img

যুক্তরাজ্যে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

প্রকাশিত :  ০৭:০৩, ০২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:০৪, ০২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

আনসার আহমেদ উল্লাহ, লন্ডন, যুক্তরাজ্য: একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিশহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২৬ জুন শুক্রবার পূর্বলন্ডনে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কমিটির উপদেষ্টা ও সাবেকমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন গণতন্ত্রী পার্টিরপ্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল আলম বাবলু,অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন তাপস কান্তি বাউল।উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হরমুজ আলী স্বাধীন খসরু,সায়েদ আহমেদ সাদ,সৈয়দ এহসান,আব্দুল হান্নান,আনিছুর রহমান আনিছ,আব্দুল বাছির, সুসান্ত দাস গুপ্ত,কাউন্সিলর পুস্পিতা দেব রায়,ফরিদ আহমেদ ঈমন প্রমুখ।উপস্থিত ছিলেন,সাবেক সভাপতি নুরউদ্দিন আহমেদ,মতিয়ার চৌধুরী,ড.আনছার আহমেদ উল্লাহ,শাহাবুদ্দিন বাচ্চু,জামাল আহমেদ খান,নয়নিকা ঘোষ,মুশফিক জায়গীরদার।

আলোচনার বিষয় ছিল “ফিরে দেখা: ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন ওশহীদ জননী জাহানারা ইমাম”। বক্তারা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেজাহানারা ইমামের অবদান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তাঁর দীর্ঘ আন্দোলন এবং ১৯৯২ সালের গণআদালত কর্মসূচির তাৎপর্য তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণআদালত আন্দোলনপরবর্তীকালে ২০১৩ সালের শাহবাগভিত্তিক গণজাগরণ মঞ্চের আদর্শিকভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে নতুন প্রজন্মেরআন্দোলনে রূপ দেয়। যুক্তরাজ্য একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিরএক মুখপাত্র বলেন, “জাহানারা ইমামের সাহস ও আদর্শ আজও আমাদেরঅনুপ্রাণিত করে। তাঁর আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে এবং শাহবাগআন্দোলনের সঙ্গে তাঁর ভাবনার ঐতিহাসিক যোগসূত্র নিয়ে আলোচনাকরতেই যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিরা আজ একত্রিত হয়েছেন।”

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ‘শহীদ জননী’ নামে সর্বাধিক পরিচিত। ১৯৯২সালে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত গণআদালত আন্দোলন বাংলাদেশেরমুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে জনমত গড়ে তুলতেগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, ন্যায়বিচার, ইতিহাস সংরক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে তাঁর অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

বৃটিশ-বাংলাদেশীদের ৫০ বছরের জীবন-সংগ্রাম নিয়ে বিশেষ নাটক “উই স্টেইড” মঞ্চায়ন হবে শনিবার

প্রকাশিত :  ১২:০৭, ০২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫২, ০২ জুলাই ২০২৬

লন্ডন ২ জুলাই ২০২৬ : কমিউনিটি সংগঠন ইস্টএন্ড কানেকশন-এর উদ্যোগে আগামী ৪ জুলাই শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় পূর্ব লন্ডনের টয়েনবী হলে মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে বিশেষ নাটক “উই স্টেইড”। ড. মোহাম্মদ আহমদ উল্লাহ রচিত একটি গল্পে নাট্যরূপ দিয়েছেন ড. ক্যানান সালিহ । এই নাটকে বৃটিশ-বাংলাদেশীদের ৫০ বছরের (১৯৫০-২০০০) জীবন-সংগ্রাম স্বপ্ন ও সাফল্যের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে ।

মূলত: কমিউনিটি সংগঠন ইস্টএন্ড কানেকশন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল লটারি ফান্ডের অর্থায়নে বৃটিশ-বাংলাদেশীদের ৫০ বছরের জীবন সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণে ‘স্টোরিজ অব স্ট্রাগলস অ্যান্ড স্ট্রাইডস’ -শীর্ষক একটি প্রজেক্ট গ্রহণ করে । এই প্রজেক্টের অধীনে শনিবার ‘উই স্টেইড” নাটকটি মঞ্চায়ন হবে । এছাড়া একই প্রজেক্টের অধীনে বৃটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির আন্দোলন-সংগ্রাম, বর্ণবাদ-বিরোধী লড়াই এবং কমিউনিটি গঠনের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য একটি ইতিহাসগ্রন্থ প্রকাশিত করবে । ৭শ’ পৃষ্ঠার বইটি আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে ।

প্রকাশিতব্য গ্রন্থের জন্য তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ১২ জন নারি-পুরুষকে নিয়োগ করা হয়েছে । তাদেরকে মৌখিক ইতিহাস সংগ্রহ, গবেষণা, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ ও ঐতিহাসিক তথ্য উপস্থাপনের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে । তাঁরা প্রবীণ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সংগ্রামে সহায়তাকারী অ-বাংলাদেশি ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার গ্রহণে কাজ করছেন ।

ইস্ট এন্ড কানেকশন-এর সেক্রেটারি বদরুল আলম বলেন, ৭০ ও ৮০-এর দশকে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশিরা ভয়াবহ বর্ণবাদী হামলা, দারিদ্র্য, নিম্নমানের আবাসন, শিক্ষাবঞ্চনা ও সামাজিক বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন । এসব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংগঠিত আন্দোলন, সামাজিক উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা বর্তমানের বহুসাংস্কৃতিক টাওয়ার হ্যামলেটস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন । কিন্তু সেই ইতিহাসের বড় অংশ এখনও যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি । সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সময়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে । ফলে তাদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ সংরক্ষণের জন্য আমরা এই প্রজেক্ট গ্রহণ করেছি।

ইস্ট এন্ড কানেকশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “হেরিটেজ ফান্ডের অনুদান পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত । এই ব্যতিক্রমধর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে গৃহিত প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি । তিনি বলেন, “ইস্ট এন্ড কানেকশন একটি তৃণমূলভিত্তিক কমিউনিটি সংগঠন । আমরা স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে দক্ষতা উন্নয়ন, অনুপ্রেরণা এবং সামাজিকভাবে এগিয়ে নিতে কাজ করি । এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার জন্য হেরিটেজ ফান্ড এবং ন্যাশনাল লটারির প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।




কমিউনিটি এর আরও খবর