img

আলতাব আলী দিবস উপলক্ষে ব্রাডি সেন্টারে চলছে ঐতিহাসিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী

প্রকাশিত :  ১৮:০৩, ১৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৩৫, ১৪ মে ২০২৬

আলতাব আলী দিবস উপলক্ষে ব্রাডি সেন্টারে চলছে ঐতিহাসিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী

বর্ণবাদীদের হাতে নৃশংসভাবে নিহত আলতাব আলী স্মরণে আয়োজিত আলতাব আলী দিবস উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস এন্ড কমিউনিটি সেন্টার - এ আয়োজিত বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ফাইটিং ফ্যাসিজম: কমিউনিটি রেসিসটেন্স ১৯৭৮” এখনো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। গত ৫ মে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত।

হ্যানবারি স্ট্রিটের ১৯২-১৯৬ নম্বরে অবস্থিত এই কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত প্রদর্শনীটি প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। প্রদর্শনীতে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা প্রবেশমূল্য লাগবে না।
এই বিশেষ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ১৯৭৮ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা - যে সময় পূর্ব লন্ডনে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন জোরালো রূপ নেয়। আলোকচিত্র, পোস্টার শিল্প এবং গ্রাফিক ডিজাইনের মাধ্যমে সেই সময়কার সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা, প্রতিরোধ আন্দোলনের চেতনা এবং ইস্ট এন্ডের কমিউনিটির সংগ্রামের ইতিহাস জীবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষ করে আলতাব আলীর হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে যে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, তার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ইতিহাস, শিল্প ও সামাজিক ন্যায়ের এই মেলবন্ধন প্রদর্শনীটিকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা।
হাফটার্ম উপলক্ষে পরিবারসহ শিশু-কিশোরদের নিয়ে এই প্রদর্শনী ঘুরে দেখার জন্য আয়োজকরা বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

লন্ডনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমামের যাবজ্জীবন, ‘জিনের আছর’ তাড়ানোর নামে করতেন যৌন নিপীড়ন

প্রকাশিত :  ১৩:১৪, ১৫ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৪৬, ১৫ মে ২০২৬

নারী ও শিশুদের যৌন হয়য়ানি ও পাশবিক নির্যাতনের দায়ের কারণে লন্ডনের একটি আদালত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক ইমাম আব্দুল হালিম খানকে (৫৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ( ১৪ মে) স্নারেসব্রুক ক্রাউন কোর্ট এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

সাজা অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্তির আবেদনের আগে তাকে অন্তত ২০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

আব্দুল হালিম খান ‘জিনের আছর’ বা অশুভ শক্তির ভয় দেখিয়ে এই যৌন নিপীড়ন চালাতেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মোট ৭ জন ভুক্তভোগীর ওপর ২১টি ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত করেছেন আব্দুল হালিম খান। এর মধ্যে ৯টি ধর্ষণ এবং ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর ৫টি ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে।

পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার সাবেক এই ইমামের কর্মকাণ্ডকে বিচারক লেসলি কাথবার্ট ‘পরিকল্পিত এবং দীর্ঘস্থায়ী যৌন লালসা চরিতার্থ করার অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আব্দুল হালিম খান অত্যন্ত সুকৌশলে ‘জিনের আছর’ বা অশুভ শক্তির ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের বশে রাখতেন। নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক দাবি করে তিনি বলতেন, তিনি জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এ ছাড়া পরিবারের ক্ষতি করার জন্য কালো জাদুর হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ রাখতেন। এই মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদে ফেলে তিনি ১২ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ওপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্যাতন চালিয়েছেন।

শৈশবে নির্যাতিত হওয়া এক নারী আদালতে বিচারককে বলেন, ‘আমার কাছে খান কোনও মানুষ নয়, সে সাক্ষাৎ শয়তান।’ অপর এক ভুক্তভোগী জানান, খান তাকে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার মিথ্যা ভয় দেখিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন কেবল তিনিই এর প্রতিকার করতে পারেন। এরপর তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

লিড প্রসিকিউশন ব্যারিস্টার সারাহ মরিস কেসি বলেন, খান অত্যন্ত চতুরভাবে মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর