img

নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দরে বন্দুক হামলা, নিহত ৩৫

প্রকাশিত :  ০৭:৫৫, ১৯ জুন ২০২৬

নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দরে বন্দুক হামলা, নিহত ৩৫

আফ্রিকার দেশ নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দর দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত বিমানবন্দরটিতে এ হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে চার হামলাকারী আহত হয়েছেন এবং ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল ও আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরপিজি-৭ রকেটচালিত গ্রেনেড লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, বিস্ফোরক, গ্রেনেড, ওয়াকিটকি এবং কয়েক হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী জামা’য়াত নুসরাত আল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে সংগঠনটি হামলার দায় স্বীকার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পরপরই বিমানবন্দর এলাকায় বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা লাওয়ালি সালহা বিবিসিকে বলেন, প্রথমে তারা বিস্ফোরণের শব্দকে কোনো যানবাহনের টায়ার ফেটে যাওয়ার ঘটনা মনে করেছিলেন। পরে টানা গুলির শব্দে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন।

দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাইজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনা। বেসামরিক বিমান চলাচলের পাশাপাশি সেখানে দেশটির সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিও রয়েছে। এছাড়া সাহেল অঞ্চলের তিন দেশ-নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোকে নিয়ে গঠিত অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস (এইএস)-এরও বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে বিমানবন্দরটিতে।

কৌশলগত গুরুত্বের কারণে বিমানবন্দরটিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পুরো এলাকা নজরদারির জন্য ৩৫০টিরও বেশি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কট্টরপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লড়াই করছে নাইজারের সরকার ও সেনাবাহিনী। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও বিমানবন্দরটিতে হামলা চালিয়েছিল আইএস-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী। ওই হামলায় একজন সেনাসদস্য ও ২০ হামলাকারী নিহত হয়েছিলেন। বর্তমানে সামরিক সরকারের অধীনে থাকা নাইজারে হামলার পরপরই জেএনআইএমের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে না ভাবলেও চলবে, নিজের দিকে নজর দিন: ট্রাম্পকে মেলোনি

প্রকাশিত :  ০৮:২১, ২১ জুন ২০২৬

আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া জবাব দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ।

ট্রাম্প বলেছেন, ইতালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা নড়বড়ে অবস্থায় আছে। জি–৭ সম্মেলনে মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য কাকুতি–মিনতি করছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে ইরানকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র যে তৎপরতা চালাচ্ছে, তাতে মেলোনি যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এসব মন্তব্যকে ‘অর্থহীন’ ও ‘অকারণ আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছেন মেলোনি।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তার বিষয়ে বলতে গেলে, আপনার সঙ্গে বন্ধুত্বের বিষয়টি অবশ্যই এতে ভূমিকা রাখেনি। এটা আপনার সঙ্গে আমার সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না।’

মেলোনি আরও বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে আপনার না ভাবলেও চলবে। আমি বলব, আপনি নিজের দিকে মনোযোগ দিন।’

এর আগে গতকাল শনিবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, মেলোনি ইতালিতে রাজনৈতিকভাবে ভালো অবস্থায় নেই। ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতালির বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় সরঞ্জামগত গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

জবাবে মেলোনি বলেছেন, ইতালির সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত এবং চুক্তির প্রতি সব সময় সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় এ নীতি ভঙ্গ করা সম্ভব নয়।

এর আগে গত শুক্রবার মেলোনি বলেছেন, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি–৭ বৈঠকের সময় ছবি তোলার জন্য তিনি কাকুতি–মিনতি করেছিলেন বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা তাঁকে (মেলোনি) বিস্মিত করেছে।

দুই নেতার মধ্যে চলা এ পাল্টাপাল্টি কথাবার্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে ইরানে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের পর থেকে এমন পরিস্থিতি চলছে।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে তাঁর নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফরও বাতিল করেছেন।

জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। পরে মেলোনি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের সম্পর্ক আগের মতোই আছে এবং কোনো ধরনের বিরোধ হয়নি। তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্প ইতালির এলএ সেভেন টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মেলোনি নাকি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য কাকুতি–মিনতি করেছিলেন। এতে মেলোনির জন্য তাঁর মায়া হয়েছিল।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলায় তিনি সম্ভবত খুশি হয়েছেন।’

এলএ সেভেন টেলিভিশন চ্যানেলটি ট্রাম্পের মূল ইংরেজি বক্তব্য সরাসরি প্রকাশ না করে ইতালির ভাষায় ডাবিং করে প্রচার করেছে। জবাবে মেলোনি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে বলেন, তিনি ট্রাম্পের এ মন্তব্যে অত্যন্ত হতবাক হয়েছেন।

মেলোনি বলেন, ‘আমি জানি না, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের প্রতি এভাবে আচরণ করেন। এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। কিন্তু তাঁকে (ট্রাম্প) একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমি বা ইতালি কেউই কখনো মিনতি করি না।’

মেলোনির এ মন্তব্য ইতালির রাজনৈতিক পরিসরের বিভিন্ন মহল থেকে সমর্থন পেয়েছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকেই ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কে ফাটল ধরে। সে সময় পোপ চতুর্দশ লিওর সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তখন ট্রাম্পের সে সমালোচনা অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দেন মেলোনি।

একসময় দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। মেলোনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর