img

‘’আলোয় আলোয় যাক বিশ্বভরে প্রদীপ জ্বালো প্রদীপ জ্বালো সব ঘরে ঘরে

প্রকাশিত :  ১২:০৩, ১৯ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৪, ১৯ মে ২০২৬

গীতিকবি মাহফুজা রহমানের গান ও কবিতায় মনোরম সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

‘’আলোয় আলোয় যাক বিশ্বভরে প্রদীপ জ্বালো প্রদীপ জ্বালো সব ঘরে ঘরে

নিলুফা ইয়াসমীন হাসান, লন্ডন: সাহিত্যিক মাহফুজা রহমানের দুটি কাব্যগ্রন্থ ‘নতুন এক বৈরাগী আমি’ এবং ‘ছিঃ ছিঃ’ বইয়ের  প্রকাশনা উৎসব উপলক্ষে ১৭ই মে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস সেন্টারে এক মনোজ্ঞ সাস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন ছিল চমৎকার। 

বই আত্মার খোরাক, হৃদয়ের সমস্ত রুদ্ধ দ্বার খুলে দেয় বই। তাই বই প্রকাশনার উৎসবকে ঘিরে এত আয়োজন, শ্রোতা দর্শকের ছিল উপচে পড়া ভীড়। বাল্যকাল থেকেই সাহিত্য, গান, আবৃত্তি, নাটক ও শিল্পকলার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন মাহফুজা রহমান এবং আজও নিরলসভাবে লিখে যাচ্ছেন। তাঁর কবিতায় দেশপ্রেম, প্রকৃতি, প্রেম বিরহ থাকলেও সমাজের অনাচার, অবিচার, মানবতার অবমাননা, বঞ্চণা, বৈষম্য ইত্যাদি ব্যাপারগুলো উঠে এসেছে বার বার। 

মাহফুজা রহমান - এই গুণি মানুষটি বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন রেজিস্টার্ড গীতিকার। তাঁর বহু গান, বাংলাদেশের প্রথিতযশা সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, প্রণব ঘোষ, ইমন সাহার মতো বিশিষ্ট সুরকাররা সুর করেছেন। সেই সুরারোপিত গানগুলো গেয়েছেন স্বনামধন্য শিল্পী পলাশ, সামিনা নবী, আলম আরা মিনু, অনিমা-ডি-কস্টা সহ অনেকে। লন্ডনের বিভিন্ন সাপ্তাহিকে নিয়মিত মাহফুজা রহমানের লেখা ছাপা হতো। তিনি বহু নাটকে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছেন। 

মাহফুজা রহমান তাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ, ২০২৩ সালে সিটি অফ লন্ডন কর্পোরেশন থেকে, ব্রিটেনের প্রাচীনতম ও অত্যন্ত সম্মানজনক পদবী, "ফ্রীডম অফ দ্য সিটি অফ লন্ডন" সম্মাননা লাভ করেন।  তাঁর স্বামী এমদাদ তালুকদারও তাঁর, সামাজিক কর্মকান্ডের জন্যে একই সম্মাননা অর্জন করেন।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি আ্যলামনাই ইন দ্য ইউকের সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে, কাউন্সিলর সাইদা চৌধুরী ও সৈয়দ জাফরের উপস্থাপনায় এবং মেজবাহ জামালের কন্ঠে মাহফুজা রহমানের লেখা ‘আলোয় আলোয় যাক বিশ্বভরে/ প্রদীপ জ্বালো প্রদীপ জ্বালো সব ঘরে ঘরে’ কবিতা আবৃত্তির সাথে  মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। 

ঢাকা থেকে আগত বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সামিনা চৌধুরী মাহফুজা রহমানের লেখা চারটি গান একাধারে পরিবেশন করেন। গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন বুলবুল একাডেমি অফ ফাইন আর্টস ইউকের (বাফা) মনিরুল ইসলাম মুকুল, কাজী ফারহানা, সুপ্তি পাল ও নীহারিকা ভৌমিক।

মাহফুজা রহমানের স্বামী এমদাদ তালুকদার এমবিই  এদেশের সাহিত্য ও সাংষ্কৃতিক অঙ্গনে খুবই জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব , তিনিও এই আনুষ্ঠানে মাহফুজা রহমানের কর্মময় জীবন সম্পর্কে তুলে ধরেন। মাহফুজা রহমানের বই নিয়ে আলোচনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌস সুলতান, ‘নতুন এক বৈরাগী আমি’ বইয়ের  সম্পাদক কবি হামিদ মোহাম্মদ এবং কলামিষ্ট আলমগীর শাহরিয়ার।   

মাহফুজা রহমানের লেখা গান পরিবেশন করেন ভারত থেকে আগত শিল্পী তৃপ্তি কনা দাস, আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিল্পী ভাতৃদ্বয় সৈয়দ জুবায়ের ও তারেক সৈয়দ। আরো যারা মাহফুজা রহমানের লেখা গান ও কবিতা পরিবেশন করেছেন তাঁরা হলেন, পাপিয়া দাস বাউল, মুজিবুল হক মণি, স্মৃতি আজাদ, মেজবাহ জামাল, এম কিউ হাসান, শারমীন চৌধুরী মিলা, মিজানুর রাহমান, মেজবাহ কামাল, মাহফুজা রহমানের লেখা ইংরেজি কবিতা থেকে পাঠ করেন ররি  শিভালিসকি। সিরাজুল বাছিত চৌধুরী ও সাঈদা চৌধুরী দম্পতির বিশেষ নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের আনন্দের খোরাক জুগিয়েছে।

মাহফুজা রহমানের জীবন আলেখ্য তুলে ধরেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডলি ইসলাম, নিলুফা ইয়াসমীন হাসান ও সৈয়দ জাফর। মাহফুজা রহমানের উপর বায়োপিক তৈরি করেছেন মিনহাজ কিবরিয়া।

অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শাহগির বখত ফারুখ, তারেক চৌধুরী, ফারুখ আহমেদ, আবু সুফিয়ান,  মারুফ চৌধুরী, ইসমাইল হোসেন, মেজবাহ উদ্দিন ইকো, মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ হামিদুল হক, মাহারুন আহমেদ মালা, মোস্তফা কামাল মিলন, শ্যামল চৌধুরী, শাহাব আহমেদ বাচ্চু, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, হাসনাইন চৌধুরী, মাহমুদা চৌধুরী, আজম ফারুখ, সৈয়দা ফারহানা সুবর্ণা, রুবায়েত শারমিন ঝরা, সাইকা মোহাম্মদ ও জেসিকা মোহাম্মদ ।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে করে তুলেছিল মহিমান্বিত। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মবিন, লোকমান হোসেন, ফয়জুর রহমান খান, দেওয়ান গৌস সুলতান, আবু মুসা হাসান, আব্দুর রহমান খান, সৈয়দ গোলাম আলী, শহিদুল ইসলাম বাবলু, আহমেদ কবির এবং হুমায়ুন কবীর।

অনুষ্ঠানে আরো  উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আব্দুর রাকীব,, ব্যারিষ্টার নাজির উদ্দিন চৌধুরী, রিপা সুলতানা রাকীব, মির্জা আসাব বেগ, কাউন্সিলর আমিনা আলী, কাউন্সিলর সাঈদা ফেরদৌসী পাশা, সত্যবাণীর সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা, ঊর্মি মাযহার, মোস্তফা কামাল, গোলাম মোস্তফা, সাকির আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ও স্পীকার আহবাব হোসাইন,  সাবেক কাউন্সিলর আয়েশা চৌধুরী প্রমুখ। 

উপস্থিত সকলের প্রতি নাট্যকার, লেখক, গীতিকবি মাহফুজা রহমানের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে এবং অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের রাতের খাবারে আপ্যায়ন করা হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে লেখকের আরও নতুন নতুন বিস্তৃত লেখা ও চিন্তা পাঠককে মুগধ করবে বলে সকলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিগতভাবে অনেকে ফুলের তোড়া উপহার দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানকে সাফল্যমন্ডিত করতে যে সকল সংগঠন সহযোগিতা করেছে তারা হলো ঢাকা ইউনিভার্সিটি আ্যলামনাই ইন দ্য ইউকে,  ব্রিটিশ বাংলাদেশী টিচার এসোসিয়েশন ইউকে, বাংলাদেশ ল' এসোসিয়েশন, সাঈদা সি এবং বাফা ইউকে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে পুলিশে খবর দিলেন বাংলাদেশি

প্রকাশিত :  ০৫:৩৮, ১৯ মে ২০২৬

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত দুই শিশুর একজনের বয়স ১২ বছর এবং অন্যজনের বয়স মাত্র ৫ বছর। খবর সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।

গতকাল সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ক্যাম্পবেল্টটাউন এলাকার নিজ বাসা থেকে নিজেই পুলিশে ফোন করেন ৪৭ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ৪৬ বছর বয়সি স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের শরীরে ভয়াবহ ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, যাতে নিহতদের পরিচয় সুরক্ষিত থাকে। তাকে গ্রেফতার করে পারিবারিক সহিংসতার মাধ্যমে হত্যার তিনটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও অভিযুক্ত আদালতে হাজির হননি। তার আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ হেফাজতে তার মক্কেল ‘চরম মানসিক বিপর্যস্ত’ অবস্থায় আছেন।

তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগে কোনো পারিবারিক সহিংসতা, মাদক গ্রহণ বা মানসিক সমস্যার ইতিহাস ছিল কিনা—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান আইনজীবী।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে থেকে দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন। দুই শিশুরই বিকাশজনিত সমস্যা ছিল। পরিবারের উপার্জন করতেন তাদের মা। প্রায় এক দশক আগে তারা বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মিশেল মরোনি ঘটনাস্থলকে ‘অত্যন্ত নৃশংস অপরাধস্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ঘরের ভেতর থেকে এমন কয়েকটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো নিহতদের আঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে বাড়িতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে কখনো পুলিশের নজরে আসেননি এবং তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডও ছিল না। পরিবারটির সঙ্গে সমাজসেবা বিভাগ বা শিশু সুরক্ষা সংস্থারও পূর্বে কোনো যোগাযোগ ছিল না।

ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। হামলার সময় বাড়ির ভেতরে অন্য কেউ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে না।

স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, নিহত শিশুরা সবসময় হাসিখুশি ছিল এবং প্রায়ই বাড়ির বাইরে খেলতে দেখা যেত। আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এ ধরনের পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের খবর সবসময়ই ভয়াবহ। কিন্তু যখন সেটা নিজের এলাকায় ঘটে, তখন তা বিশ্বাস করা আরও কঠিন হয়ে যায়।’

এক নারী বাসিন্দা নিজের বাগান থেকে ফুল কেটে ঘটনাস্থলে রেখে আসেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কীভাবে কেউ এটা করতে পারে? তারা তো শিশু, একেবারে শিশু।’

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মাইনস এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ যেমন ক্ষুব্ধ ও শোকাহত, আমিও তেমনই।’

তিনি জানান, আসন্ন জুন মাসের রাজ্য বাজেটে পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় আরও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই পারিবারিক সহিংসতা দমনে পরিচালিত অপারেশন অ্যামারক অভিযানে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ৯৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং চার দিনে দুই হাজারের বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।


কমিউনিটি এর আরও খবর