img

ন্যাটো সম্মেলনের আগে ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা রাশিয়ার, নিহত ২০

প্রকাশিত :  ০৫:৪৭, ০৭ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৪৯, ০৭ জুলাই ২০২৬

ন্যাটো সম্মেলনের আগে ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা রাশিয়ার, নিহত ২০
এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে ইউক্রেনে দ্বিতীয় দফায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে রাজধানী কিয়েভে ১৪ জনসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। হামলার ফলে এক ডজনের বেশি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) ভোরের দিকে চালানো এই হামলায় অন্তত ৪৬ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো। খবর আল জাজিরার। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিয়েভের আশেপাশের জেলাগুলোতে আরও ছয়জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে,  রাতভর রাশিয়া ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর রাত ২টা ১০ মিনিট এবং ৩টা ১৫ মিনিটে আরও কয়েকটি হামলা চালানো হয়। অনলাইন নিউজ পোর্টালটি আরও জানায়, পুরো ইউক্রেন জুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠলে হাজার হাজার বাসিন্দা ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেন।

এর আগে, রোববার (৫ জুলাই) রাতে দেওয়া এক ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, চলতি সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে রাশিয়া আরেকটি হামলা চালাতে পারে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তার।

গত সপ্তাহের শেষের দিকে কিয়েভে ডজন খানেক ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত শত ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া। সেই হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। চলতি বছরে কিয়েভে চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী।

এদিকে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের একটি সমাধান ‘মানুষ যতটা ভাবছে তার চেয়েও কাছাকাছি চলে এসেছে’। যদিও যুদ্ধবিরতির আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

img

জোড়া টর্নেডোর আঘাত, চীনে নিহত ১১

প্রকাশিত :  ১০:৪৫, ০৭ জুলাই ২০২৬

দুইটি শক্তিশালী টর্নেডো সমধ্য চীনের হুবেই প্রদেশে আঘাত হেনেছে। সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যার এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১১ জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

 চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় চার ঘণ্টা ধরে হুয়াংশি, হুয়াংগাং, ইঝো এবং শিয়াননিং শহরের ওপর দিয়ে এই বিধ্বংসী ঝড় বয়ে যায়।

টর্নেডোর সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪৯ কিলোমিটার (৯৩ মাইল)। ঝড়ের প্রচণ্ড শক্তিতে বহু গাড়ি উল্টে গেছে, ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গেছে এবং গাছপালা উপড়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রধান শিল্প ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হুবেই প্রদেশে টর্নেডোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, ঝড়ের তীব্রতায় হুয়াংগ্যাং শহরের রাস্তাঘাটে বড় বড় ট্রাক ও গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে। উড়ে আসা ভবনের ছাদ ও ধাতব পাত লেগে বহু যানবাহন ও ল্যাম্পপোস্ট বিকৃত হয়ে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চীনের আবহাওয়া দিন দিন চরম রূপ নিচ্ছে।

মুষলধারে বৃষ্টি, বন্যা, ভূমিধস ও তীব্র দাবদাহের কারণে প্রতি বছর দেশটির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। পশ্চিম চীনের গানসু প্রদেশের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির পর ভূমিধসে ১৬ জন নিখোঁজ হয়েছেন। দেশের এই সামগ্রিক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে এবং মানুষের জীবন রক্ষায় ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

টর্নেডোর ধাক্কা কাটতে না কাটতেই চীন ও তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ‘সুপার টাইফুন বাভি’। বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে থাকা এই ঝড়টি চীনের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) তাইওয়ানে এই টাইফুনের প্রভাবে এক মিটারেরও (৩.৩ ফুট) বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলা ও জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তাইওয়ান সরকার প্রায় ২৯,০০০ সেনা সদস্যকে প্রস্তুত রেখেছে। এ ছাড়া চীনের গুয়াংসি, গুয়াংডং, হাইনান, জিলিন ও লিয়াওনিং প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে ভূমিধসের সতর্কতা জারি করেছে জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র।