img

টাওয়ার হ্যামলেটসে ফস্টার কেয়ারারদের জন্য ফ্রি কাউন্সিল ট্যাক্স ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৮:১৫, ১৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২৩:৫১, ১৪ মে ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসে ফস্টার কেয়ারারদের জন্য ফ্রি কাউন্সিল ট্যাক্স ঘোষণা

টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিল বারার ফস্টার কেয়ারারদের জন্য বড় ধরনের প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফস্টার কেয়ারাররা ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে শতভাগ কাউন্সিল ট্যাক্স মওকুফ সুবিধা পাবেন।

একজন শিশুর জীবন বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সচেতনতামূলক প্রচারণা পক্ষ "ফস্টার কেয়ার ফোর্টনাইট" উদযাপন উপলক্ষে ট্যাক্স ফ্রীর এই ঘোষণা আসে। বাচ্চাদের পিতৃ-মাতৃ স্নেহে প্রতিপালন বা ফস্টারিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং আরও মানুষকে এই কাজে যুক্ত হতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সারা দেশে "ফস্টার কেয়ার ফোর্টনাইট" পালন করা হয়েছে।

কাউন্সিল জানিয়েছে, যে কেউ ফস্টার কেয়ারার হতে পারেন। ধর্ম, জাতিগত পরিচয়, যৌন অভিমুখ বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এখানে বাধা নয়। মূল প্রয়োজন হলো একটি শিশুর জন্য নিরাপদ, ভালোবাসাপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার সক্ষমতা।

নতুন নীতিমালার আওতায়, যারা ফস্টার কেয়ারার হিসেবে নিবন্ধন করবেন, তারা প্রথম বছরের অনুমোদন শেষে রেট্রোস্পেকটিভভাবে এই কর মওকুফ সুবিধা পাবেন। এই সুবিধা ফস্টার কেয়ারারদের জন্য বিদ্যমান ভাতা ও আর্থিক সহায়তার অতিরিক্ত হিসেবে প্রদান করা হবে। পাশাপাশি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ফস্টার কেয়ারারদের জন্য প্রশিক্ষণ, প্যারেন্টিং দক্ষতা উন্নয়ন এবং থেরাপিউটিক সহায়তাও প্রদান করে থাকে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাউন্সিল দুই সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তথ্যবহুল স্টলসহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ফস্টারিং বিষয়ে হাঁটা কর্মসূচি, লিফলেট বিতরণ এবং কমিউনিটি ইভেন্ট, যার মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের ফস্টার কেয়ারার হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হবে।

স্থানীয় ফস্টার কেয়ারার আফিয়া বলেন, “ফস্টারিংয়ের সবচেয়ে ভালো দিক হলো শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়তে দেখা। অনেক শিশুই প্রথমে ভীষণ উদ্বিগ্ন ও ভীত থাকে, কিন্তু ধৈর্য, ভালোবাসা ও যত্নের মাধ্যমে তাদের পরিবর্তন চোখে পড়ে। এতে আমি গর্ববোধ করি যে, আমি তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছি।”

এ বিষয়ে টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “যারা একটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও স্নেহময় পরিবেশ দিতে পারেন, তাদের সবাইকে আমি ফস্টার কেয়ারার হওয়ার কথা ভাবতে উৎসাহিত করব। এটি সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার একটি অসাধারণ উপায় এবং একটি তরুণ জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আমাদের ফস্টার কেয়ারাররা আমাদের কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ - তাদের ধন্যবাদ জানানোর জন্য এই উদ্যোগ একটি ছোট পদক্ষেপ।”

টাওয়ার হ্যামলেটস লন্ডনের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল এবং জনবহুল এলাকা। এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক আউটপুট প্রদান করে এবং টাওয়ার অব লন্ডন, ভিকটোরিয়া পার্ক, ক্যানারি হোয়ার্ফ এবং স্পিটালফিল্ডস -এর মতো জনপ্রিয় স্থানসমূহের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। একই সঙ্গে এটি লন্ডনের অন্যতম বৈচিত্র্যময় ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা।

(https://www.towerhamlets.gov.uk/lgnl/health__social_care/fostering,_adopting_and_looked/fostering/fostering.aspx)  ভিজিট করতে পারেন।

নির্বাহী মেয়রের ভিডিও ম্যাসেজ ডাউনলোড করতে এই লিংকে ক্লিক করেন: https://towerhamlets.chorus-mk.thirdlight.com/link/2ff8gits0n34-ord5qc/@/preview/1?o

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

বাংলামেইলের উদ্যোগে ‘ঈদসংখ্যা সংস্কৃতি: বাঙালির উৎসব ও সৃজনধারা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৭:৩১, ১৪ মে ২০২৬

লন্ডনে বাংলামেইলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঈদসংখ্যা সংস্কৃতি: বাঙালির উৎসব ও সৃজনধারা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। গত ১৩ই মে বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলা সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

সাপ্তাহিক সুরমার সাবেক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসনের সভাপতিত্বে এবং বাংলামেইল সম্পাদক সৈয়দ নাসির আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ফরিদ আহমদ রেজা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি মাহবুব মোহাম্মদ।

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বাসন বলেন, “ঈদসংখ্যা বাঙালির সাহিত্য সংস্কৃতির একটি ঐতিহ্য। প্রবাসে থেকেও বাংলামেইল যেভাবে এই ধারাকে লালন করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি ফরিদ আহমদ রেজা বলেন, “একটি মানসম্মত ঈদসংখ্যা শুধু পাঠকের বিনোদনের জন্য নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি দলিল হিসেবেও কাজ করে।”

মূল প্রবন্ধে কবি মাহবুব মোহাম্মদ বলেন, “ঈদসংখ্যা বাঙালির সৃজনশীল চর্চার অন্যতম বড় ক্ষেত্র। এই ধারার মাধ্যমে নতুন লেখক, কবি ও চিন্তকদের বিকাশ ঘটে।”

বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ফারুক আহমদ বলেন, “প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চা ধরে রাখতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলামেইল সেই দায়িত্ব সফলভাবেই পালন করছে।”

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, “সৈয়দ নাসিরের সম্পাদনায় বাংলামেইল ঈদ সংখ্যা একটি সমৃদ্ধ প্রকাশনা। এত সুন্দর ঈদ সংখ্যা উপহার দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।”

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বারিস্টার তারেক চৌধুরী বলেন, “গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশন করে না, সমাজের সাংস্কৃতিক ভিত্তিকেও শক্তিশালী করে। বাংলামেইলের এই উদ্যোগ তারই উদাহরণ।”

কবি আহমদ ময়েজ বলেন, “ঈদসংখ্যা আমাদের সাহিত্যিক আবেগের একটি বড় অংশ। বাংলামেইল সেই আবেগকে নতুনভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছে।”

কবি ও ছড়াকার দিলু নাসের বলেন, “বিলেতে বাংলামেইলের মতো এমন ঈদ সংখ্যা আর প্রকাশিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। বাংলামেইল ব্রিটেনের বাংলা সংবাদপত্রে ঈদ সংখ্যার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুজিবুল হক মনি বলেন, “সংস্কৃতিচর্চা ছাড়া কোনো কমিউনিটি এগিয়ে যেতে পারে না। এই ধরনের আয়োজন প্রবাসী নতুন প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখবে।”

সময় সম্পাদক সাঈদ চৌধুরী বলেন, “বর্তমান সময়ে মানসম্পন্ন সাহিত্যভিত্তিক প্রকাশনা খুবই কম। বাংলামেইলের ঈদসংখ্যা সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ করেছে।”

এটিএন বাংলার হেড অব নিউজ ও গল্পকার সায়েম চৌধুরী বলেন, “ব্রিটেনে এই প্রথম এত সমৃদ্ধ একটি ঈদ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। এজন্য বাংলামেইল অবশ্যই বিশেষ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।”

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি কবি মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, “বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে।”

দ্য সানরাইজ টুডে সম্পাদক এনাম চৌধুরী বলেন, “প্রবাসে সাহিত্যভিত্তিক প্রকাশনা টিকিয়ে রাখা সহজ নয়। বাংলামেইল সাহসিকতার সঙ্গে সেই কাজ করে যাচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উদয় সংকর দুর্জয়, আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ, ইমরান আহমদ, রেজাউল করিম মৃধা, রিয়াদ রায়হান, কবি সৈয়দ ফরহাদ, সৈয়দ জাবিরসহ কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বাংলামেইলের প্রকাশিত ঈদসংখ্যার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিক চর্চায় এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

কমিউনিটি এর আরও খবর