img

ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে বন্যার শঙ্কা

প্রকাশিত :  ০৬:১৫, ২৭ মে ২০২৬

 ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে বন্যার শঙ্কা

সিলেটে কদিন ধরেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারী বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটের উজানের ভারতের মেঘালয় রাজ্যেও। ফলে ঢল নেমে বাড়ছে সিলেটের নদ-নদীর পানি। এ অবস্থায় সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে বন্যা হলেও এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

মেঘালয়ের দৈনিক আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটির বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সোহরা (চেরাপুঞ্জি) এলাকায় ৭২ দশমিক ২ মিলিমিটার। শিলংয়ে ২১ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং বারাপানিতে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভৌগলিকভাবে মেঘালয়ের সোহরা ও খাসি পাহাড়ি অঞ্চলের টানা বৃষ্টি সিলেটের নদ-নদী ব্যবস্থার জন্য সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উজান থেকে নেমে আসা পানি সুরমা, কুশিয়ারা ও অন্যান্য পাহাড়ি নদীর প্রবাহ দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা স্বল্প সময়ে আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

সেখানের আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ ও ২৭ মে মেঘালয়ের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রপাত এবং ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ ও ২৯ মে পর্যন্তও বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে গেল ২৪ ঘণ্টায় সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ১১১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তাছাড়া জেলা ভিত্তিক পাউবোর দেয়া তথ্যানুযায়ী, হবিগঞ্জে ৮২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ৬৫ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

এদিকে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ৩টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সিলেট জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বেড়েই চলতেছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি ১১ দশমিক শূন্য মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ৪৭ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার। কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে পানি ১২ দশমিক ৬৪ মিটার, বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৮০ মিটার। শেওলা পয়েন্টে পানি ১০ দশমিক ৪৩ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ০৫ মিটার। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ৬১ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮৫ মিটার। শেরপুর পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ৪৮ মিটার, বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৫৫ মিটার। সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ৯০ মিটার, বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৩৫ মিটার। পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ১০ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ দশমিক শূন্য মিটার। গোয়াইনঘাট পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ৮৬ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮২ মিটার। লোভাছড়া নদীর লোভাছড়া পয়েন্টে পানি ১১ দশমিক ৪২ মিটার এবং ধলা নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ২৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, উজানের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢল এবং সিলেটের অভ্যন্তরীণ ভারি বৃষ্টি একসঙ্গে মিলিত হলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেটের সীমান্তবর্তী নিচু এলাকা, হাওরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল মুঈদ বলেন, সিলেটে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে এবং উজানের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।

এছাড়া সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ দাস বলেন, ভারতের উজানের ভারি বৃষ্টিপাতের জন্য পাহাড়ি ঢল সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোতে এসে পড়ছে, তাছাড়া সিলেটেও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে করে যদি ‍উজানে ঢল আর বৃষ্টিপাত চলমান থাকে তাহলে সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা রয়েছে।

তিনি জানান, আকস্মিক বন্যা হলেও এটি হবে স্বল্পমেয়াদি, পানি নেমে যাবে খুব দ্রুতই।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

বেতন দিতে পারছে না চার চা বাগান, কর্মবিরতিতে শ্রমিকরা

প্রকাশিত :  ০৯:৩২, ২৬ মে ২০২৬

দেউন্দি টি কোম্পানির চার চা বাগান কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় চরম অর্থ সংকটে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মজুরি পাচ্ছেন না এসব বাগানের শ্রমিকরা।

এ অবস্থায় কোম্পানিটির অধীনস্থ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের একটি ও হবিগঞ্জের তিনটিসহ মোট চারটি চা বাগান শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করেছেন। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে দেউন্দি, লালচান, মৃতিঙ্গা ও মাধবপুরের নোয়াপাড়া চা বাগানে কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকরা।

চা শ্রমিকরা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত তলবি (সাপ্তাহিক বেতন) পাচ্ছেন না ৪ বাগানের শ্রমিকরা। ফলে বাগানের প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক চরম সংকটে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে বাগানজুড়ে। শ্রমিকদের বেতন, ঈদ বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

তবে চা বাগান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি নেই এবং অর্ধেক পেমেন্টে দিতে চাইলে শ্রমিকরা সেটি গ্রহণ করেনি। এদিকে বকেয়া মজুরি পরিশোধ করে দ্রুত বাগান চালুর দাবি জানিয়েছে চা শ্রমিক সংঘ।

দেউন্দি টি কোম্পানী লিমিটেডের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা বাগান ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজারের লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, চা শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি কৃষি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লোন প্রদান না করার কারনে ২১ মে থেকে তলব (সাপ্তাহিক মজুরি) বন্ধ থাকছে। ব্যাংক লোনের উপর পরবর্তী তলব নির্ভর করছে। একই সাথে ২১ মে থেকে যতদিন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের তলব দিতে পারবে না ততদিন পর্যন্ত শ্রমিকদের স্ববেতন, মজুরি বহন বাগান কর্তৃপক্ষ করবে না। তবে ম্যানেজমেন্ট ব্যাংক হতে লোন নেয়ার চেষ্টা করবে। সাপ্তাহিক বেতন না দিতে পারায় সাধারণ চা শ্রমিকরা অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বেতন দাবির প্রেক্ষিতে এই সিন্ধান্ত দেয়া হয়।

এদিকে সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে সাপ্তাহিক তলবের দাবীতে মিরতিংগা চা-বাগানের চা-ফ্যাক্টরিতে চা-শ্রমিকদের পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী কর্মবিরতি পালন করেন। চা-শ্রমিকদের নিয়মিত সপ্তাহিক তলব গত বৃহস্পতিবারে দেওয়ার কথা থাকলেও কৃষি ব্যাংকের লোনের অজুহাতে বাগান কতৃপক্ষ তা পরিশোধ করে নাই। মিরতিংগা চা-বাগানে ২ শতাধিক মুসলিম চা-শ্রমিকের বসবাস, যাদের এই মুজুরিতে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। পবিত্র ঈদ-উল-আজাহার ঠিক আগে এভাবে তলব না দেওয়া চা-বাগানের সাধারণ মেনে নিতে পারে নাই।

মিরতিংগা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মন্টু অলমিকের সভাপতিত্বে কর্মবিরতির নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালী সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ধনা বাউরি, চা-ছাত্র যুব পরিষদ মনু-ধলই ভ্যালীর যুগ্ম আহব্বায়ক মানিক প্রসাদ পাল, সিরাজুল ইসলাম জব্বার, রামনারাইন কৈরী, ইমরান নাজির, মহিলা দফার সর্দার নিয়তি রাজগৌড় প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষি ব্যাংক ঋণ না দেয়ায় অর্থ সংকটের কারণে চা শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি ও স্টাফদের বেতন-ভাতা, ঈদ বোনাস, পূজা উৎসব বোনাস সহ অন্যান্য খরচ দিতে পারছে না বাগান কর্তৃপক্ষ। দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা বাগান ও হবিগঞ্জ জেলার লাল চান্দ, নোয়াপাড়া, দেউন্দি চা বাগানে গত সপ্তাহে সাপ্তাহিক মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা না দেওয়ায় শ্রমিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করে।

গত ২১ মে বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ করার কথা থাকলেও দেউন্ডি কোম্পানীর ৪টি বাগানে কর্তৃপক্ষ আকস্মিকভাবে মজুরি পরিশোধ বন্ধ করে দেন। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করে মজুরি পরিশোধের দাবি জানায়। তবে দেউন্দি কোম্পানীর কর্তপক্ষ কৃষি ব্যাংক থেকে লোন না পাওয়া পর্যন্ত মজুরি পরিশোধ করা হবে না বলে জানালে ২৫ মে সকাল থেকে ৪টি বাগানের শ্রমিকরা একযোগে কর্মবিরতি শুরু করে।

মিরতিংগা চা বাগানের ইউপি সদস্য ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী বলেন, ঈদের ঠিক আগ মুহুূর্তে পূর্ণ মজুরি প্রদান না করায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছেন। এই চা বাগানে কমপক্ষে শতাধিক মুসলিম শ্রমিক পরিবার রয়েছে। তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। তাছাড়া কোম্পানি শ্রমিকদের স্ববেতনে বকেয়া মজুরি প্রদানেরও নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। ফলে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন।

ঈদুল আযহার আগ মুহুর্তে দেউন্দ টি কোম্পানীর ৪টি চা-বাগানের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতির বাজারে দৈনিক মাত্র ১৮৭.৪৩ টাকা মজুরিতে এমনিতেই চা-শ্রমিকদের অবস্থা ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’। তার উপর সারা সপ্তাহ কাজ করে মজুরি না পেয়ে শ্রমিকদের যে দুর্বিষহ অবস্থায় পড়তে হয়েছে তা ভাষায় বর্ণনাতীত। তাছাড়াও ২০২২ সালের এরিয়ার বকেয়া ৪ হাজার টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। দেউন্দি কোম্পানীর শ্রমিকরা অভিযোগ করেন তাদের পিএফ চাঁদা নিয়মিত প্রফিডেন্ট ফান্ডে জমা করা হয় না, চা-শ্রমিকদের ন্যূনতম চিকিৎসাও এখন মিলছে না। অবিলম্বে দেউন্দ টি কোম্পানী লিমিটেডের ৪টি চা-বাগানে সাপ্তাহিক মজুরি ও বকেয়া এরিয়ার পরিশোধসহ শ্রমিকদের সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে সরকার ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান।

হবিগঞ্জের নয়াপাড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি কমেট নায়েক জানান, সমস্যা নিয়ে বৈঠক চলছে। কোন সুরাহা হয় কিনা তা পরে জানা যাবে।

এ বিষয়ে দেউন্দ টি কোম্পানী লিমিটেড এর কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা বাগানের ডেপুটি ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) বলেন, এই বাগানে শ্রমিকদের কোন বকেয়া নেই। ব্যাংক থেকে গত বৃহস্পতিবার টাকা উত্তোলন করা যায়নি। তবে এই সপ্তাহে তাদের হাফ পেমেন্ট দিতে চাইলে শ্রমিকরা সেটি নিতে চায়নি এবং তারা আন্দোলন শুরু করেছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর