯:২১, ০৭ মে ২০২৬

ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৭ দিন ছুটি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা ৭ দিনের ছুটির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে ঈদের আগে দুই দিন, অর্থাৎ ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা থাকবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ছুটির অনুমোদন দেওয়া হয়। রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ২৩ ও ২৪ মে (শনি ও রোববার) যথারীতি অফিস খোলা থাকবে।

বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে। এটির উদ্যোক্তা স্থানীয় সরকার বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’-এর প্রধান উদ্দেশ্য পাবলিক টয়লেট ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; সারাদেশে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত পাবলিক টয়লেট সুবিধার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে জনস্বাস্থ্য এবং সার্বিক পরিচ্ছন্নতার মান উন্নত করা; নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক, ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবহারবান্ধব টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করা; পাবলিক টয়লেট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও স্থায়িত্বের জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা মডেল এবং অর্থায়ন নিশ্চিত করা; নীতিমালার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এটিকে যুগোপযোগী করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার-বিধি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। ভৌত অবকাঠামো সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সকল টয়লেটের বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য সেফটি ট্যাংক নির্মাণ আবশ্যক, কোনোভাবেই টয়লেটের বর্জ্যসমূহ যাতে নদী, খাল-বিলসহ অন্যান্য জলাশয়ে পতিত হয়ে পানি দূষণ ঘটাতে না পারে।

টয়লেট ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সমন্বিতভাবে সড়ক ও মহাসড়কের উপযুক্ত স্থানে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক পাবলিক টয়লেট স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করবে। নীতিমালাটি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়/বিভাগভিত্তিক সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া নীতিমালা মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন করা হয়েছে।

img

অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি নিত্যপণ্যের দামে, নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা অস্বস্তিতে

প্রকাশিত :  ০৮:০০, ০৮ মে ২০২৬

নিত্যপণ্যের দাম রাজধানীর বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী । বেশিরভাগ সবজিই এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার ওপরে। এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে মুরগির ডিমের দাম। কোনো কারণ ছাড়াই প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ফলে বিপাকে পড়েছেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। 

আজ শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

আজকের বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১২০ টাকা, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ১০০ টাকা, দেশি শসা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, হাইব্রিড শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ধুন্দল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর খিলক্ষেতে বাজার করতে আসা জগন্নাথ বলেন, বাজারে এসে দেখছি সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। এত বেশি দামে সাধারণ মানুষের সবজি কিনে খাওয়া অনেকটাই কঠিন। আজকে বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। কিছুদিন আগেও পেঁপের দাম কম থাকলেও এখন এটা বাড়তি দামের সবজি। আজ প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে। শসা, করলা, বেগুন, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এত দাম যদি হয় তাহলে আমরা সবজি কিনব কীভাবে?

সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, বাজারে সরবরাহ কম। গ্রামাঞ্চল থেকে ঠিকমতো সবজি আসছে না। আবার পরিবহণ খরচও বেড়েছে। তাই দামের চাপটা আমাদের ওপরও আসে। আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না, বাজারের অবস্থাই এমন।

সবজির পাশাপাশি অস্থির রাজধানীর ডিমের বাজারও। সপ্তাহ ব্যবধানে ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায় এবং সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সংকটের কারণেই দাম বেড়েছে। 

ডিম বিক্রেতা রাশেদ বলেন, বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে। সেই কারণে পাইকারিতেই দাম বাড়তি রয়েছে। আমরা বাধ্য হয়েই খুচরায় বেশি দামে বিক্রি করছি। 

মুরগির বাজারে অবশ্য সোনালি মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে অন্যান্য জাতের মুরগি। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, দেশি মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ৭৮০ টাকায়, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকায় এবং লেয়ার মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে গরু ও খাসির মাংসের বাজারে স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় এবং খাসির মাংস এক হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে নিত্যপণ্যের অন্যান্য বাজারেও দেখা দিয়েছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। খোলা আটা ও ময়দার দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫৫ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কেজিতে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এলাচের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ৪০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা।