img

শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ০৬:৩৬, ১৫ জুলাই ২০২৬

শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি বছরে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন । একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের ১৭ ও ১৮ নম্বর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিশুদের প্রতিভা ও মননশীলতার বিকাশে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ, কাবিং ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে এসব প্রতিযোগিতা জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিযোগিতায় দেশের স্কুল পর্যায়ের ২ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের হাতে অনুষ্ঠানে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ তুলে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ব্যক্তি পর্যায়ে ১৫টি ক্যাটাগরিতে ১২ হাজার ৩৮৪ জন এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুটি ক্যাটাগরিতে ৬৫ হাজার ৫৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ সম্মাননা লাভ করে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়নে রাজনীতিকরণ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৫:৩৭, ১৫ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৪৫, ১৫ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব যাদের ওপর ছিল, তারা সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে যখন দেশ স্বাধীন হলো এ সময় যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এ দায়িত্ব যাদের ছিল তারা সেটিকে সঠিকভাবে না করে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে এ তালিকা করেনি।’

এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এ তালিকা প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে আমরা চেষ্টা করব সঠিক যারা মুক্তিযোদ্ধা, সঠিক যারা শহীদ তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য।’ 

বুধবার (১৫ জুলাই) পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

একাত্তরের শহীদ পরিবারের ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা রুহুল আমীন দুলালের এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার দলের নির্বাচনি অঙ্গীকার মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যাগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয় গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।’

তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ও সকল শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহনযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।’

দলীয়করণমুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক  প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে আপনাকে একটু আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং শুধু তাই নয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দ্বারা গঠিত এই দল। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র একটি দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই আমি বলেছিলাম, দেশ স্বাধীনের পরে তাদের দায়িত্ব ছিলো সঠিকভাবে শহীদদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা, তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, তারা সেটা নিরপেক্ষভাবে সঠিকভাবে করেনি।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তিতে বিভিন্ন সময়ে এই লিস্ট তৈরিতে বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সরকার চেষ্টা করছে যাতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে নিয়ে একটির পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করতে পারি।’

এর আগে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকাল তিনটায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম ত্রিশ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্ব।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিলো ৭টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন। এরমধ্যে তিনি নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটে তিনটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও এই সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

জাতীয় এর আরও খবর