img

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

প্রকাশিত :  ১৭:২৬, ০৯ জুন ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

মার্কিন ডলারের সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা এবং শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতনের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) লেনদেনের শুরুতেই স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে যায়। পরে স্পট বাজারে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৯৮ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণচুক্তির দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২৩ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়ায়।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

আরজেও ফিউচারসের সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট বব হ্যাবারকর্ন বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন। সার্বিকভাবে বাজারে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমে গেছে এবং এ ঝুঁকি-বিমুখ মনোভাবই স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি করছে। ফেডারেল রিজার্ভের কাছ থেকে সুস্পষ্ট কোনো বার্তা না পাওয়া পর্যন্ত স্বর্ণ ও রুপার বাজার চাপের মধ্যেই থাকতে পারে।’

এদিকে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এবং বেঞ্চমার্ক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

গত সপ্তাহে প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী মার্কিন কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর এখন বাজারের সব নজর এ সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের দিকে। এর মধ্যে বুধবার প্রকাশিত হবে মে মাসের মার্কিন ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই)।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, বাজারে এখন ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখার কারণ হতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, উচ্চ সুদের হার এ সুদবিহীন ধাতুর জন্য নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে।


অর্থনীতি এর আরও খবর

img

ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতায় ব্যাংক এমডিদের উদ্বেগ প্রকাশ, দ্রুত সমাধানের তাগিদ

প্রকাশিত :  ১০:০৭, ১০ জুন ২০২৬

দেশের ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) ইসলামী ব্যাংকে চলমান অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে । পাশাপাশি বিষয়টির দ্রুত সমাধান হলে ব্যাংক খাতের জন্য ভালো হবে বলে তাঁরা মনে করেন।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ উদ্বেগের কথা জানান এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন। নিয়মিত ব্যাংকার্স সভায় আলোচ্যসূচির বাইরে এ আলোচনা হয়।

মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; এর প্রভাব পুরো ব্যাংক খাতে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকাররা উদ্বিগ্ন। গভর্নরও এই পরিস্থিতিকে কেবল ব্যাংকিং খাতের সমস্যা হিসেবে নয়, রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেও দেখছেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে গভর্নর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) সঠিক তথ্য দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন।

বৈঠকে ব্যাংক খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মাসরুর আরেফিন বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) ঋণসহায়তা দিতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন (রিফাইন্যান্স) কর্মসূচির আওতায় অর্থ বিতরণ করা হবে।

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, রপ্তানি ও আমদানিসংক্রান্ত তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল বা বিলম্ব হয়। ফলে জাতীয় হিসাব-নিকাশে সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে আমদানিপণ্যের মূল্য ঘোষণায় বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে মূল্য যাচাই করে এলসি খোলা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। লক্ষ্য এটা নিশ্চিত করা যে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের কারণে দেশের ক্ষতি যেন না হয়।

বৈঠকে দেশের সব ব্যাংকের এমডিদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সব ডেপুটি গভর্নর ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।