img

৮ বিলিয়ন ইউরো পাচারের অভিযোগ, সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি জব্দ

প্রকাশিত :  ০৫:২৬, ২৯ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৫৪, ২৯ মে ২০২৬

৮ বিলিয়ন ইউরো পাচারের অভিযোগ, সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি জব্দ

ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের আলোচিত ব্যবসায়ী ও এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ।

প্রায় ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগে সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিটের (মোকাস) আবেদনের পর ১৯ মে এই সম্পত্তি জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। দুই দেশের পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো অনুরোধের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল আলম।

সাইপ্রাসের আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দেশটির পারেক্লিশা এলাকায় অবস্থিত সাইফুল আলমের একটি দোতলা আবাসিক ভবন ক্রোক করা হয়েছে।

বাংলাদেশি তদন্তকারীদের সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নথিপত্র অনুসারে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পরিচালিত একটি কোম্পানির নেটওয়ার্ক ও তাদের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। এই তদন্তের মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নেওয়া, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিং।

তদন্তের অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে সাইফুল আলমের মালিকানাধীন সাইপ্রাসে নিবন্ধিত কোম্পানি ‌‘এসিএলএআরই ইন্টারন্যাশনাল’ এবং সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও জার্সিতে থাকা বিভিন্ন ট্রাস্ট ও কোম্পানির নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে দেখছেন গোয়েন্দারা।

সাইপ্রাসের আদালতে সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ জারির ঠিক এক দিন পর বাংলাদেশে একটি আদালত সাইফুল আলম এবং তার ১০ জন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী সংস্থাকে দেওয়া প্রায় ৬০ লাখ ইউরোর (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা) একটি ঋণের বিপরীতে ১৩৪টি বাস কেনার কথা ছিল। তবে সেই বাসগুলো কেনা হয়নি—এমন অভিযোগে করা মামলায় এই সাজা দেওয়া হয়।

তবে বাংলাদেশের তদন্তের ব্যাপ্তি কেবল এই একটি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধে বলা হয়েছে, সাইফুল আলমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কোম্পানি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, যার একটি বড় অংশ পরে খেলাপি হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে, এই ঋণের অর্থ বিভিন্ন দেশের জটিল প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কিনা।

সম্প্রতি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরোর (৮০০ কোটি ইউরো) বেশি অর্থ পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই পাচার করা অর্থের একটি অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য দেশের সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

সাইফুল আলমের পক্ষে তার আইনি সংস্থা- কুইন ইমানুয়েল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তার সমস্ত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৈধ বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়িত এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণ অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ইতিমধ্যে সাইফুল আলম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থায় (আইসিএসআইডি) এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তার দাবি, সম্পত্তি জব্দের এই সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য, সাইফুল আলম ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের বিতর্কিত সিটিজেন-বাই-ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (যা সাধারণত গোল্ডেন পাসপোর্ট নামে পরিচিত) মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন। পরে নানাবিধ বিতর্কের কারণে সাইপ্রাস সরকার এই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তবে এই নাগরিকত্ব প্রদান প্রক্রিয়ার ত্রুটি-বিচ্যুতি তদন্তে গঠিত নিকোলাটোস কমিটির প্রতিবেদনে সাইফুল আলমের নামের কোনো উল্লেখ ছিল না।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটসে নতুন স্পিকার ও ক্যাবিনেট ও কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৫:৪৬, ২৯ মে ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-এ নতুন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। সভাটি বুধবার ২০ মে হোয়াইটচ্যাপেল রোডস্থ টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয়।

বেথনাল গ্রিন ওয়েস্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুস্তাক আহমেদ স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ল্যান্সবারি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন। স্পিকার হিসেবে তিনি বারার প্রথম নাগরিক (ফা‍‍রস্ট সিটিজেন) হিসেবে বিভিন্ন নাগরিক ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনে  প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বারার একজন দূত হিসেবে কাজ করবেন। তিনি কাউন্সিল সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের স্বাগত জানাবেন।

নির্বাচনের পর এক প্রতিক্রিয়ায় স্পিকার বলেন, “এটি আমার জন্য গভীর সম্মান, বিনয় এবং বড় দায়িত্বের মুহূর্ত। টাওয়ার হ্যামলেটসের জনগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, যাদের আস্থা আমার জনসেবার আকাঙ্খাকে সম্ভব করে তোলে এবং যা একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির জন্য সর্বোচ্চ সম্মান।” তিনি আরও বলেন, “আমার জীবনের শুরুটা ছিল সাধারণ কাজ, দীর্ঘ পরিশ্রম এবং দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে গড়ে ওঠা। রেস্টুরেন্টে কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা এবং পরবর্তীতে পরিবার লালন-পালনের পাশাপাশি শিক্ষায় ফিরে আসা - এসব অভিজ্ঞতা আমাকে কাজের মর্যাদা, সুযোগের গুরুত্ব এবং সাধারণ মানুষের ত্যাগ সম্পর্কে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে।” তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসকে আধুনিক ব্রিটেনের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, \"এটি বৈচিত্র্যময়, দৃঢ়, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং কমিউনিটি-কেন্দ্রিক একটি বারা।\"

তিনি জানান, পরবর্তী কাউন্সিল সভায় তাঁর নির্বাচিত দাতব্য সংস্থাগুলোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

গত ৭ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনের পর নতুন প্রশাসনের ক্যাবিনেট পোর্টফোলিও ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের নামও এই এজিএম-এ চূড়ান্ত করা হয়। কাউন্সিলর মাইউম তালুকদার বিধিবদ্ধ (স্ট্যাটুটরি) ডেপুটি মেয়র হিসেবে বৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবেলা, গ্রাহক সেবা উন্নয়ন এবং স্বেচ্ছাসেবী খাত সম্পৃক্ততা বিষয়ক পোর্টফোলিও (ক্যাবিনেট মেম্বার ফর ট্যাকলিং ইনইকুয়ালিটি অ্যান্ড দ্য কস্ট অব লিভিং, ইমপ্রুভিং কাস্টমার সার্ভিসেস, অ্যান্ড ভলান্টারি সেক্টর এনগেজমেন্ট) পরিচালনা করবেন। ক্যাবিনেট মেম্বার ফর হোমবিল্ডিং অ্যান্ড এনহ্যান্সিং কাউন্সিল হোমস অ্যান্ড নেবারহুডস (গৃহনির্মাণ ও কাউন্সিল আবাসন এবং আশপাশের এলাকার উন্নয়ন) হিসেবে কাউন্সিলর সাইদ আহমেদ, ক্যাবিনেট মেম্বার ফর ফাইন্যান্স, অ্যাসেটস অ্যান্ড গভর্নেন্স (অর্থ, সম্পদ ও প্রশাসন) হিসেবে কাউন্সিলর আবু তালহা চৌধুরী, ক্যাবিনেট মেম্বার ফর সেফ কমিউনিটিজ অ্যান্ড কমিউনিটি কোহেশন (নিরাপদ সম্প্রদায় ও সামাজিক সংহতি বিষয়ক) হিসেবে কাউন্সিলর কবির আহমেদ এবং ক্যাবিনেট মেম্বার ফর এ ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন বারা (পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বারা) হিসেবে কাউন্সিলর শফি আহমেদ দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া, ক্যাবিনেট মেম্বার ফর হেলদি, কেয়ারিং অ্যান্ড ইনক্লুসিভ কমিউনিটিজ সুস্বাস্থ্য, সেবা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ) হিসেবে কাউন্সিলর সাবিনা আক্তার, ক্যাবিনেট মেম্বার ফর লেজার, কালচার অ্যান্ড ট্যুরিজম (অবকাশ, সংস্কৃতি ও পর্যটন) হিসেবে কাউন্সিলর মিনারা খাতুন, এবং ক্যাবিনেট মেম্বার ফর জবস, এন্টারপ্রাইজ, স্কিলস অ্যান্ড গ্রোথ (কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, দক্ষতা ও প্রবৃদ্ধি) হিসেবে কাউন্সিলর সোনালি মিয়া এবং ক্যাবিনেট মেম্বার ফর চিলড্রেন, ইয়াং পিপল অ্যান্ড লাইফ চান্সেস (শিশু, তরুণ ও জীবনমান উন্নয়ন) হিসেবে কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ দায়িত্ব পালন করবেন।

একই সঙ্গে কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর চেয়ারদের নামও নিশ্চিত করা হয়েছে। ওভারভিউ অ্যান্ড স্ক্রুটিনি কমিটির (সার্বিক পর্যালোচনা ও যাচাই কমিটি) চেয়ার হয়েছেন কাউন্সিলর হালিমা ইসলাম, ডেভেলপমেন্ট (উন্নয়ন) কমিটির চেয়ার কাউন্সিলর আবদুল ওয়াহিদ এবং স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট (কৌশলগত উন্নয়ন) কমিটির চেয়ার হয়েছেন কাউন্সিলর আমিন রহমান। জেনারেল পারপোসেস (সাধারণ উদ্দেশ্য) কমিটির চেয়ার হিসেবে রয়েছেন কাউন্সিলর কামরুল হোসেন, পেনশনস কমিটির চেয়ার কাউন্সিলর সুলুক আহমেদ এবং লাইসেন্সিং কমিটি ও লাইসেন্সিং রেগুলেটরি (লাইসেন্সিং কমিটি ও লাইসেন্সিং নিয়ন্ত্রণ) কমিটির চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কাউন্সিলর পিটার গোল্ডস। হিউম্যান রিসোর্সেস (মানবসম্পদ) কমিটির চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কাউন্সিলর হারুন মিয়া।

কাউন্সিলের এজিএমের পূর্ণাঙ্গ এজেন্ডা কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর