img

টাওয়ার হ্যামলেটসে লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টির ইশতেহার ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১০:১৭, ০৫ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:৫৬, ০৫ মে ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসে লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টির ইশতেহার ঘোষণা

ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট -এর জন্য ফ্রি ট্রাভেল পাস, আউটডোর সুইমিং পুল, প্রেগন্যান্সি পেমেন্ট ও ১২,০০০ ঘরসহ ১৪৮ প্রতিশ্রুতি।

-রেন্ট হার্ডশিপ ফান্ড আরো বৃদ্ধি ও বেশী পার্কিং সুবিধা প্রদানসহ থাকছে নানা কিছু। 

- অব‍্যাহত থাকবে ফ্রি স্কুল মিল, ফ্রি হোম কেয়ার, ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট এন্ড ইএমএ, ২০টি ইয়ুথ সেন্টার, নারী সেন্টার, ফ্রি সুইমিং ও কম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স ফ্রিজ রাখাসহ সকল জনপ্রিয় পলিসি। 

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

লন্ডন, ২৯ এপ্রিল:  টাওয়ার হ্যামলেটসের বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান এবং তার দল এসপায়ার পার্টি ৭ মে ২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনের জন্য তাদের ইশতেহার ঘোষণা করছে। রয়েছে ১৪৮ প্রতিশ্রুতি। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে বারা বাসিন্দাদের সহায়তায় বেশ কিছু নতুন যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ইউগভ-এর পূর্বাভাস (এমআরপি ফরকাস্ট) অনুযায়ী, লুৎফুর রহমানের এসপায়ার পার্টি টাওয়ার হ্যামলেটসে এগিয়ে রয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে তারা কনজারভেটিভ, লেবার পার্টি বা লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির বাইরে প্রথম দল হিসেবে লন্ডনের একটি বারা জয় করেছিল। গত টার্মে লুৎফুর রহমান প্রায় ১১০টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন। 

এসপায়ার পার্টির ইশতেহার পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বড় প্রতিশ্রুতি। দেশের প্রথম কাউন্সিল হিসেবে টাওয়ার হ্যামলেটসের নিম্ন-আয়ের পরিবারের ১ম বর্ষের ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টদের জন্য লন্ডন টিউব, ওভারগ্রাউন্ড ও বাসে সম্পূর্ণ ফ্রি ভ্রমণ অর্থাৎ ফ্রি ট্র‍্যাভেল পাস এর ব্যবস্থা করা। বুধবার স্থানীয় একটি হলে তিনি এসপায়ার পার্টির সকল কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে এই ঘোষণা দেন। 

ইশতেহার প্রস্তাব অনুযায়ী, কাউন্সিল শিক্ষার্থীদের জন্য ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের (টিএফএল) নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য ফ্রি ট্রাভেল পাসের জন্য অর্থায়ন করবে। টিএফএল এর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সীমা ও ট্রাভেল পাসের মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে।

২০২২ সালে এক্সিকিউটিভ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর লুৎফুর রহমান টাওয়ার হ্যামলেটসেলদেশের প্রথম কাউন্সিল হিসেবে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি স্কুল মিল চালু করেন।

প্রধান প্রতিশ্রুতিসমূহ

নতুন ইশতেহারে প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো হলো:

* দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার মধ্যে ১২ হাজারের বেশি এফোর্ডেবল ও সোশ্যাল হোম অর্থাৎ সাশ্রয়ী ও সামাজিক ভাড়ার বাড়ি নির্মাণ। ইতিমধ্যেই ১ম টার্মে ৬ হাজারের বেশী ঘর ডেলিভারি হচ্ছে। 

* নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি টিউব, বাস ও ওভারগ্রাউন্ড ভ্রমণ।

* নবজাতক শিশুর খরচে সহায়তার জন্য “টাওয়ার হ্যামলেটস প্রেগন্যান্সি পেমেন্ট" চালু। 

* ডিজিটাল বিভাজন কমাতে নিম্ন আয়ের পরিবারের তরুণদের ল্যাপটপ প্রদান। 

* চাইল্ডকেয়ার বা শিশু যত্নের খরচে হিমশিম খাওয়া পরিবারগুলোর জন্য চাইল্ডকেয়ার ভাউচার প্রদানের ব্যবস্থা পর্যালোচনা। 

* ভিক্টোরিয়া পার্কে একটি নতুন লাইডো বা ⁠আউটডোর সুইমিং পুল খোলা, এবং সেই সাথে সেন্ট জর্জ’স লেজার সেন্টার ও হোয়াইটচ্যাপেল লেজার সেন্টারে নতুন সুইমিং পুল নির্মাণ করা।

* অধিকাংশ কাউন্সিল সার্ভিস বা পরিষেবা ইন-হাউজ বা সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার উদ্যোগ। যার মধ্যে রয়েছে একটি স্বতন্ত্র অভ্যন্তরীণ ডমেস্টিক ভায়োলেন্স ইউনিট তৈরি করা, ২০২৭ সালে আউটসোর্সকৃত কোম্পানির চুক্তি শেষ হলে রিপেয়ার সার্ভিস বা মেরামত পরিষেবাটি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে আনার বিয়ষটি পর্যালোচনা করা এবং হেলথ কেয়ার পার্টনারদের সঙ্গে কাজ করে কাউন্সিলের পরিচালিত আরও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পরিষেবা চালু করার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা।

* একাকিত্ব মোকাবিলা এবং প্রবীণ ও দুর্বল ব্যক্তিদের একত্রিত করার জন্য  লাঞ্চন ক্লাব চালু করা এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ডে ট্রিপ (বিনোদনমূলক ভ্রমণ) আয়োজন করা। অসহায় হলে ঘরে ভিডিও ডোর বেল দেয়া। 

* প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (SEND) শিশু ও তরুণদের জন্য আরও সহায়তা প্রদান, যেমন লেজার সেন্টারে খেলার জায়গায় সেন্সরি রুম স্থাপন করা, যাতে আমাদের সব শিশু শারীরিক কার্যক্রম উপভোগ করতে পারে; পাশাপাশি SEND বান্ধব স্কুল-পরবর্তী কার্যক্রম চালু করার জন্য পর্যালোচনা করা এবং তরুণদের প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে রূপান্তরে সহায়তা করতে SEND চাহিদাসম্পন্ন যুবকদের জন্য ১০ লাখ পাউন্ডের তহবিলের ওপর আরও বিনিয়োগ করা। 

* যেসব ল্যান্ডলর্ড তাদের বাড়ি খালি ফেলে রাখে, তাদের ওপর জরিমানা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি খালি পড়ে থাকা সম্পত্তি ও অব্যবহৃত জমি নতুন আবাসন নির্মাণের জন্য ব্যবহারের সুযোগ সন্ধান করা।

কাউন্সিলের সার্ভিসগুলোতে মেয়র লুৎফুর রহমানের অভূতপূর্ব বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে বারাজুড়ে ২০টি নতুন ইয়ুথ সেন্টার খোলা, যার মধ্যে মেয়েদের জন্য নিবেদিত প্রথম ইয়ুথ সেন্টার "সিস্টার স্পেস সেন্টার" অন্তর্ভুক্ত; এছাড়াও লেজার সেন্টারগুলোকে কাউন্সিলের সরাসরি পরিচালনায় আনা এবং পরিবারগুলোর জন্য সকল ১৬+ বয়সী নারী ও ৩৫+ বয়সী পুরুষদের জন্য বিনামূল্যে সাঁতার চালু করা।

এই কাউন্সিল সারা দেশে দ্বিতীয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে সবার জন্য ফ্রি হোম কেয়ার চালু করেছে, যাতে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীরা বাড়িতেই বিনামূল্যে সেবা পান। পাশাপাশি ‘মিলস্ অন হুইলস' চালু করে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের জন্য গরম খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। শীতকালীন জ্বালানি ভাতা (উইন্টার ফুয়েল এলাউন্স) পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রেও টাওয়ার হ্যামলেটস হচ্ছে দেশের মধ্যে প্রথম কাউন্সিল। পরবর্তীতে সরকার এটি আবারও পুনর্বহাল করে।

এই সব উদ্যোগ ও পলিসিগুলো সম্পূর্ণ ব্যয় নির্ধারিত ও সুষম বাজেটের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যা এখন অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি কাউন্সিলের আর্থিক রিজার্ভ বাড়ানো হয়েছে এবং এখনও লন্ডনের মধ্যে ৬ষ্ঠ সর্বনিম্ন কাউন্সিল ট্যাক্সের হার বজায় রাখা হয়েছে। কম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধি স্থগিত ( ফ্রিজ) রাখা অব্যাহত রেখেছে এবং নিশ্চিত করেছে সর্বনিম্ন আয়ের মানুষদের যাতে কোনো কাউন্সিল ট্যাক্স দিতে না হয় এবং এই বছর ফস্টার কেয়ারারদের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স বাতিল করার প্রস্তাব । 

লন্ডনের হাউজিং সংকট মোকাবিলায় এই বারা শীর্ষ অগ্রাধিকার প্রদানকারী হিসেবে রয়েছে, যার অধীনে হাজার হাজার আরও সাশ্রয়ী ও সোশাল রেন্টাল বাড়ি নির্মাণ করেছে এবং বিদ্যমান কাউন্সিলের বাড়িগুলোর মান উন্নয়নে £৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে, যার মধ্যে স্যাঁতসেঁতে ও ছাঁচ সমস্যা (ড্যাম্প ও মোল্ড) মোকাবিলাও রয়েছে। নতুন ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, লুৎফুর রহমানের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ নাগাদ ১২ হাজারের বেশি সাশ্রয়ী ও সামাজিক ভাড়ার বাড়ি সরবরাহ করা হবে।

অনুষ্ঠানে এ‍্যাসপায়ার ইশতিহার সমর্থন করে আলোচনা রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক চেয়ার লিন্ডা উইলকিনসন, টাওয়ার হ্যামলেটসের সোমালি কমিউনিটির প্রতিনিধি আবদি মোহাম্মদ, রোমা কমিউনিটি লিডার ও স্থানীয় বাসিন্দা ডানিয়েলা আব্রাহাম, স্থানীয় কমিউনিটি নেত্রি এন্টেলা বাসা, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ব্রেন্ডা ডালি, সুইমিং চ্যাম্পিয়ন লেসলি গ্রিন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন এ‍্যাসপায়ার চেয়ার কে এম আবু তাহের চৌধুরী। 

টাওয়ার হ্যামলেটসের বর্তমান এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেছেন: “২০২২ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল টাওয়ার হ্যামলেটসকে সবার জন্য কার্যকর করা। লেবার পার্টির অধীনে বছরের পর বছর ধরে চলা ক্ষতিকারক কঠিন বাজেট নীতির পর, আমরা তাদের করা কাটছাঁট পলিসি বদল করি  এবং ফ্রন্টলাইন পরিষেবাগুলোতে ছয় বছরে £২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের অভূতপূর্ব বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছি।”

তিনি বলেন, “ আমরা যুগান্তকারী নীতির মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছি, যেখানে বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় অন্য যেকোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তুলনায় বেশি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, পাশাপাশি লন্ডনের হাউজিং সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিচ্ছি, ভাড়ার জন্য হাজার হাজার এফোর্ডেবল ও সোশ্যাল হোমস  অর্থাৎ সাশ্রয়ী ও সামাজিক ভাড়ার  ঘর নির্মাণ করছি এবং বিদ্যমান কাউন্সিলের বাড়িগুলো আপগ্রেড করতে বিনিয়োগ করছি।

বর্তমান ইশতেহার আরও একধাপ এগিয়ে গেছে। যেমন, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটসকে দেশের প্রথম কাউন্সিল করার, যেখানে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের খরচ কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। তেমনি চালু করা হচ্ছে টাওয়ার হ্যামলেটস প্রেগন্যান্সি পেমেন্ট, যা নবজাতক সন্তান লালনপালনের খরচে সাহায্য করবে।”

ইশতিহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলা হয়, “আমরা আমাদের তরুণদের জীবনের সেরা সূচনা দিচ্ছি, বাসিন্দাদের জন্ম থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সহায়তা করছি এবং মানুষের প্রাপ্য মর্যাদাপূর্ণ, সত্যিকারের সাশ্রয়ী ঘর সরবরাহ করছি, কারণ নিরাপদ ঘর কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি সবার মৌলিক অধিকার।”

“গত চার বছরে আমরা যা অর্জন করেছি, তাতে আমি অত্যন্ত গর্বিত, এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের সবার জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত, শক্তিশালী ভবিষ্যত গড়ে তুলতে আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

অব‍্যাহত পলিসিসমূহ

অব‍্যাহত রাখা পলিসিগুলোর মধ্যে রয়েছে: 

মেয়র লুৎফুর রহমানের কিছু কর্মসূচি জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। এইগুলোসহ প্রায় সবগুলো কর্মসূচী অব‍্যহাত রাখার ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে, এ কারনেই আমাদের একটি স্লোগান হচ্ছে- ‘ভোট এ‍্যাসপায়ার এন্ড লুৎফুর ফর ডেলিভারি এন্ড কনটিউনিটি’। অব‍্যাহত রাখা পলিসিগুলোর মধ্যে রয়েছে: 

* প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল মিল, যাতে ৩৮ হাজার শিশু উপকৃত হচ্ছে।

* £১,৫০০ করে ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট এবং এ লেভেলে বছরে £৬০০ করে শিক্ষা ভাতা (EMA)। দুটো মিলে ৫,২০০ শিক্ষার্থী উপকৃত হচ্ছে।

* প্রায় ৭,০০০ নতুন শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম।

* ইয়ুথ সার্ভিসে বছরে £১৩.৭ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ, যার মধ্যে ২০টি ওয়ার্ডে একটি করে ইয়ুথ সেন্টার, মেয়েদের জন্য একটি আলাদা সেন্টার ও একটি নারী কেন্দ্র।

* ফ্রি হোম কেয়ারের জন্য বছরে £৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ।( এদেশে ২য় বারা হিসেবে এই কর্মসূচী বাস্তবায়ন) 

* ফ্রি সুইমিং-এ তালিকাভুক্ত ২০ হাজার। £১০৭ মিলিয়ন পাউন্ড লেজার সুবিধায় বিনিয়োগ।

* কাউন্সিল মালিকানাধীন ঘরবাড়ির উন্নয়নে £৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ড বাজেট পরিকল্পনা।

* অপরাধ ও ড্রাগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিয়মিত রাখা ও অতিরিক্ত পুলিশে বিনিয়োগ।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

উৎসবের উচ্ছ্বাস আর গভীর আবেগে ঢাকা ইউনিভার্সিটি আ্যলামনাই ইন দ্য ইউকের বর্ষবরণ

প্রকাশিত :  ১৮:৩২, ১৩ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:০৯, ১৩ মে ২০২৬

লন্ডন: ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে (DUAUK) অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বর্ষবরণ ১৪৩৩ – বৈশাখী মেলা ও ভর্তা উৎসব’ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে। বর্ণিল আয়োজনে বাঙালির ঐতিহ্য ধারণ করে নাচ, গান, আবৃত্তি, ফ্যাশন শো, আনন্দ উল্লাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। গত ৯ই মে শনিবার পূর্ব লন্ডনের ‘লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে’ বর্ষবরনের আয়োজন করা হয়েছিল। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী, পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা ও অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান। সিনিয়র সহ-সভাপতি ও অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী মেসবাহ উদ্দিন ইকো সংক্ষিপ্ত ব্ক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফরসহ একটি নিবেদিতপ্রাণ টিম। চমৎকারভাবে সাস্কৃতিক পর্ব সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক এরিনা সিদ্দিকী সুপ্রভা।

সাধারণ সম্পাদক এম কিউ হাসান তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় জীবনের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ব্যবসায়িক হালখাতা, বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ, আর লোকজ গান-বাজনার মধ্য দিয়ে এই দিনটি হয়ে ওঠে এক আনন্দঘন উৎসব। পহেলা বৈশাখ আমাদেরকে শেকড়ের সাথে যুক্ত করে, আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বাঙালির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা। এই উৎসব তাই শুধু উদযাপন নয়, এটি আমাদের পরিচয়ের এক গর্বিত প্রকাশ।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কালজয়ী গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গান সমবেতভাবে পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। 

অনুষ্ঠানে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির নানা পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। যা বাংলা নববর্ষের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সদস্যদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান মুগ্ধ হয়ে সকলে উপভোগ করেছেন। মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে উপস্থিত সকলে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে গান, নাচ, সমবেত ছড়া, প্রেম-বিরহ-রোমান্টিক কবিতা পরিবেশন,ফ্যাশনশো, ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্য, অতিথি আপ্যায়ন এবং খাবার পরিবেশনে যারা অংশগ্রহন করেছেন এবং যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে, প্রশংসীয় উদ্যোগে একটি সফল অনুষ্ঠান হয়েছে তাঁরা হলেন: 

রীপা সুলতানা রাকীব, সৈয়দ জুবায়ের, তারেক সৈয়দ, নীলা নিকি খান, মেহেরুন আহমেদ মালা, এরিনা সিদ্দিকী, সৈয়াদা তামান্না, সৈয়দা ফারহানা সুবর্ণা, হাবিব, সৈয়দা লাভলী চৌধুরী, দেওয়ান গৌস সুলতান, ইসমাইল হোসেন, মতিন চৌধুরী, সাবিতা শামসাদ, এম কিউ হাসান, মাহফুজা রহমান, মারুফ চৌধুরী, মেসবাহ উদ্দিন ইকো, নিলুফা ইয়াসমীন হাসান, সৈয়দ হামিদুল হক, সৈয়দ জাফর, এমদাদ তালুকদার, মিজানুর রহমান, ডা. হাসনীন চৌধুরী, বিভা মোশাররফ, মাহমুদা চৌধুরী, খালেদা জামান পূর্ণি, আসমা আক্তার, নুসরাত জাহান, শাকির আহমেদ, খাদিজা আহমেদ বন্যা, কংকন কান্তি ঘোষ, শিরিন উল্লাহ প্রমুখ।

গানের সাথে একক নৃত্য পরিবেশন করে শিশু শিল্পী শ্রেয়সী রাজভি ইসলাম।

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় আরও সংগীত পরিবেশন করে Ocopot Bangla Band UK। 

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য ও তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনা ঘরে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়। মুড়ি, চানাচুর, চটপটি, পিঠা, পুলি, পায়েস, শুঁটকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, সরিষা ইলিশ, বিরিয়ানী, সাদা ভাত, খিচুড়ি, ডাল কোন খাবারের কমতি ছিলনা। ঘরে তৈরি সুস্বাদু খাবার সকলে তৃপ্তি সহকারে ভোজন করেছেন।

বিশেষ সম্মাননা পর্ব - ‘মাস্টার শেফ’ খেতাব:

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “মাস্টার শেফ” সম্মাননা প্রদান। ঘরে তৈরি খাবার প্রস্তুতকারী ৩৩ জন সদস্য এবং পরিবারকে সংগঠনের লোগো সংবলিত পদক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। এই পর্বটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান এবং সমন্বয় করেন মেসবাহ উদ্দিন ইকো। উপস্থিত সবাই পর্বটি অত্যন্ত উপভোগ করেন।

উপদেষ্টা সম্মাননা:

উপদেষ্টাদের সংগঠনের জন‍্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন হাবিব রহমান (অনুপস্থিত), এস বি ফারুক, মুহাম্মাদ আব্দুব রাকীব, আবু মুসা হাসান, নাজির উদ্দিন চৌধুরী বাবর এবং সোহুল আহমেদ মকু।

নতুন সদস্যদের স্বাগত:

মঞ্চে স্বাগত জানানো হয় নতুন নিবন্ধিত সদস্যদের। তাঁরা হলেন:

রফিকুল ইসলাম (কম্পিউটার সায়েন্স), বিভা মোশাররফ (আইন), খালেদা জামান পূর্ণি (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), চৌধুরী রেজওয়ানা বাশার (মৃত্তিকা বিজ্ঞান) এবং ড. অধ্যাপক মশফিক উদ্দিন (ফাইন্যান্স), লিডস ইউনিভার্সিটি।

স্পন্সর সম্মাননা:

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয়  করে রাখার জন‍্য ‘বৈশাখী’ নামে একটি স্মরনীকা প্রকাশ করা হয়। বর্ষবরণ ১৪৩৩ উপলক্ষে প্রকাশিত বর্ণিল স্মরণিকাটি স্পন্সরদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। বিশেষভাবে মাহফুজা রহমান স্মরণিকাটির মোড়ক উন্মোচন করেন এবং অন্যান্য স্পন্সরবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন। স্মরণিকা প্রকাশনার স্পন্সরদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন: মাহফুজা রহমান,  Advocacy for Green — সৈয়দ ইকবাল ও সৈয়দা তামান্না,  LURIS VINCE Solicitors — নজির উদ্দিন চৌধুরী, Liberty Law Solicitors — সোহুল আহমেদ মকু এবং MQ Hassan Solicitors — এম কিউ হাসান।

সংগঠনের সাবেক নেতৃবৃন্দকে অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হয়। সাবেক সভাপতিদের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন ব্যারিস্টার আনিসুর রহমান (অনুপস্থিত), দেওয়ান গৌস সুলতান, মারুফ চৌধুরী এবং প্রশান্ত পুরকায়স্থ BEM (অনুপস্থিত)। সাবেক সাধারণ সম্পাদকদেরও স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন: মারুফ চৌধুরী, মুহাম্মাদ আব্দুর রাকীব, ইসমাইল হোসেন এবং মেসবাহ উদ্দিন ইকো। 

সাবেক কোষাধ্যক্ষদের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন এম এ কালাম এবং সৈয়দ হামিদুল হক। এছাড়াও “Slum in Mega City” শীর্ষক গবেষণার মাধ্যমে পিএইচডি সম্পন্ন করায় সংগঠনের সদস্য  ড. মুসফিকা আশরাফ-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে কমিউনির অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরীর পক্ষে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজবাহ উদ্দিন ইকো ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সকল সদস্য, পরিবার, অতিথি, শিল্পী, স্বেচ্ছাসেবক, স্পন্সর ও সংগঠকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তির জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। নববর্ষের কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। 

অনুষ্ঠান শেষে কারোই বাড়ি ফেরার তাড়া ছিলনা।  নববর্ষ উদযাপনের এতো চমৎকার অনুষ্ঠানের রেশ দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কমিউনিটি এর আরও খবর