img

তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৭:০৬, ০৫ জুলাই ২০২৬

তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে তার পরিবারের আরও চার সদস্যের জানাজাও আদায় করা হয়।

\r\n

রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টা) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শিয়া ধর্মীয় নেতা জাফর সোবহানি জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়, জানাজার নামাজ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই মোসাল্লার প্রধান প্রাঙ্গণ মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়।

জানাজার নামাজ তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্য নামাজ আদায় করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে তার পরিবারের সদস্য সাইয়্যেদে বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেসবাহ আল-হোদা বাকেরি এবং জাহরা হাদ্দাদ আদেলর জন্য জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় ধাপে তার নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির জন্য জানাজার নামাজ আদায় করা হয়।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার চার মাসেরও বেশি সময় পর, দেশটিতে তার জন্য নয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকপালন ও শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রা ঘোষণা করা হয়।

শুক্রবার থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাবেক এই আয়াতুল্লাহর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়।

শনিবার সকাল স্থানীয় সময় ভোর ছয়টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, সেখানে দর্শনার্থীরা রোববার বিকাল পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৬ বছর।

কর্মসূচি অনুযায়ী, ৭ জুলাই খামেনির মরদেহ কোম শহরে নেওয়া হবে। ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ এবং কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই ইমাম রেজা মাজারে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।


img

হরমুজ প্রণালীতে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা দেবে ইরান

প্রকাশিত :  ০৯:৪৮, ০৫ জুলাই ২০২৬

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও দাফনে অংশ নেওয়ায় বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, এত বিপুল আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় স্মারক হয়ে থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি সম্মান জানাতে ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি এসেছেন। এর মধ্যে আমাদের বিশ্বস্ত আরব ভাইয়েরাও রয়েছেন। তাঁদের এ উপস্থিতি ইরানকে আনন্দিত করেছে।’

চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রেজা রহমানি ফাজলি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নতুন করে সার্ভিস ফি আরোপ করতে যাচ্ছে তেহরান। তবে চলমান সংকটে যেসব দেশ ইরানের পাশে ছিল, সেগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।
আরাগচি বলেন, ‘এ ঐতিহাসিক স্মৃতি আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের পথচলায় আজীবন অম্লান থাকবে।’ খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে তেহরানে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হচ্ছেন।

এদিকে চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রেজা রহমানি ফাজলি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নতুন করে সার্ভিস ফি আরোপ করতে যাচ্ছে তেহরান। তবে চলমান সংকটে যেসব দেশ ইরানের পাশে ছিল, সেগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্র এ ফি চালুর বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করলেও ইরান নিজদের সিদ্ধান্তে অটল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিতে উল্লেখ আছে, প্রথম ৬০ দিন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো ফি ছাড়াই এ প্রণালি পার হতে পারবে। তবে ওই নির্দিষ্ট সময়ের পর কী নিয়ম কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

কঠিন সময়ে যেসব দেশ আমাদের বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছিল, নতুন এ ফি আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের বিষয়টি বিবেচনা করব।
এদিকে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে অংশ নিয়ে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথের জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা তৈরিতে ওমানের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করছে ইরান।

ফাজলি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির একটি অংশ আমাদের জলসীমার মধ্যে পড়ে। তাই আমরা অবশ্যই সেখানে সার্ভিস ফি ধার্য করব।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো টোল বা জোরপূর্বক কর নয়।

নতুন ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে ফাজলি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, নৌযানগুলোর চলাচল তদারকি করা এবং বিপুলসংখ্যক জাহাজের কারণে পরিবেশের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তা মোকাবিলা করাই আমাদের লক্ষ্য।’

হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, নৌযানগুলোর চলাচল তদারকি করা এবং বিপুলসংখ্যক জাহাজের কারণে পরিবেশের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তা মোকাবিলা করাই আমাদের লক্ষ্য।
আবদুর রেজা রহমানি ফাজলি, চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত
বিপদের বন্ধুদের আশ্বস্ত করে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘কঠিন সময়ে যেসব দেশ আমাদের বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছিল, নতুন এ ফি আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের বিষয়টি বিবেচনা করব।’

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর