img

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন লুৎফুর রহমান

প্রকাশিত :  ১৫:৩২, ১১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:০৩, ১১ মে ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন লুৎফুর রহমান
রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মেয়রাল ইলেকশনের রেজাল্ট ঘোষনা শেষে বক্তব্য রাখছেন পুণরায় নির্বাচিত নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান।
রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মেয়রাল ইলেকশনের রেজাল্ট ঘোষনা শেষে বক্তব্য রাখছেন পুণরায় নির্বাচিত নি

৭ মে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এস্পায়ার পার্টির প্রার্থী লুৎফুর রহমান পুনরায় টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোট ৩৫,৬৭৯ ভোট পেয়েছেন।

এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,১৯,০৩০, যার মধ্যে ৪২.১ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

নির্বাচনের ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হয় ৮ মে শুক্রবার লন্ডনের এক্সেল সেন্টারে।

মেয়র পদে নির্বাচনের বিস্তারিত ফলাফল

জামি আলী, টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেনডেন্টস - ৩,১৫৬ ভোট,

জন জেরাল্ড বুলার্ড, রিফর্ম ইউকে - ৭,১৫৩ ভোট,

মোহাম্মদ আবদুল হান্নান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস - ২,৪২১ ভোট,

সিরাজুল ইসলাম, লেবার পার্টি - ১৯,৪৫৪ ভোট,

হিরা খান আদেওগুন, গ্রিন পার্টি - ১৯,২২৩ ভোট,

টেরেন্স ম্যাকগ্রেনেরা, স্বতন্ত্র – ৫২৪ ভোট,

ডমিনিক আইদান নোলান, কনজারভেটিভ - ৩,৮১৮ ভোট,

হুগো পিয়ের, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট অ্যান্ড সোশ্যালিস্ট কোয়ালিশন - ৬৩৮ ভোট,

লুৎফুর রহমান, এস্পায়ার পার্টি - ৩৫,৬৭৯ ভোট।

টাওয়ার হ্যামলেটসের রিটার্নিং অফিসার স্টিফেন হ্যালসি নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “একটি শক্তিশালী ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য যারা এই নির্বাচনে কাজ করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।

টাওয়ার হ্যামলেটসে দেশের অন্যতম সেরা নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। ভোটকেন্দ্র ও গণনাকেন্দ্রে কাজ করা প্রায় ৮০০ জন কর্মী থেকে শুরু করে টাওয়ার হ্যামলেটস পুলিশ এবং ইলেক্টোরাল কমিশনের মতো অংশীদার—সবাই একসঙ্গে কাজ করে বাসিন্দাদের তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে সহায়তা করেছেন।”

এক্সিকিউটিভ মেয়র নির্বাচনের পর, শনিবার ৯ মে আবারও এক্সেল লন্ডন-এ  টাওয়ার হ্যামলেটসের ২০টি ওয়ার্ডের ৪৫ জন কাউন্সিলর নির্বাচনের ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে।

গণনা শুরু হওয়ার সম্ভাব্য সময় সকাল ৮:৩০টা, এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের ফলাফল কাউন্সিলের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।


 

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

সানু মিয়া ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন: স্মরণষভায় বক্তাগণ

প্রকাশিত :  ১৬:৪৪, ১১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৩০, ১১ মে ২০২৬

রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মেয়রাল ইলেকশনের রেজাল্ট ঘোষনা শেষে বক্তব্য রাখছেন পুণরায় নির্বাচিত নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান।

পূর্ব লন্ডনের জনপ্রিয় যুব সংগঠক প্রয়াত কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সানু মিয়া (১৯৬৬ – ২০১৬) স্মরণে গত ৮ মে ২০২৬ পূর্ব লন্ডনের মাইক্রোবিজনেস সেন্টারে এক আবেগঘন স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবার-পরিজন, বন্ধু, সহযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে তাঁর জীবন ও কর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। বক্তারা তাঁকে কমিউনিটির জন্য নিরলসভাবে কাজ করা একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবদুল মালিক খোকন এবং সঞ্চালনা করেন স্বাধীন খসরু । অনুষ্ঠানের শুরুতে যৌথ আয়োজক ও সানু মিয়াকে নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মালিক খোকন তাঁর বক্তব্যে সানু মিয়ার দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সেবা, অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের কথা তুলে ধরেন।

সানু মিয়ার শৈশবের বন্ধু ও শাপলা ইয়ুথ ফোর্স এর সদস্য আলী, জয়নাল উদ্দিন, তুরণ মিয়া, হারিস আলী ও জামাল তাঁদের স্মৃতিচারণায় সানু মিয়াকে একজন প্রাণবন্ত, নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ও মানুষের পাশে থাকা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও স্মৃতিচারণ করেন সানু মিয়ার বোন জানা, সাবেক টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলর নূরউদ্দিন আহমদ, কবি শামীম আজাদ, লেখক ময়নুর রহমান বাবুল, রাজনীতিবিদ খসরুজ্জামান, সম্প্রচার ব্যক্তিত্ব রবিন হায়দার খান, অ্যাক্টিভিস্ট জামাল আহমেদ খান, ইয়াসমিন, সালেহা, সেচ্ছাসেবক লীগের চেয়ারম্যান সাদ আহমেদ সাদ , যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এনামুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট রাজনউদ্দিন জালাল এবং বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হরমুজ আলী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সানু মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন পারভীন ও ছেলে তানিম। পারভীন কথা বলতে গিয়ে এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। বক্তারা বলেন, সানু মিয়া ছিলেন একজন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ, যিনি সারাজীবন কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করে গেছেন এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। তিনি ছিলেন শাপলা ইয়ুথ ফোর্স এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নেতৃত্বে শাপলা ইয়ুথ ফোর্স  ফুটবল দল বাংলাদেশে গিয়ে সেনাবাহিনী, বিডিআর, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন জাতীয় দলের বিরুদ্ধে খেলেছিল। তিনি যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং একজন সুপরিচিত কর্মী হিসেবে সম্মান অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন লেবার পার্টির সক্রিয় কর্মী, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক।

সানু মিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন আনসার আহমদ উল্লাহ। তিনি সানু মিয়ার মা, হামিদা বেগমের হাতে স্মারকগ্রন্থের একটি কপি তুলে দেন এবং পরে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যেও তা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি বক্তব্যে স্বাধীন খসরু স্মারকগ্রন্থ প্রকাশে সহায়তা প্রদানকারীদের ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে তিনি জুয়েল রাজকে পুরো গ্রন্থটি টাইপ করার জন্য, হামিদ মোহাম্মদকে সম্পাদনার জন্য, মুসলেহ উদ্দিন আহমেদকে প্রকাশনার জন্যে এবং আরিফকে ডিজাইনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে সানু মিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।


 

কমিউনিটি এর আরও খবর