img

লন্ডনে ইমামের যাবজ্জীবন, ‘জিনের আছর’ তাড়ানোর নামে করতেন যৌন নিপীড়ন

প্রকাশিত :  ১৩:১৪, ১৫ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০০:১১, ১৯ মে ২০২৬

লন্ডনে ইমামের যাবজ্জীবন, ‘জিনের আছর’ তাড়ানোর নামে করতেন যৌন নিপীড়ন

নারী ও শিশুদের যৌন হয়য়ানি ও পাশবিক নির্যাতনের দায়ের কারণে লন্ডনের একটি আদালত সাবেক এক ইমাম আব্দুল হালিম খানকে (৫৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ( ১৪ মে) স্নারেসব্রুক ক্রাউন কোর্ট এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

সাজা অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্তির আবেদনের আগে তাকে অন্তত ২০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

আব্দুল হালিম খান ‘জিনের আছর’ বা অশুভ শক্তির ভয় দেখিয়ে এই যৌন নিপীড়ন চালাতেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মোট ৭ জন ভুক্তভোগীর ওপর ২১টি ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত করেছেন আব্দুল হালিম খান। এর মধ্যে ৯টি ধর্ষণ এবং ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর ৫টি ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে।

পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার সাবেক এই ইমামের কর্মকাণ্ডকে বিচারক লেসলি কাথবার্ট ‘পরিকল্পিত এবং দীর্ঘস্থায়ী যৌন লালসা চরিতার্থ করার অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আব্দুল হালিম খান অত্যন্ত সুকৌশলে ‘জিনের আছর’ বা অশুভ শক্তির ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের বশে রাখতেন। নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক দাবি করে তিনি বলতেন, তিনি জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এ ছাড়া পরিবারের ক্ষতি করার জন্য কালো জাদুর হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ রাখতেন। এই মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদে ফেলে তিনি ১২ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ওপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্যাতন চালিয়েছেন।

শৈশবে নির্যাতিত হওয়া এক নারী আদালতে বিচারককে বলেন, ‘আমার কাছে খান কোনও মানুষ নয়, সে সাক্ষাৎ শয়তান।’ অপর এক ভুক্তভোগী জানান, খান তাকে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার মিথ্যা ভয় দেখিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন কেবল তিনিই এর প্রতিকার করতে পারেন। এরপর তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

লিড প্রসিকিউশন ব্যারিস্টার সারাহ মরিস কেসি বলেন, খান অত্যন্ত চতুরভাবে মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

শিক্ষার পথে সহায়তা: ২৫০ হাজার পাউন্ড অনুদান প্রদান

প্রকাশিত :  ১৭:০০, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণে এগিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা

টাওয়ার হ্যামলেটস অ্যান্ড ক্যানারি ওয়ার্ফ ফারদার এডুকেশন ট্রাস্টের (টিএইচসিডব্লিউএফইটি) মাধ্যমে বাসিন্দাদের উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের খরচ মেটাতে সহায়তা করতে ২৫০ হাজার পাউন্ড অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

মোট ৭৫ জন বাসিন্দাকে বিভিন্ন ধরনের যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করার জন্য এই অনুদান দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ও উচ্চশিক্ষা কোর্স, স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন এবং পেশাগত ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ।

এই অনুদানগুলো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এবং ক্যানরি ওয়ার্ফ গ্রুপ (সিডব্লিউ)-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রদান করা হয়, যা ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এপর্যন্ত ৪,৫০০-এরও বেশি স্থানীয় বাসিন্দাকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে সহায়তা করেছে।

গত সপ্তাহে টাউন হলে আয়োজিত বিশেষ উদযাপন অনুষ্ঠানে সফল আবেদনকারীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রাপকরা, তাদের অতিথিরা, টিএইচসিডব্লিউএফইটি-এর ট্রাস্টিরা এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও সিডব্লিউজি-এর প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান এবং সিডব্লিউজি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শোবি খান। অনুষ্ঠানে ডেপুটি মেয়র ও ট্রাস্টের ট্রাস্টি কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার এবং ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নীল গ্রিফিথসও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “জীবনের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় গুলোর একটি হলো শিক্ষা। এই অনুদান গুলো বাসিন্দাদের আর্থিক বাধা অতিক্রম করতে এবং এমন সুযোগ গ্রহণ করতে সহায়তা করছে যা তাদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।\"

তিনি বলেন, “আমি এ বছরের প্রাপকদের অভিনন্দন জানাতে পেরে আনন্দিত এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের আকাঙ্ক্ষাকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে অবিচল প্রতিশ্রুতির জন্য আমাদের অংশীদার সিডব্লিউজি-কে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”

টাওয়ার হ্যামলেটসের ডেপুটি মেয়র এবং টিএইচসিডব্লিউএফইটি-এর ট্রাস্টি, কাউন্সিলর মাইযুম তালুকদার বলেন, “আমরা জানি যে আর্থিক চাপ প্রতিভাবান মানুষদের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে। এই অনুদানগুলো এমন বাস্তব সহায়তা প্রদান করে যা বাসিন্দাদের দক্ষতা বিকাশ করতে, তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে এবং সম্ভাবনা পূরণ করতে সক্ষম করে। এ বছরের সকল সফল আবেদনকারীদের অভিনন্দন। আমি তাদের পড়াশোনায় সব ধরনের সাফল্য কামনা করি।”

ক্যানরি ওয়ার্ফ গ্রুপ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, শোবি খান বলেন, “শিক্ষা জীবন বদলে দেয়, এবং লন্ডন বরো অফ টাওয়ার হ্যামলেটসের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতার শক্তি প্রদর্শন করে। টিএইচসিডব্লিউএফইটি অনুদানের মাধ্যমে, আমরা আজ ৭৫ জন শিক্ষার্থীকে এবং কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে ৪ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি জনকে সহায়তা করছি, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করছে।\"

তিনি বলেন, “শিক্ষা ও দক্ষতায় বিনিয়োগ করার মাধ্যমে, আমরা কর্মক্ষেত্রে টেকসই পথ তৈরি করতে সহায়তা করছি এবং ক্যানারি ওয়ার্ফের বাইরেও বিস্তৃত একটি ইতিবাচক প্রভাব সমর্থন করছি।”

এই অনুদানগুলো শিশু ও তরুণদের জন্য কাউন্সিলের বৃহত্তর আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির পরিপূরক, যা তাদের জীবনে সর্বোত্তম সম্ভাব্য সুযোগ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

গত বছর, কাউন্সিল প্রাইমারী ও সেকেন্ডারি স্কুলে ভর্তি হওয়া শিশুদের পরিবারের জন্য সর্বজনীন স্কুল ইউনিফর্ম অনুদান চালু করেছিল, এবং এ বছর এই কর্মসূচিটি সম্প্রসারিত করে ইয়ার ৩ এবং ইয়ার ১০-এ যাওয়া শিশুদেরও এর আওতায় আনা হয়েছে। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত, তারা এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবে।

টাওয়ার হ্যামলেটস দেশের প্রথম স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যারা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক - উভয় স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বজনীন ফ্রি স্কুল মিল প্রদান করেছে, যার ফলে পরিবারগুলো প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে ৫৫০ পাউন্ড সাশ্রয় করতে পেরেছে।

এটিই একমাত্র কাউন্সিল যারা ইউনিভার্সিটি বার্সারির পাশাপাশি এডুকেশন মেইনটেন্যান্স অ্যালাউয়েন্স (ইএমএ) পুণরায় চালু করেছে। এই মাসের শেষের দিকে পরবর্তী পর্যায়ের তহবিলের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর