img

প্রথমবারের মতো অপারেশন সিঁদুরে নিহত সেনাদের নাম জানাল ভারত

প্রকাশিত :  ১৫:৪১, ২৬ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৫০, ২৬ জুন ২০২৬

প্রথমবারের মতো অপারেশন সিঁদুরে নিহত সেনাদের নাম জানাল ভারত

ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত ছয় সেনাসদস্যের পরিচয় প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং একজন ভারতীয় বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট রয়েছেন।

সরকার জানিয়েছে, এই ছয় বীর সেনাসদস্যের নাম নয়াদিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে (ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল) খোদাই করে সংরক্ষণ করা হবে।

নিহতরা হলেন— সুবেদার মেজর পবন কুমার, রাইফেলম্যান সুনীল কুমার, ল্যান্স নায়েক দিনেশ কুমার, অগ্নিবীর মুরালি নায়েক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার।

২০২৫ সালে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে প্রাণ উৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের পূর্ণ তালিকার সঙ্গেই প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয়েছে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ নিহত এই ছয় সদস্যের নাম।

জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধের ‘ত্যাগ চক্র’ দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের স্মরণে নির্মিত। ১৬টি বৃত্তাকার গ্রানাইট দেয়াল নিয়ে গঠিত এই অংশে স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী প্রতিটি সেনাসদস্যের নাম, পদবি ও ইউনিট খোদাই করা রয়েছে। এবার সেই স্মৃতিফলকে যুক্ত হচ্ছে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ নিহত এই ছয় সেনাসদস্যের নামও।

গত বছরের ৭ মে, জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে কথিত সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারত। ওই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’।

এর জবাবে পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে আকাশযুদ্ধ, ড্রোন হামলা এবং সীমান্তজুড়ে ব্যাপক গোলাবিনিময় শুরু হয়। চার দিন ধরে চলা এই সংঘাত ১০ মে শেষ হয়।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ‘সিঁদুর’ নামটি প্রতীকী অর্থে বেছে নেওয়া হয়েছিল। হিন্দু বিবাহিত নারীদের সিঁথিতে ব্যবহৃত লাল সিঁদুরকে প্রতীক হিসেবে নিয়ে পেহেলগাম হামলায় নিহতদের স্ত্রীদের ‘বিধবা হওয়ার’ ঘটনার প্রতিশোধের বার্তা তুলে ধরতেই এই নামকরণ করা হয়েছিল।

সূত্র: এনডিটিভি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানসহ চার দেশের সঙ্গে যু’দ্ধে ইসরায়েলের ব্যয় ২০৫ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশিত :  ১৫:৩৩, ২৬ জুন ২০২৬

গত প্রায় তিন বছরে, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের মোট ব্যয় প্রায় ২০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম জমান ইসরায়েল (দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের হিব্রু সংস্করণ) তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে সংঘাতগুলোর কারণে সরকারি অর্থব্যয়, উৎপাদন ক্ষতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ব্যাংক অব ইসরায়েলের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, যুদ্ধগুলোর কারণে ইসরায়েল সরকারের সরাসরি ব্যয় ১১৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

এর মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭১.২ বিলিয়ন ডলার। ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হয়েছে ৯.৬ বিলিয়ন ডলার, বিভিন্ন বেসামরিক খাতে ব্যয় হয়েছে ১৬.৭ বিলিয়ন ডলার, আর সরকারি ঋণ বৃদ্ধির ফলে সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে যে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে, তার মূল্য প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার।

এতে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক চাপ শুধু সরকারি ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের অর্থনীতিতে উৎপাদন ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫১.৯ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হয়েছে।

অর্থনীতির ওপর নজিরবিহীন চাপ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিলে উৎপাদন ক্ষতির পরিমাণ ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সরকারি ব্যয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা এবং উৎপাদন ক্ষতি একসঙ্গে হিসাব করলে সংঘাতগুলোর মোট অর্থনৈতিক ব্যয় প্রায় ২০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই হিসাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ না পাওয়া ব্যক্তিগত ক্ষতি কিংবা বেসরকারি খাতের সব ধরনের লোকসান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে এই অর্থনৈতিক বোঝা আরও বাড়তে পারে।

এছাড়া সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় করের হার বেড়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর প্রভাব বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর বেশি পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক সময় হিসেবে উল্লেখ করেছে। এতে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধগুলোর অর্থনৈতিক প্রভাব আগামী বহু বছর ধরে দেশটির ওপর বহাল থাকতে পারে।


সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর