উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এসপায়ার পার্টির পক্ষে ঘর মার্কায় ভোটের আহ্বান
প্রকাশিত :
১০:০৮, ০৫ মে ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫১, ০৫ মে ২০২৬
টাওয়ার হ্যামলেটসের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এসপায়ার পার্টিকে সমর্থন এবং মেয়র লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।
গত ৩ মে পূর্ব লন্ডনের বো-ওয়েস্ট এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী সৈয়দ নাঈম আহমদ ও রিপন আলীর সমর্থনে এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মিজান আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুফতি আব্দুল মুনতাকিম। এছাড়াও বো ওয়েস্ট ইলেকশন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় আসন্ন ৭ মে ২০২৬ নির্বাচনে এসপায়ার পার্টির প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে কার্যকর নির্বাচনী প্রচারণা, ভোটার সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, স্থানীয় জনসমর্থন জোরদার, ঘরে ঘরে প্রচার কার্যক্রম এবং ওয়ার্ডজুড়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, বো-ওয়েস্ট আসনে সৈয়দ নাঈম আহমদ ও রিপন আলীর বিজয় শুধু স্থানীয় প্রতিনিধিত্বই নিশ্চিত করবে না, বরং সমগ্র টাওয়ার হ্যামলেটসের উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও কমিউনিটি স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা উল্লেখ করেন, মেয়র লুৎফুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে টাওয়ার হ্যামলেটস ইতোমধ্যে শিক্ষা, জনসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, কমিউনিটি কল্যাণ, আবাসন উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। Aspire পার্টির নেতৃত্বে পরিচালিত উন্নয়ন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সভায় আরও বলা হয়, কাউন্সিলর প্রার্থী সৈয়দ নাঈম আহমদ ও রিপন আলী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, সাংগঠনিক, শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন।
সভা শেষে নেতৃবৃন্দ বো-ওয়েস্টসহ সমগ্র টাওয়ার হ্যামলেটসের সর্বস্তরের ভোটারদের প্রতি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা, কমিউনিটির অধিকার, শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং জনগণের কল্যাণের স্বার্থে আগামী ৭ মে ঘর মার্কায় ভোট দিয়ে Aspire পার্টির সকল প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
উৎসবের উচ্ছ্বাস আর গভীর আবেগে ঢাকা ইউনিভার্সিটি আ্যলামনাই ইন দ্য ইউকের বর্ষবরণ
প্রকাশিত :
১৮:৩২, ১৩ মে ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৯:০৯, ১৩ মে ২০২৬
লন্ডন: ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে (DUAUK) অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বর্ষবরণ ১৪৩৩ – বৈশাখী মেলা ও ভর্তা উৎসব’ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে। বর্ণিল আয়োজনে বাঙালির ঐতিহ্য ধারণ করে নাচ, গান, আবৃত্তি, ফ্যাশন শো, আনন্দ উল্লাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। গত ৯ই মে শনিবার পূর্ব লন্ডনের ‘লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে’ বর্ষবরনের আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী, পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা ও অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান। সিনিয়র সহ-সভাপতি ও অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী মেসবাহ উদ্দিন ইকো সংক্ষিপ্ত ব্ক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফরসহ একটি নিবেদিতপ্রাণ টিম। চমৎকারভাবে সাস্কৃতিক পর্ব সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক এরিনা সিদ্দিকী সুপ্রভা।
সাধারণ সম্পাদক এম কিউ হাসান তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় জীবনের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ব্যবসায়িক হালখাতা, বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ, আর লোকজ গান-বাজনার মধ্য দিয়ে এই দিনটি হয়ে ওঠে এক আনন্দঘন উৎসব। পহেলা বৈশাখ আমাদেরকে শেকড়ের সাথে যুক্ত করে, আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বাঙালির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা। এই উৎসব তাই শুধু উদযাপন নয়, এটি আমাদের পরিচয়ের এক গর্বিত প্রকাশ।
বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কালজয়ী গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গান সমবেতভাবে পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির নানা পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। যা বাংলা নববর্ষের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সদস্যদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান মুগ্ধ হয়ে সকলে উপভোগ করেছেন। মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে উপস্থিত সকলে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানে গান, নাচ, সমবেত ছড়া, প্রেম-বিরহ-রোমান্টিক কবিতা পরিবেশন,ফ্যাশনশো, ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্য, অতিথি আপ্যায়ন এবং খাবার পরিবেশনে যারা অংশগ্রহন করেছেন এবং যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে, প্রশংসীয় উদ্যোগে একটি সফল অনুষ্ঠান হয়েছে তাঁরা হলেন:
গানের সাথে একক নৃত্য পরিবেশন করে শিশু শিল্পী শ্রেয়সী রাজভি ইসলাম।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় আরও সংগীত পরিবেশন করে Ocopot Bangla Band UK।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য ও তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনা ঘরে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়। মুড়ি, চানাচুর, চটপটি, পিঠা, পুলি, পায়েস, শুঁটকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, সরিষা ইলিশ, বিরিয়ানী, সাদা ভাত, খিচুড়ি, ডাল কোন খাবারের কমতি ছিলনা। ঘরে তৈরি সুস্বাদু খাবার সকলে তৃপ্তি সহকারে ভোজন করেছেন।
বিশেষ সম্মাননা পর্ব - ‘মাস্টার শেফ’ খেতাব:
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “মাস্টার শেফ” সম্মাননা প্রদান। ঘরে তৈরি খাবার প্রস্তুতকারী ৩৩ জন সদস্য এবং পরিবারকে সংগঠনের লোগো সংবলিত পদক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। এই পর্বটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান এবং সমন্বয় করেন মেসবাহ উদ্দিন ইকো। উপস্থিত সবাই পর্বটি অত্যন্ত উপভোগ করেন।
উপদেষ্টা সম্মাননা:
উপদেষ্টাদের সংগঠনের জন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন হাবিব রহমান (অনুপস্থিত), এস বি ফারুক, মুহাম্মাদ আব্দুব রাকীব, আবু মুসা হাসান, নাজির উদ্দিন চৌধুরী বাবর এবং সোহুল আহমেদ মকু।
নতুন সদস্যদের স্বাগত:
মঞ্চে স্বাগত জানানো হয় নতুন নিবন্ধিত সদস্যদের। তাঁরা হলেন:
রফিকুল ইসলাম (কম্পিউটার সায়েন্স), বিভা মোশাররফ (আইন), খালেদা জামান পূর্ণি (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), চৌধুরী রেজওয়ানা বাশার (মৃত্তিকা বিজ্ঞান) এবং ড. অধ্যাপক মশফিক উদ্দিন (ফাইন্যান্স), লিডস ইউনিভার্সিটি।
স্পন্সর সম্মাননা:
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ‘বৈশাখী’ নামে একটি স্মরনীকা প্রকাশ করা হয়। বর্ষবরণ ১৪৩৩ উপলক্ষে প্রকাশিত বর্ণিল স্মরণিকাটি স্পন্সরদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। বিশেষভাবে মাহফুজা রহমান স্মরণিকাটির মোড়ক উন্মোচন করেন এবং অন্যান্য স্পন্সরবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন। স্মরণিকা প্রকাশনার স্পন্সরদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন: মাহফুজা রহমান, Advocacy for Green — সৈয়দ ইকবাল ও সৈয়দা তামান্না, LURIS VINCE Solicitors — নজির উদ্দিন চৌধুরী, Liberty Law Solicitors — সোহুল আহমেদ মকু এবং MQ Hassan Solicitors — এম কিউ হাসান।
সংগঠনের সাবেক নেতৃবৃন্দকে অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হয়। সাবেক সভাপতিদের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন ব্যারিস্টার আনিসুর রহমান (অনুপস্থিত), দেওয়ান গৌস সুলতান, মারুফ চৌধুরী এবং প্রশান্ত পুরকায়স্থ BEM (অনুপস্থিত)। সাবেক সাধারণ সম্পাদকদেরও স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন: মারুফ চৌধুরী, মুহাম্মাদ আব্দুর রাকীব, ইসমাইল হোসেন এবং মেসবাহ উদ্দিন ইকো।
সাবেক কোষাধ্যক্ষদের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন এম এ কালাম এবং সৈয়দ হামিদুল হক। এছাড়াও “Slum in Mega City” শীর্ষক গবেষণার মাধ্যমে পিএইচডি সম্পন্ন করায় সংগঠনের সদস্য ড. মুসফিকা আশরাফ-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে কমিউনির অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরীর পক্ষে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজবাহ উদ্দিন ইকো ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সকল সদস্য, পরিবার, অতিথি, শিল্পী, স্বেচ্ছাসেবক, স্পন্সর ও সংগঠকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তির জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। নববর্ষের কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে কারোই বাড়ি ফেরার তাড়া ছিলনা। নববর্ষ উদযাপনের এতো চমৎকার অনুষ্ঠানের রেশ দীর্ঘদিন মনে থাকবে।