img

ভারতের নাগরিকত্ব পেতে বাংলাদেশসহ ৩ দেশের জন্য নতুন নিয়ম

প্রকাশিত :  ০৯:৪২, ১৯ মে ২০২৬

ভারতের নাগরিকত্ব পেতে বাংলাদেশসহ ৩ দেশের জন্য নতুন নিয়ম

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাগরিকদের জন্য ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারতের নাগরিকত্বের আবেদন করতে হলে এসব দেশের নাগরিকদের তাদের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং একটি বিশেষ ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে।

২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধি সংশোধন করে সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারতের নাগরিক হতে ইচ্ছুক কোনো বাংলাদেশি, পাকিস্তানি বা আফগান নাগরিকের কাছে নিজের দেশের কোনো বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট থাকা চলবে না। আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন যদি কারও কাছে বৈধ পাসপোর্ট থাকে, তবে আবেদনপত্রে তার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্টের নম্বর, পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ, পাসপোর্টের মেয়াদের সময়সীমা

গুরুত্বপূর্ণ শর্ত: নাগরিকত্ব পাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে তার কাছে থাকা বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টটি ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সুপার বা সুপারের কাছে জমা দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করতে হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধিমালার ১সি তফসিলের পর একটি নতুন অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ১সি তফসিলটি মূলত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য প্রযোজ্য।

এর আগে, ২০১৯ সালে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) পাস করে ভারত সরকার। সেই আইন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে নথিপত্র ছাড়া ভারতে চলে আসা অমুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছিল। এবার সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গেই যুক্ত হলো পাসপোর্টের এই নতুন নিয়ম।

সূত্র: আনন্দবাজার


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল এখন আরও কাছাকাছি

প্রকাশিত :  ০৬:৫৬, ২০ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আরও কাছাকাছি এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল। চলমান ইরান যুদ্ধের উত্তাপ আপাতদৃষ্টিতে ধ্বংসযজ্ঞের আভাস দিলেও, সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে এমন দুই দেশ হাত মিলিয়েছে, যা কিছুদিন আগেও হয়তো ভাবা যেত না। 

সবাইকে চমকে দিয়ে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যৌথভাবে আধুনিক প্রযুক্তি কিনতে তারা গড়ে তুলেছে এক বিশেষ প্রতিরক্ষা তহবিল।

ঘটনার সূত্রপাত গত ফেব্রুয়ারিতে, যখন ইরানের প্রায় ৩ হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছিল আমিরাতের বুকে। তখন অপ্রত্যাশিত ত্রাতা হয়ে আসে ইসরায়েল। তারা গোপনে পাঠায় তাদের ‘আয়রন ডোম’ ও সেনা। সেই ভরসার সূত্র ধরেই যুদ্ধ চলাকালে নেতানিয়াহুর এক অঘোষিত সফরে চূড়ান্ত হয় এই গোপন অস্ত্রচুক্তি।

নেপথ্যের কারণটি বেশ পরিষ্কার। মূলত ইসরাইলের কাছে রয়েছে বিশ্বসেরা সামরিক প্রযুক্তি, কিন্তু অর্থনৈতিক টানাপোড়েন আর মার্কিন সহায়তার অনিশ্চয়তা তাদের বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, আমিরাতের কাছে রয়েছে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম তহবিল, কিন্তু অভাব ছিল উন্নত প্রযুক্তির। ফলে এই চুক্তি দুই দেশের জন্যই এক মোক্ষম সুযোগ।

বিশেষ করে ড্রোন-বিধ্বংসী ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে এই তহবিল থেকে বিপুল অর্থ খরচ করা হচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরব পাকিস্তান ও তুরস্কের সাথে জোট গড়ছে।

যুদ্ধ শেষে ইরান আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে- এই ভয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষাকবচ হিসেবে ইসরাইলকেই চূড়ান্ত হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে আবুধাবি। সমমনা এই দুই দেশের নতুন জোট এখন মধ্যপ্রাচ্যের হিসাব-নিকাশই বদলে দিচ্ছে।

সূত্র : মিডলইস্ট আই


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর