img

শতাব্দীর প্রবীণতম বিশ্বকাপ দল পাচ্ছে ব্রাজিল!

প্রকাশিত :  ০৮:৫৩, ১৮ মে ২০২৬

শতাব্দীর প্রবীণতম বিশ্বকাপ দল পাচ্ছে ব্রাজিল!

নতুন মুখের ঝলক নয়, বরং অভিজ্ঞতার কাঁধে ভর করেই ২০২৬ বিশ্বকাপের পথে হাঁটতে যাচ্ছে ব্রাজিল। বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। একমাত্র দল হিসেবে বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই অংশগ্রহণের নজির রয়েছে সেলেসাওদের। বিশ্বকাপ শিরোপাও তারা জিতেছে সবচেয়ে বেশি, পাঁচবার। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে। তবে সর্বশেষ শিরোপা জয়ের পর কেটে গেছে দীর্ঘ দুই যুগ। হেক্সা মিশন আর সফল করতে পারেনি শৈল্পিক ফুটবলের দেশটি। এবার কী পারবে সেই আক্ষেপ ঘুচাতে? এর উত্তর বলতে পারে কেবলই সময়।

সেই উত্তর মেলাতেই আজ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কার্লো আনচেলত্তি। যেখানে নতুন মুখের ঝলক নয়, বরং অভিজ্ঞতার কাঁধে ভর করেই ২০২৬ বিশ্বকাপের পথে হাঁটতে যাচ্ছে ব্রাজিল। কোচ কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত সম্ভাব্য দল নিয়ে যখন ভক্তদের আগ্রহ ঘুরপাক খাচ্ছে; কে থাকবেন, কে বাদ পড়বেন, নেইমার ফিরবেন কি না, তখন একটি বিষয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠেছে: এ শতাব্দীতে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ-অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নিয়ে উত্তর আমেরিকায় নামতে যাচ্ছে সেলেসাওরা।

আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় রিও ডি জেনেইরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ২৬ সদস্যের তালিকা ঘোষণা করার কথা।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ব্রাজিলে প্রায়শই ‘পুনর্গঠন’ শব্দটি জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়। ২০২২ সালের হতাশার পরও অনেকে নতুন দল গঠনের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। গত সোমবার ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) যে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকা ফিফার কাছে পাঠিয়েছে, সেখানে ২০ জন খেলোয়াড় আছেন যারা অন্তত একটি বিশ্বকাপ খেলেছেন, আর তারা সবাই ছিলেন কাতার বিশ্বকাপে।

অর্থাৎ, আনচেলত্তির ঘোষিত দলে মাত্র ছয়জন খেলোয়াড়ই নতুন সংযোজন হতে পারেন, যারা ২০২২ সালে জাতীয় দলের ভাবনায় ছিলেন না।

এই ছয়জনের মধ্যে কেবল একজন, দানি আলভেস, ইতোমধ্যে অবসর নিয়েছেন। ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়া রদ্রিগো ও এদের মিলিতাওকে নিশ্চিতভাবেই দলে থাকার মতো খেলোয়াড় হিসেবে ধরা হচ্ছিল। হাতে গোনা তিনজন -আলেক্স তেলেস, ফ্রেদ ও এভেরতন রিবেইরো এখনো খেলছেন, কিন্তু কোচিং স্টাফের পরিকল্পনায় নেই।

এতে স্পষ্ট হয়, কাতার বিশ্বকাপে বিদায়ের পরও সেই দলের বড় অংশ এখনো শীর্ষ পর্যায়ে নিজেদের ধরে রেখেছেন। বিশ্বকাপ-অভিজ্ঞ ২০ খেলোয়াড়ের মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে এবার প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে। যেমন, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহা, কাসেমিরো ও মার্কিনিওস। এছাড়া ভালো সম্ভাবনায় আছেন আলেক্স সান্দ্রো, ব্রেমের, ফাবিনিয়ো ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।

অন্যদিকে, এখনো আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন নেইমার ও পেদ্রো। যদিও আনচেলত্তি এখন পর্যন্ত কাউকেই ডাকেননি, তবু সপ্তাহান্তের ম্যাচগুলোকে ধরা হচ্ছে ইতালিয়ান কোচকে প্রভাবিত করার শেষ সুযোগ হিসেবে।

সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ-অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দেখা যেতে পারে আক্রমণভাগে, সংখ্যাটা পাঁচ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে অনুপাতে সবচেয়ে অভিজ্ঞ হতে পারে মিডফিল্ড, যেখানে পাঁচ বা ছয়জনের মধ্যে চারজনই হতে পারেন বিশ্বকাপ-ফেরত।

মজার বিষয়, ইতিহাস গড়তে আনচেলত্তিকে ১৫ জন ‘প্রবীণ’ খেলোয়াড়ও নিতে হবে না। এ শতাব্দীতে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ-অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিল ১০ জন, ২০০৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে। ২০০৬ সালে ২৩ সদস্যের দলে এবং ২০২২ সালে ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে ছিল সেই সংখ্যা।

উল্টো দিকে, এবার বিশ্বকাপ-অভিষিক্ত খেলোয়াড়ের সংখ্যাও হতে পারে এ শতাব্দীর সর্বনিম্ন। বর্তমানে সেই রেকর্ড ২০০৬ সালের, যখন ‘রুকি’ ছিল মাত্র ১৩ জন।

এ শতাব্দীতে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নতুন ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের অনুপাত:

• ২০২২: ১৬ নতুন, ১০ অভিজ্ঞ

• ২০১৮: ১৭ নতুন, ৬ অভিজ্ঞ

• ২০১৪: ১৭ নতুন, ৬ অভিজ্ঞ

• ২০১০: ১৪ নতুন, ৯ অভিজ্ঞ

• ২০০৬: ১৩ নতুন, ১০ অভিজ্ঞ

• ২০০২: ১৮ নতুন, ৫ অভিজ্ঞ

কৌতূহলের বিষয়, শেষ বিশ্বকাপেও ব্রাজিল ছিল বয়সে তুলনামূলক বেশি পরিণত দলগুলোর একটি। কাতারে তাদের গড় বয়স ছিল ২৭.৮৮ বছর, ৩২ দলের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ। কেবল ইরান, মেক্সিকো ও তিউনিসিয়া ছিল তাদের ওপরে।

তবে বয়স বা অভিজ্ঞতা সবসময় নেতিবাচক কিছু নয়। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাসই তা বলে। আর্জেন্টিনা ২০২২ সালে মাত্র সাতজন অভিষিক্ত খেলোয়াড় নিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল। আবার ফ্রান্স ২০১৮ সালে শিরোপা জেতে মাত্র ছয়জন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নিয়ে। আর ২০১৪ সালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা জেতা জার্মানির স্কোয়াডে ছিল ১১ জন বিশ্বকাপ-অভিজ্ঞ ফুটবলার।


খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

আক্ষেপ ঘুচিয়ে শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে আর্সেনাল

প্রকাশিত :  ০৯:১৭, ১৯ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:২২, ১৯ মে ২০২৬

আর্সেনাল আর মাত্র একটি জয় দূরে। তাহলে হিসাব–নিকাশ ছাড়াই প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতবে গ্রানাররা। সোমবার (১৮ মে) দিবাগত রাতে বার্নলিকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপার লাগাম ধরে রেখেছেন মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। 

আজ রাতেও চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেতে পারে আর্সেনাল। আজ বাংলাদেশ সময় বোর্নমাউথের মাঠে তাদের বিপক্ষেই মাঠে ম্যানচেস্টার সিটি। এই ম্যাচে সিটি পয়েন্ট হারালেই শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আর অপেক্ষা করতে হবে না গানারদের। মাঠে না নেমেই শিরোপা–উৎসবে মাততে পারবে আর্সেনাল।

সোমবার (১৮ মে) এমিরেটস স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার নয় মিনিট আগে কাই হাভার্টজ কর্নার থেকে হেডের সাহায্যে আর্সেনালকে এগিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত এই গোলেই কল্যাণেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল। 

এই জয়ে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট এখন ৩৭ ম্যাচে ৮২। এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৭৭। এ পরিস্থিতিতে বোর্নমাউথের বিপক্ষে সিটি যদি ড্র করে, তবে তাদের পক্ষে আর আর্সেনালকে ধরা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে শেষ ম্যাচ জিতলেও ৩৮ ম্যাচে সিটির পয়েন্ট হবে ৮১, যা আর্সেনালের বর্তমান সংগ্রহ থেকে ১ পয়েন্ট কম। তবে সিটি জিতলে শিরোপা–লড়াই গড়াবে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত।

বার্নলির বিপক্ষে জয়ের পর আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বলেন, ‘আর মাত্র এক ধাপ। আমরা আমাদের কাজটা করেছি, যেটা আমাদের হাতে ছিল। এখন অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল কী হয়, সেটা দেখার জন্য। এরপর আমাদের মনোযোগ থাকবে প্যালেস ম্যাচের প্রস্তুতিতে।’