img

হামলা বন্ধে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, মঙ্গলবার কাতারে বৈঠক

প্রকাশিত :  ০৫:২০, ২৯ জুন ২০২৬

হামলা বন্ধে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, মঙ্গলবার কাতারে বৈঠক

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একে অন্যের বিরুদ্ধে চালানো হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে । মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো।

মার্কিন গণমাধ্যম বলছে, কাতারে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা হবে এ বৈঠকে।

যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ১৭ জুন একটি সমঝোতায় সই করেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা। এর মধ্য দিয়ে বিবদমান দেশ দুটির মধ্যে আলোচনার পথ খোলে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার আশা দেখা দেয়।

৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরুও করে ওয়াশিংটন–তেহরান। কিন্তু সমঝোতা বেশ ভঙ্গুর। আলোচনার মধ্যেই সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে একটি নিরাপদ পথের নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের।

মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে গতকাল রোববার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘আমরা সব ধরনের সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আরও একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে একই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আপাতত উভয় পক্ষই সংঘাত থেকে সরে দাঁড়াবে। জাহাজগুলো অবাধে চলাচল করতে পারবে। কারণ, আলোচনা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ দুই সরকারি কর্মকর্তা এবং বিষয়টির সঙ্গে জানাশোনা রয়েছে এমন আরও একটি সূত্র নিশ্চিত করেন যে আগামীকাল মঙ্গলবার কাতারে দুই পক্ষ আবারও বসতে যাচ্ছে—জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে একই কথা জানান। তিনি সিএনএনকে বলেন, এখন থেকে দুই পক্ষ আর সংঘাতে জড়াবে না। আরও বিশদ আলোচনার জন্য তারা মঙ্গলবার কাতারের দোহায় আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।

তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক কার্যক্রম চালু রাখার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে শনিবার তিনি বলেন, ইরান হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে আবারও যুদ্ধে ফিরবে। আর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে বাধ্য হলে ইরানের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এএফপি। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাৎ, বিপাকে মোদি সরকার

প্রকাশিত :  ১০:২৬, ২৯ জুন ২০২৬

ভারতের অযোধ্যায় সদ্য নির্মিত রাম মন্দিরে কোটি কোটি টাকার অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার চরম রাজনৈতিক অস্বস্তিতে পড়েছে।

আজ সোমবার (২৮ জুন) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট নামক একটি স্বাধীন সংস্থা এই মন্দিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। এই মাসের শুরুতে ট্রাস্টের হিসাবরক্ষণ দলের সাবেক পরিদর্শক মহিপাল সিং প্রথমবার মন্দিরের আর্থিক তহবিলের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসেন। এর পরপরই উত্তর প্রদেশের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দাবি করেন যে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি রুপির অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী গায়েব করা হয়েছে।

এই তীব্র গণ-অসন্তোষ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে উত্তর প্রদেশের সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। রাজ্য পুলিশ একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে নগদ টাকা ও মূল্যবান উপহার সামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকা আটজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার জেরে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়সহ বেশ কয়েকজন ট্রাস্টি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

উদ্বেগজনক এই অর্থ আত্মসাতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দাতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ভক্ত এখন ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের কাছে তাদের দেওয়া সোনার গহনা এবং রুপার ইটের বর্তমান হিসাব জানতে চাইছেন। অযোধ্যার বাসিন্দা ব্রজেশ কুমার জানান, ‘ট্রাস্টের কর্মকর্তারা আমাদের বিশ্বাসের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং আমাদের ধর্মীয় আবেগকে লুট করেছে।’

এমনকি ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলায় অভিযুক্ত এবং পরবর্তীতে খালাস পাওয়া রাম মন্দির আন্দোলনের নেতা সন্তোষ দুবেও এই দুর্নীতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জানান যে, ‘কিছু ধূর্ত ও লোভী চোর এখন এই রাম মন্দির পরিচালনা করছে।’ তিনি এই আর্থিক অপরাধের জন্য জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশীদ কিদওয়াইয়ের মতে এই দুর্নীতি আসন্ন উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ওপর একটি বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভারতের সবচেয়ে জনবহুল এই রাজ্যে আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রাজনীতি করার এই চড়া মূল্য এবার মোদি সরকারকে দিতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: আল জাজিরা