img

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন মা

প্রকাশিত :  ০৭:৩২, ২৭ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন মা

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিজের ছোট মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক মা। নিহত ওই নারীর নাম আন্দ্রেয়া। তিনি দেশটির ফুটবলার Héctor Bello-এর স্ত্রী ছিলেন।

স্ত্রীকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন এক পোস্টে হেক্টর বেলো জানান, তার স্ত্রী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের ছোট্ট মেয়েকে আগলে রেখেছিলেন।

তিনি লেখেন, ‘একদিন আমি আমাদের মেয়েকে বলব, কীভাবে তুমি তাকে বাঁচিয়েছিলে। বলব, নিজের জীবন দিয়ে তুমি তাকে রক্ষা করেছ। তুমি ছিলে এক সাহসী মা, যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত  নিজের সন্তানকে ছেড়ে যায়নি।’

হেক্টর বেলো জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত কারাকাসে যান। সেখানে তার মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার মেয়ে ও তার খালা ভালো আছে।  তবে আজ তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া হচ্ছে না। এই অসহনীয় কষ্টের সময় পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’

আরেকটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লেখেন, ‘আমি কীভাবে আমার মেয়েকে বোঝাব, তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা নিজের জীবন দিয়েছে? আমি তখন সেখানে ছিলাম না, কিছুই করতে পারিনি। আমাকে শক্তি দাও।’

এদিকে, ভেনেজুয়েলার ক্রীড়া সংগঠন কুমানা দে কাম্পেওনেসজানিয়েছে, ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে হেক্টর বেলোর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একই ভবনে থাকা তাদের ছোট মেয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনও আন্দ্রেয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে আরও অনেকের মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

ভেনেজুয়েলা ফুটবল ফেডারেশন (এফভিএফ) এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দুই ফুটবলারও এই দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন।

কারাকাস ফুটবল ক্লাব জানিয়েছে, তাদের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলোয়াড় রাজান সিজা লা গুয়াইরায় নিজের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ক্লাব স্পোর্ট সান আগুস্তিন জানিয়েছে, তাদের একাডেমির খেলোয়াড় ভিক্টর পালাসিওসও ভূমিকম্পে মারা গেছেন। ক্লাবটির ভাষ্য, ‘তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

সাবেক মিস ভেনেজুয়েলা গিসেল রেয়েস জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে লা গুয়াইরায় তার মায়ের ভবন পুরোপুরি ধসে পড়ে। আতঙ্ক ও ধাক্কায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান।

রেয়েস জানান, তার মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এক নার্স জীবিত উদ্ধার হয়েছেন এবং তিনিই এই দুঃসংবাদটি পরিবারকে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৪ জুন) রাজধানী কারাকাসের কাছে আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন নিহত এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও জীবিতদের খুঁজে চলেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশিত :  ০৭:৫৪, ২৭ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক দিনের আলোচনা শেষে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবানন একটি ‘কাঠামোগত’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির ঘোষণা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করবে। এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

তবে চুক্তি সই হলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমিত সংঘর্ষ এখনও চলছে। বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।

শুক্রবারের (২৬ জুন) এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি। ফলে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তারা যোদ্ধা সরিয়ে নেবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।

ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তি সমঝোতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ওই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘর্ষ বন্ধের অঙ্গীকার রয়েছে।

১৪ দফার এই চুক্তিতে ইসরাইল ও লেবানন একে অপরের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকার স্বীকার করেছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও সার্বভৌম প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে একসঙ্গে বসবাসের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছে।

দুই দেশ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করেছে। এ ছাড়া বন্দিদের মুক্তি এবং নিহতদের মরদেহ ফেরত দেওয়ার বিষয়েও একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজনে আত্মরক্ষার অধিকার থেকে কোনো দেশই বঞ্চিত হবে না।

চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) পুরো দেশের ওপর কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। তবে তার আগে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হবে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও বিশেষ করে আরব দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছে লেবানন।

চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় একটি সামরিক সমন্বয়কারী দলও গঠন করা হবে।

কূটনৈতিকভাবে এই চুক্তি ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও লেবাননের পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে সীমান্তে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক দিনে সংঘর্ষের মাত্রা কিছুটা কমেছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।

অন্যদিকে চুক্তি সইয়ের পরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন ছাড়বে না। বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ এলাকা দখল করে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লেবাননের সেনাবাহিনীকে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি এলাকায় দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—একটি লিতানি নদীর দক্ষিণে এবং অন্যটি উত্তরে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪ হাজার ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৬০০ জনের বেশি এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২ লাখেরও বেশি মানুষ।

অন্যদিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সংঘাতে সীমান্তের দুই পাশে ৩৬ জন ইসরাইলি সেনা এবং ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর