img

খামেনির শেষ বিদায়, তেহরানে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৯:০৬, ২৩ জুন ২০২৬

খামেনির শেষ বিদায়, তেহরানে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় ও জানাজা উপলক্ষে রাজধানী তেহরানে টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফন প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৬ জুলাই রাজধানীতে আনুষ্ঠানিক জানাজা ও শেষ বিদায়ের আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তেহরান প্রদেশে তিন দিন সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে।

পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কুমে আরেকটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে তাকে চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে।

ইসলামি বিপ্লবের নেতা খামেনি প্রায় ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিন তিনি নিহত হন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কেবল একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ক্ষমতার রূপান্তরের প্রতীক হিসেবেও এটিকে দেখা হচ্ছে। অনুষ্ঠানগুলোতে দেশজুড়ে লাখো মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ইরানজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান চুক্তি নিয়ে সমালোচকদের ‘শিক্ষিত’ হতে বললেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৫:৩৭, ২৪ জুন ২০২৬

তেহরানের সঙ্গে হওয়া নতুন দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানা এবং বিষয়টি নিয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের দলের প্রভাবশালী সিনেটর টেড ক্রুজের তীব্র বিরোধিতার জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমার বন্ধু হলেও যারা এ চুক্তির সমালোচনা করছেন, তাদের বিষয়টি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে হবে। কারণ ইরানকে আমরা এমন এক অবস্থানে নিয়ে এসেছি, যেখানে আগে কোনো প্রশাসন যেতে পারেনি।’ তবে ট্রাম্পের এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের মধ্যেই মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসে তার এই নীতি নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তীব্র হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের আইনপ্রণেতারাই অভিযোগ তুলেছেন যে ইরানের সঙ্গে হওয়া এই সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে কংগ্রেসকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং না দেওয়ায় ক্যাপিটাল হিলে অনেকেই প্রকাশ্য উদ্বেগ জানিয়েছেন। বিশেষ করে রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ শুরু থেকেই ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া এবং স্বল্পমেয়াদে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয়গুলোর কঠোর বিরোধিতা করছেন।

হোয়াইট হাউসের এই নীতিকে ভুল আখ্যা দিয়ে এক কড়া বক্তব্যে সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন যে, ‘ইতিহাস প্রমাণ করে, আমাদের ক্ষতি করতে চায় এমন ধর্মতান্ত্রিক উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেয়া অত্যন্ত খারাপ সিদ্ধান্ত।’ 

তিনি স্পষ্ট জানান, ‘আমি চাই না আয়াতুল্লাহ সরকারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পয়সাও যাক।’ ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দাবি করলেও কংগ্রেসের সদস্যরা এখন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশের দাবি তুলছেন।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর