img

নওমুসলিমদের সহযোগিতার জন্য ইস্ট লন্ডন মসজিদ উদ্বোধন করলো নিউ মুসলিম হাব

প্রকাশিত :  ১৯:২৫, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

নওমুসলিমদের সহযোগিতার জন্য ইস্ট লন্ডন মসজিদ উদ্বোধন করলো নিউ মুসলিম হাব

লন্ডন, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ : নতুন মুসলিমদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতার লক্ষ্যে ইস্ট লন্ডন মসজিদ ‘ডিসকভার ওয়ান\' নামে নিউ মুসলিম হাব চালু করেছে।

২৪ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যায় লন্ডন মুসলিম সেন্টারের চতুর্থ তলায় এই হাব-এর অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়েছে।  

নবাগত মুসলিম আন্তোনেলোর কণ্ঠে সূরা আল-ফাতিহা ও সূরা আন-নাসর তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুচনা ঘটে । নিউ মুসলিম প্রজেক্টের এনগেজমেন্ট অফিসার ড. নাথান মুসা গাব্বিন্স সূরা আন-নাসরের তাৎপর্য তুলে ধরেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে মসজিদের সিইও জুনায়েদ আহমেদ বলেন, এই উদ্বোধন এমন একটি মুহূর্ত যার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন মুসলিমদের সাথে আলোচনাকালে একটি স্থায়ী ও নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজনীয়তা বারবার উঠে আসে—এবং এই হাব সেই চাহিদারই

প্রতিফলন । তিনি বলেন, এই হাবটি নতুন মুসলিমদের জন্য গঠনমূলক শিক্ষা, একান্ত পরামর্শ, সামাজিক কার্যক্রম এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করবে । তিনি এই প্রজেক্টের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমরা এই সেবাকে আরও বিস্তৃত করতে চাই । নতুন মুসলিম ভাই-বোনদের যে সহায়তা প্রয়োজন, তা অনেক বড়। আমাদের উদ্যোগও সেই অনুযায়ী বাড়াতে হবে।

ইস্ট লন্ডন মসজিদের চেয়ারম্যান ড. আবদুল-হাই মুর্শেদ বলেন, তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, বরং একজন মুসল্লি হিসেবে কথা বলছেন, যিনি প্রথম ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে শিশু অবস্থায় এই মসজিদে প্রবেশ করেছিলেন।

তিনি বলেন, এটা এমন এক ধরনের সমাবেশ, যা নবী (সাঃ) করতেন। বিভিন্ন পেশা ও জীবনের মানুষ একত্রিত হয়েছেন—কেউ বাধ্য হয়ে নয়, বরং নিজেদের ইচ্ছায়। আপনাদেরকে সর্বোত্তম পুরস্কার দেওয়া হয়েছে- ঈমানের নিয়ামত।” তিনি বলেন এই হাবটি শুধু নতুন মুসলিমদের জন্য একটি সেবাকেন্দ্র নয়, বরং যুক্তরাজ্যের সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি যৌথ দায়িত্ব। এটাই এই দেশে মুসলিম হিসেবে আমাদের টিকে থাকার মূল ভিত্তি। আমাদের গড়ে যেতে হবে । এখন পর্যন্ত আমরা যা অর্জন করেছি, তা প্রয়োজনের তুলনায় সমুদ্রের এক ফোঁটা মাত্র।

ড. নাথান মুসা নতুন মুসলিমদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমাদের জন্য ‘বিশ্বাস’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ । ইসলাম গ্রহণ করা অত্যন্ত সুন্দর ও পুরস্কারপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কিন্তু পরিবার ও বন্ধুদের কারণে এটি অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে । আমরা এমন একটি কমিউনিটি চাই, যেখানে সিরাহতে বর্ণিত ভালোবাসা ও সহমর্মিতা বাস্তবে দেখা যায়। এই হাব সেই পরিবেশই তৈরি করতে চায়।”

ইস্ট লন্ডন মসজিদের হেড অব প্রেগ্রামস সুফিয়া আলম বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি গবেষণায় অংশ নিয়ে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হন। সেখানে দেখা যায়, অনেক নতুন মুসলিম যথাযথ সহায়তার অভাবে পরে ইসলাম ত্যাগ করে। তিনি বলেন, আমরা কি সত্যিই এই ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াচ্ছি? ইসলাম গ্রহণ করা একটি বড় ত্যাগ। যদি কেউ শুধু সহযোগিতার অভাবে ইসলাম ছেড়ে দেয়—তাহলে সেটার দায় আমাদের ।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই না আপনি শুধু হাবেই থাকুন। আমরা চাই আপনাকে নামাজের কাতারে, একজন মুসলিম হিসেবে, এমনকি একজন নেতা হিসেবেও দেখতে।”

অনুষ্ঠানের শেষদিকে ব্রাদার আলেক্স ও সিস্টার রীনা তাদের ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা ও মসজিদে পাওয়া ভালোবাসা ও সহযোগিতার কথা শেয়ার করেন। অতিথিরা মাগরিবের আগে হাবটি ঘুরে দেখেন এবং  উপহার নিয়ে ফিরে যান।

উল্লেখ্য, ‘ডিসকভার ওয়ান নিউ মুসলিম হাব’ ইস্ট লন্ডন মসজিদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের একটি নতুন প্রকাশ—নতুন মুসলিমদের সর্বোচ্চ যত্ন ও সহায়তা প্রদান করার লক্ষ্যেই এর যাত্রা শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ চালিয়ে যেতে এবং আরও সম্প্রসারণ করতে প্রয়োজন সবার দোয়া, সহযোগিতা ও দান। প্রতিটি অবদান নতুন মুসলিমদের পাশে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটসে লাইসেন্স ছাড়া এইচএমও পরিচালনা: ভাড়াটিয়ারা পেলেন ৩১ হাজার পাউন্ডের বেশি ক্ষতিপূরণ

প্রকাশিত :  ১৯:৩৪, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বেথনাল গ্রিনে একটি শেয়ার করা ফ্ল্যাটে বসবাসকারী পাঁচজন ভাড়াটিয়া মোট ৩১ হাজার পাউন্ডেরও বেশি ভাড়া ফেরত পাওয়ার আদেশ পেয়েছেন, কারণ ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্তে এসেছে যে দীর্ঘ সময় ধরে ওই সম্পত্তিটি লাইসেন্সবিহীন হাউস ইন মাল্টিপল অকুপেশন (এইচএমও) হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল।

৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে দেওয়া রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, হাউজিং এ্যাক্ট ২০০৪–এর অধীনে মিও রিয়েল এস্টেট লিমিটেড অপরাধ করেছে, কারণ তারা টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অতিরিক্ত এইচএমও লাইসেন্সিং স্কিমের আওতায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই ছয় বেডরুমের একটি শেয়ার করা ফ্ল্যাট পরিচালনা করেছে।

ট্রাইব্যুনাল প্রতিটি ভাড়াটিয়ার পরিশোধিত ভাড়ার ৭০ শতাংশ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়, যা আইনভঙ্গের গুরুত্ব এবং বাড়িওয়ালার আচরণকে প্রতিফলিত করে। এছাড়াও ৭৭৭ পাউন্ড ট্রাইব্যুনাল ফি ফেরত দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলাটি সম্পর্কিত ফ্ল্যাট ৫, প্যারিস হাউস, ওল্ড বেথনাল গ্রিন রোড, ই২–এর একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাউন্ড ফ্লোর ফ্ল্যাটকে ঘিরে, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে কমপক্ষে ছয়জন অসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একসঙ্গে বসবাস করতেন এবং যৌথ সুবিধা ব্যবহার করতেন।

টাওয়ার হ্যামলেটসে এপ্রিল ২০১৯ থেকে অতিরিক্ত এইচএমও লাইসেন্সিং চালু রয়েছে, যার আওতায় দুই বা ততোধিক পরিবারভুক্ত তিন বা তার বেশি ব্যক্তি বসবাস করলে সম্পত্তির লাইসেন্স থাকা আবশ্যক। যদিও বাড়িওয়ালা স্বীকার করেছেন যে সম্পত্তিটির লাইসেন্স প্রয়োজন ছিল, তবুও সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত কোনো আবেদন করা হয়নি, যা ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর এবং কাউন্সিলের এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম শুরুর অনেক পরে।

ট্রাইব্যুনাল সেই দাবি গ্রহণ করেনি যে কোম্পানিটি কেবল ফ্রি-হোল্ডারের পক্ষে কাজ করছিল। বরং রায়ে বলা হয়, মিও রিয়েল এস্টেট লিঃ–ই ভাড়াটিয়াদের তাৎক্ষণিক বাড়িওয়ালা, কারণ তারা লিজ গ্রহণ করেছিল, ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে চুক্তি করেছিল এবং ভাড়া সংগ্রহ করেছিল।

যদিও ট্রাইব্যুনাল মেনে নেয় যে কোম্পানিটি ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভাঙেনি, তবুও বিচারক স্পষ্ট করেন যে এটি কোনোভাবেই “যৌক্তিক অজুহাত” নয়। রায়ে বলা হয়, যারা ভাড়া ব্যবসা পরিচালনা করে তাদের লাইসেন্সিং সংক্রান্ত দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত থাকা উচিত, বিশেষ করে এমন একটি এলাকায় যেখানে বহুদিন ধরে অতিরিক্ত লাইসেন্সিং স্কিম কার্যকর রয়েছে।

ভাড়া ফেরতের পরিমাণ নির্ধারণের সময় ট্রাইব্যুনাল বাড়িওয়ালার দুর্বল আচরণও বিবেচনায় নেয়, যার মধ্যে ভাড়াটিয়াদের ডিপোজিট সঠিকভাবে সুরক্ষিত না রাখার প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই রায় নিশ্চিত করে যে লাইসেন্সিংয়ের দায়িত্ব শুধু ফ্রি-হোল্ডারের ওপর নয়, বরং যারা বাস্তবে সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে তাদের ওপর বর্তায়। যারা ভাড়া চুক্তি দেয় এবং ভাড়া সংগ্রহ করে, তাদেরই আইন মেনে চলার দায় রয়েছে, ব্যবস্থা যেভাবেই বর্ণনা করা হোক না কেন।

ভাড়াটিয়াদের জন্য এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে রেন্ট রিপেমেন্ট অর্ডার (আরআরও) এখনো একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, বিশেষ করে যখন বাড়িওয়ালারা মৌলিক আইনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন।

রেন্ট রিপেমেন্ট অর্ডারের মাধ্যমে ভাড়াটিয়া বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আইনভঙ্গের ক্ষেত্রে, যেমন লাইসেন্সবিহীন এইচএমও পরিচালনা - সর্বোচ্চ দুই বছরের ভাড়া ফেরত দাবি করতে পারে। ফলে এটি আইন প্রয়োগ ও ভাড়াটিয়াদের সরাসরি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার একটি কার্যকর উপায়।

টাওয়ার হ্যামলেটসে কাউন্সিল সরাসরি ভাড়াটিয়াদের আরআরও দাবি করতে সহায়তা করে, যাতে তারা ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া বুঝতে পারে এবং শক্ত মামলা উপস্থাপন করতে পারে। এই সহায়তা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে, কাউন্সিল ভাড়াটিয়াদের জন্য মোট £১,৩১৭,৪৮৩.০৯ উদ্ধার করতে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে:

£৮৮০,৬৪০.৬৯ অতিরিক্ত লাইসেন্সিং স্কিমের মাধ্যমে

£৩৯৮,০৪৭.৪০ সিলেকটিভ লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে

£৩৮,৭৯৫ বাধ্যতামূলক HMO লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে উদ্ধার হয়েছে।

টাওয়ার হ্যামলেটস এমন কয়েকটি কাউন্সিলের মধ্যে একটি, যারা ভাড়াটিয়াদের জন্য এ ধরনের হাতেকলমে সহায়তা প্রদান করে। অধিকাংশ অন্যান্য কর্তৃপক্ষ এ ধরনের মামলা বাহ্যিক পরামর্শ সেবার কাছে পাঠিয়ে দেয়।

এই রায় এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সরকার রেন্টারস‘ রাইটস্ এ্যাক্ট  কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার লক্ষ্য বেসরকারি রেন্টালমার্কেটের মানোন্নয়ন, আইন প্রয়োগ জোরদার করা এবং আইন ভাঙলে ভাড়াটিয়াদের জন্য আরও স্পষ্ট প্রতিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হাউজিং ও রিজেনারেশন বিভাগের কর্পোরেট ডিরেক্টর ডেভিড জয়েস বলেন: “এই ফলাফল প্রমাণ করে যে ভাড়াটিয়াদের কখনোই অনিরাপদ বা অবৈধ বাসস্থান মেনে নিতে হয় না। যেখানে বাড়িওয়ালারা তাদের আইনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, সেখানে কাউন্সিল ব্যবস্থা নেবে এবং বাসিন্দাদের সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। ভাড়াটিয়াদের অধিকার আরও শক্তিশালী হওয়ার এই সময়ে, এই মামলা স্পষ্ট করে দেয় যে টাওয়ার হ্যামলেটসে আমরা আমাদের এনফোর্সমেন্ট ক্ষমতা ব্যবহার করেই যাব।”


 

কমিউনিটি এর আরও খবর