img

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা

প্রকাশিত :  ০৬:৪৪, ২৭ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা

ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ‘আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক হবে।’

এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই জাহাজে হামলার জন্য তেহরান দায়ী।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে হামলা এবং এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সে আশাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে নতুন সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারকে আবারও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার দিনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সতর্কবার্তা দেন। তিনি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলিতে হওয়া হামলাকে ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন।

ওই সমঝোতায় ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে’ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। এর মাধ্যমে মূলত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ এবং তেহরানের পাল্টা হামলা স্থগিত হয়।

তবে এ সমঝোতা চূড়ান্ত কিছু ছিল না; বরং এটিকে পরবর্তী আলোচনার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশিত :  ০৭:৫৪, ২৭ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক দিনের আলোচনা শেষে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবানন একটি ‘কাঠামোগত’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির ঘোষণা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করবে। এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

তবে চুক্তি সই হলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমিত সংঘর্ষ এখনও চলছে। বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।

শুক্রবারের (২৬ জুন) এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি। ফলে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তারা যোদ্ধা সরিয়ে নেবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।

ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তি সমঝোতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ওই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘর্ষ বন্ধের অঙ্গীকার রয়েছে।

১৪ দফার এই চুক্তিতে ইসরাইল ও লেবানন একে অপরের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকার স্বীকার করেছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও সার্বভৌম প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে একসঙ্গে বসবাসের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছে।

দুই দেশ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করেছে। এ ছাড়া বন্দিদের মুক্তি এবং নিহতদের মরদেহ ফেরত দেওয়ার বিষয়েও একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজনে আত্মরক্ষার অধিকার থেকে কোনো দেশই বঞ্চিত হবে না।

চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) পুরো দেশের ওপর কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। তবে তার আগে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হবে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও বিশেষ করে আরব দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছে লেবানন।

চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় একটি সামরিক সমন্বয়কারী দলও গঠন করা হবে।

কূটনৈতিকভাবে এই চুক্তি ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও লেবাননের পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে সীমান্তে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক দিনে সংঘর্ষের মাত্রা কিছুটা কমেছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।

অন্যদিকে চুক্তি সইয়ের পরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন ছাড়বে না। বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ এলাকা দখল করে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লেবাননের সেনাবাহিনীকে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি এলাকায় দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—একটি লিতানি নদীর দক্ষিণে এবং অন্যটি উত্তরে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪ হাজার ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৬০০ জনের বেশি এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২ লাখেরও বেশি মানুষ।

অন্যদিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সংঘাতে সীমান্তের দুই পাশে ৩৬ জন ইসরাইলি সেনা এবং ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর