img

বাবার মৃত্যুশোকে পেনাল্টিতে শট নেননি লুকাকু

প্রকাশিত :  ০৭:৫৯, ০২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:১৩, ০২ জুলাই ২০২৬

বাবার মৃত্যুশোকে পেনাল্টিতে শট নেননি লুকাকু

নাটকীয় জয়ে সেনেগালের বিপক্ষে বেলজিয়াম যখন শেষ ষোলো নিশ্চিত করে, তখন আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন রোমেলু লুকাকু। অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টি নিজে না নিয়ে সতীর্থ ইউরি টিলেমান্সকে সুযোগ দেন এই তারকা স্ট্রাইকার। পরে তিনি জানালেন, বাবার মৃত্যুশোক সামলে ওঠার সংগ্রামই তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

এদিন টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও গোল করেন লুকাকু। দলের প্রত্যাবর্তনের সূচনাও আসে তার পা থেকেই। তবে অতিরিক্ত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি পেলে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তিনিই শট নেবেন। কিন্তু তিনি বল হাতে নিয়েও তা ইউরি টিলেমান্সের কাছে তুলে দেন। টিলেমান্স সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে লুকাকু বলেন, হ্যাঁ, আমি চাইলে পেনাল্টি নিতে পারতাম। কিন্তু মানসিকভাবে আমি এখনও খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তাই আমি চেয়েছিলাম ইউরি (টিলেমান্স) পেনাল্টিটি নিক। আমার ব্যক্তিগতভাবে জেতার দরকার নেই, জিততে হবে দলকে। সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছে, ইউরির নেওয়াই ভালো হবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৫৮ বছর বয়সে মারা যান লুকাকুর বাবা রজার লুকাকু, যিনি জায়ারের (বর্তমান কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র) সাবেক জাতীয় দলের স্ট্রাইকার ছিলেন। বাবার মৃত্যুর ধাক্কা লুকাকুকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। কাকতালীয়ভাবে, ইতালির নাপোলিতে তার মৌসুমও প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ কাটে- মাত্র সাত ম্যাচে একটি গোল করেন তিনি।

এই বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাননি লুকাকু। তবে শেষ দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে নিউজিল্যান্ড ও সেনেগালের বিপক্ষে গোল করেন। মজার বিষয়, দুটি গোলই এসেছে একই মিনিটে- দ্বিতীয়ার্ধের ৪১তম মিনিটে।

নিজের এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে লুকাকু বলেন, আমার মনে হয়, ওপরে বসে আমার বাবাই আমাকে সাহায্য করছেন।

শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ার পর বেলজিয়ামের পরবর্তী প্রতিপক্ষ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। এই জয়ের পর দলের মানসিক দৃঢ়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন লুকাকু। তার ভাষায়, আমরা পিছিয়ে ছিলাম, কিন্তু দারুণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছি। এ ধরনের ম্যাচে ঠিক এটাই দরকার, কারণ সেনেগাল এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল। প্রযুক্তিগত, শারীরিক ও কৌশলগত সব দিক থেকেই। ম্যাচটা খুব কঠিন ছিল।

তিনি আরও বলেন, তবে আমরা প্রেসিংয়ের তীব্রতা বাড়িয়েছিলাম এবং বল দখলে নেওয়ার পর দলের ঐক্য ও লড়াইয়ের মানসিকতা ফুটে উঠেছিল। এভাবেই আমরা জিতেছি। এই ধরনের জয় আমাদের দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে। আমরা সবসময়ই একতাবদ্ধ, তবে এমন জয় দলের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।


খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

জকিগঞ্জে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে তর্কের জেরে চাচাতো ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশিত :  ০৯:৩১, ০২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৫, ০২ জুলাই ২০২৬

সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় চিৎকার করাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আলম আহমদ নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

গতকাল বুধবার (১ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের লামারগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আলম আহমদ (২৮) লামারগ্রামের ওয়ারিছ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিুযক্ত যুবককেও আটক করেছে। তার নাম পারভেজ আহমদ (৩২)। সে একই গ্রামের মোস্তাকিন আলীর ছেলে এবং নিহতের আপন চাচাতো ভাই।

জকিগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার শেষ সময় চিৎকার করাকে কেন্দ্র করে পারভেজ আহমদ ও আলম আহমদের মধ্যে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পারভেজ ঘর থেকে ছুরি এনে আলমকে আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আলম আহমদকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পারভেজ আহমদকে আটক করেছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খেলা দেখার সময় চিৎকার করাকে কেন্দ্র করে দুই চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযান চালিয়ে ঘাতক যুবককে আটক করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।