img

মনোয়ারা আলী এমবিই-কে শমশেরনগর হাসপাতালের সংবর্ধনা

প্রকাশিত :  ১৬:২৬, ১১ মে ২০২৬

মনোয়ারা আলী এমবিই-কে শমশেরনগর হাসপাতালের সংবর্ধনা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর হাসপাতালের অন্যতম দাতা সদস্য, হাসপাতাল নির্বাহী কমিটির মিডিয়া ও প্রচার বিষয়ক সম্পাদক (আন্তর্জাতিক) বৃটেন প্রবাসী নারী উদ্যোক্তা মনোয়ারা আলী অতিসম্প্রতি বৃটিশ রাজ পরিবার কর্তৃক এমবিই (মেম্বার অব দ্যা ব্রিটিশ এম্পায়ার) খেতাবে ভূষিত হওয়ায় শমশেরনগর হাসপাতাল তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করেছে।

রবিবার (১০ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় শমশেরনগর হাসপাতালে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাসপাতাল কমিটির নির্বাহী সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান রঞ্জুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াদ মাহমুদ।

শমশেরনগর হাসপাতাল কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সহিদের পরিচালনায় ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বৃটেন প্রবাসী দাতা সদস্য রমিজ আলী, দাতা সদস্য সুলেমান আলী, চ্যানেল এস মৌলভীবাজার প্রতিনিধি খালেদ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল কুমার দাস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাসপাতাল কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আব্দুস সালাম।

এ সময় শমশেরনগর হাসপাতাল কমিটির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ সহ কর্মরত চিকিৎসকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী আগতরা উপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত হাসপাতাল কমিটির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দরা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

বৃটেনে কমলগঞ্জ উপজেলাবাসীর মধ্যে প্রথম এমবিই (মেম্বার অব দ্যা ব্রিটিশ এম্পায়ার) খেতাবপ্রাপ্ত সংবর্ধিত অতিথি মনোয়ারা আলী বলেন, শমশেরনগর হাসপাতালের ধারাবাহিক অগ্রগতি দেখে শুধু আমি নয়; যে কেউই মুগ্ধ হবেন। অতি অল্প সময়ে আমাদের সকলের প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায় হাসপাতাল আজ এ অবস্থানে এসে  দাড়িয়েছে। তিনি বলেন, আমি সমাজের দুর্বল আর অবহেলিত শ্রেণীর পক্ষে কাজ করা আর তাঁদের জন্য সামাজিক ও আইনি সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় বৃটেনে একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে অতি সম্প্রতি ব্রিটিশ রাজ পরিবারের এমবিই খেতাব পেয়েছি।

প্রধান অতিথি কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, শমশেরনগর হাসপাতালে বড় দাতাদের পাশাপাশি খেটে খাওয়া মানুষজনও বিকাশের মাধ্যমে ১০/২০ টাকা করে তহবিলে জমা দিতে পারেন। এলাকার সর্বস্তরের মানুষজন এটাকে নিজেদের দাবী করে কাজ করেন বলে এ হাসপাতাল ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানস্থলে দাতা সদস্য সুলেমান আলী জাকাত তহবিলে নগদ ৫ হাজার টাকা, প্রবাসী মতিউর রহামন লালন উন্নয়ন তহবিলে ৫০ হাজার টাকা ও প্রবাসী হাজী রাসেল চৌধুরী স্থায়ী তহবিলে বার্ষিক ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এসময় শমশেরনগর মা লার্নিং ইনস্টিটিউট এর পক্ষ থেকে ৩জন অসহায় সামর্থ্হীনকে তিনটি সেলাই মেশিন উপহার দেওয়া হয়।

পরে অতিথিদেরকে সাথে নিয়ে কমলগঞ্জ প্রশাসনের পক্ষে থেকে শমশেরনগর হাসপাতাল পরিদর্শন এবং ফটোসেশানে অংশগ্রহণ করেন কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াদ মাহমুদ। পরিদর্শন শেষে তিনি দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে সন্তুষ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, সমাজের দুর্বল আর অবহেলিত শ্রেণীর পক্ষে কাজ করা আর তাঁদের জন্য সামাজিক ও আইনি সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য অক্লান্তভাবে কাজ করে যাওয়া মনোয়ারা আলী অসহায় শিশু ও মহিলাদের জন্য বাড়ি নির্মাণেও কাজ করছেন। তিনি দীর্ঘদিন উইলিয়াম মরিস বিগ লোকাল পার্টনারশিপের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেন। শমশেরনগর হাসপাতালের সাথে তিনি শুরু থেকেই সম্পৃক্ত আছেন। মনোয়ারা আলী বর্তমানে চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডরাইজিং এর ইডিআই কমিটির চেয়ার এবং ওয়ালথাম ফরেস্ট কমিউনিটি হাব-এর প্রধান নির্বাহী। ওয়ালথাম ফরেস্ট কমিউনিটি হাব বৃটেনের একটি শীর্ষস্থানীয় দাতব্য সংস্থা। মনোহতো য়ারা একই সাথে স্টো ইন্সপায়ার সিআইসি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক।

বৃটেনে বসবাসরত রমিজ আলীর সহধর্মিনী কমলগঞ্জ উপজেলাবাসীর মধ্যে প্রথম এমবিই (মেম্বার অব দ্যা ব্রিটিশ এম্পায়ার) খেতাবপ্রাপ্ত মনোয়ারা আলী কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের স্থায়ী বাসিন্দা। মনোয়ারা আলী দীর্ঘদিন ধরে চ্যারেটি তথা দাতব্য কাজের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানাবিধ সামাজিক কাজ করে আসছেন। ১৮ বছর বয়স থেকে দেশে ও বিদেশে সমান্তরালভাবে তিনি সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় ট্রাস্টি ও চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০ বছর বয়সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাথে থেকে একটি ইন্টার্নশিপ করারও অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।




কমিউনিটি এর আরও খবর

img

সানু মিয়া ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন: স্মরণষভায় বক্তাগণ

প্রকাশিত :  ১৬:৪৪, ১১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৩০, ১১ মে ২০২৬

পূর্ব লন্ডনের জনপ্রিয় যুব সংগঠক প্রয়াত কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সানু মিয়া (১৯৬৬ – ২০১৬) স্মরণে গত ৮ মে ২০২৬ পূর্ব লন্ডনের মাইক্রোবিজনেস সেন্টারে এক আবেগঘন স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবার-পরিজন, বন্ধু, সহযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে তাঁর জীবন ও কর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। বক্তারা তাঁকে কমিউনিটির জন্য নিরলসভাবে কাজ করা একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবদুল মালিক খোকন এবং সঞ্চালনা করেন স্বাধীন খসরু । অনুষ্ঠানের শুরুতে যৌথ আয়োজক ও সানু মিয়াকে নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মালিক খোকন তাঁর বক্তব্যে সানু মিয়ার দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সেবা, অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের কথা তুলে ধরেন।

সানু মিয়ার শৈশবের বন্ধু ও শাপলা ইয়ুথ ফোর্স এর সদস্য আলী, জয়নাল উদ্দিন, তুরণ মিয়া, হারিস আলী ও জামাল তাঁদের স্মৃতিচারণায় সানু মিয়াকে একজন প্রাণবন্ত, নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ও মানুষের পাশে থাকা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও স্মৃতিচারণ করেন সানু মিয়ার বোন জানা, সাবেক টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলর নূরউদ্দিন আহমদ, কবি শামীম আজাদ, লেখক ময়নুর রহমান বাবুল, রাজনীতিবিদ খসরুজ্জামান, সম্প্রচার ব্যক্তিত্ব রবিন হায়দার খান, অ্যাক্টিভিস্ট জামাল আহমেদ খান, ইয়াসমিন, সালেহা, সেচ্ছাসেবক লীগের চেয়ারম্যান সাদ আহমেদ সাদ , যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এনামুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট রাজনউদ্দিন জালাল এবং বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হরমুজ আলী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সানু মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন পারভীন ও ছেলে তানিম। পারভীন কথা বলতে গিয়ে এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। বক্তারা বলেন, সানু মিয়া ছিলেন একজন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ, যিনি সারাজীবন কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করে গেছেন এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। তিনি ছিলেন শাপলা ইয়ুথ ফোর্স এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নেতৃত্বে শাপলা ইয়ুথ ফোর্স  ফুটবল দল বাংলাদেশে গিয়ে সেনাবাহিনী, বিডিআর, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন জাতীয় দলের বিরুদ্ধে খেলেছিল। তিনি যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং একজন সুপরিচিত কর্মী হিসেবে সম্মান অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন লেবার পার্টির সক্রিয় কর্মী, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক।

সানু মিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন আনসার আহমদ উল্লাহ। তিনি সানু মিয়ার মা, হামিদা বেগমের হাতে স্মারকগ্রন্থের একটি কপি তুলে দেন এবং পরে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যেও তা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি বক্তব্যে স্বাধীন খসরু স্মারকগ্রন্থ প্রকাশে সহায়তা প্রদানকারীদের ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে তিনি জুয়েল রাজকে পুরো গ্রন্থটি টাইপ করার জন্য, হামিদ মোহাম্মদকে সম্পাদনার জন্য, মুসলেহ উদ্দিন আহমেদকে প্রকাশনার জন্যে এবং আরিফকে ডিজাইনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে সানু মিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।


 

কমিউনিটি এর আরও খবর