img

খুলনায় ফজরের নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গুলি, আহত ২

প্রকাশিত :  ০৭:৫৩, ১৪ জুন ২০২৬

খুলনায় ফজরের নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গুলি, আহত ২

খুলনার দৌলতপুরে ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ (সেক্রেটারি) দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

আজ রোববার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মহানগরীর দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং স্থানীয় মুসল্লি আলম শেখ (৫৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মসজিদে ফজরের জামাত চলছিল। নামাজ চলাকালীন আকস্মিকভাবে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সরাসরি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পাশে থাকা আলম শেখ নামের আরেক মুসল্লিও গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনেই মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পবিত্র উপাসনালয়ের ভেতরে গুলির শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দা ও অন্য মুসল্লিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লোকমান হাকিমের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় পাঠানো হয়।

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) একজন তালিকাভুক্ত ঠিকাদার এবং জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে এই পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


img

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৬৫২

প্রকাশিত :  ১৩:৫৩, ১৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:০১, ১৪ জুন ২০২৬

হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫২ জনে।

আজ রোববার (১৪ ‍জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে অনুযায়ী, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টার মধ্যে এই চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫৬০ শিশু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ৯২ শিশুর। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬৫২ জনে পৌঁছেছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ৫২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৫ হাজার ৯৫১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৭৫। এ নিয়ে দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩২৩ জনে।

এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭০ হাজার ৫৭৯ জন। তাদের মধ্যে ৬৬ হাজার ৮৪১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।