img

শিক্ষার্থীদের ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনে পাশে থাকবেন সালমান খান

প্রকাশিত :  ০৪:৩২, ২৩ জুলাই ২০২৬

শিক্ষার্থীদের  ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনে পাশে থাকবেন সালমান খান

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। তিনি বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সালমান খান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাহস ও ধৈর্যের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরা শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ অনুপ্রেরণাদায়ক। ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি গুরুতর ইস্যু’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হলে মূল ইস্যু আড়ালে পড়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন এই অভিনেতা।  শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এই হিংসাত্মক রূপ নেয়ায় তার খারাপ লাগার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজনীতি শুরু হতেই বার্তা দিয়ে সালমান খান বলেন, এই সমস্যাটি সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যকার। তাই এর মধ্যে কোনও রকম রাজনীতি আসা উচিত নয়।

তার মতে, এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ‘হাইজ্যাক’ করা উচিত নয় রাজনৈতিক দলগুলোর। সরকার দ্রুতই শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও দৃঢ় বিশ্বাস তার। 

এদিকে, নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে রাজধানী দিল্লিতে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দিল্লি পুলিশের এসিপিসহ অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। যদিও পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের হামলার মুখে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।

এ ইস্যুতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতাও বেড়েছে। কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। একই সঙ্গে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও অনশনে বসেছেন। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, গত এক দশকে দেশে অন্তত ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সংসদে আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, সালমান খানের আগে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি ও প্রকাশ রাজও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

 

img

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক অভিনেত্রী আয়েশা খান

প্রকাশিত :  ১৩:৩৭, ২৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৪২, ২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে মুম্বাইয়ের দাদার এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হন অভিনেত্রী আয়েশা খান। পরে তাকে ওরলি থানায় নেওয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম  এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এখন আমার হাত সত্যিই কাঁপছে। আমি শুধু শান্তভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমাকে পুলিশের ভ্যানে তুলে আটক করা হয়েছে।’

আয়শার দাবি, তিনি বিক্ষোভ শুরু করেননি। এর আগেই তার ভাই এবং কয়েকজন পুরুষ বন্ধুকে পুলিশ আটক করে। সেসময়ে তিনি শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। 

আয়শার শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, আর এক যুবক বলছেন, তার গণিতের পরীক্ষা রয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই তাকে আটক করা হয়েছে বলে তারও অভিযোগ। 

তিনি বলেন, যদি পরীক্ষা দিতে না পারেন, তা হলে বড় সমস্যায় পড়বেন। আর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আয়েশা পুলিশকর্মীদের জিজ্ঞেস করছেন, তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর তিনি পাননি। চার জন মহিলা পুলিশকর্মী জোর করে আয়শাকে ভ্যানে তুলছেন, এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। 

সেই ভিডিওর সঙ্গে তিনি লেখেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাকে ভ্যানে তুলতে চার জন মহিলা পুলিশকর্মী এসেছিলেন। কিন্তু আমি আবার একই প্রশ্ন করছি, কেন? আমি কি কোনও হইচই করেছি? আমি কি কোনও কথাবার্তা শুরু করেছিলাম? আমাকে কেন আটক করা হলো? শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য? আমি তো পাঁচ জনের দলের মধ্যেও ছিলাম না।

আয়শা পুরো ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যান। তাকে ওরলি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ভিডিওতে তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। আয়শা জানান, তিনি তার ভাই এবং কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে নিট পরীক্ষার্থীদের সমর্থনে দাদারে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতেই পুলিশ জানায়, ওই জায়গায় বিক্ষোভ করা যাবে না। এরপর তার ভাই এবং অন্য পুরুষ বন্ধুদের পুলিশের ভ্যানে তুলে আটক করা হয়।

আয়শার দাবি, তিনি তখন শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলেন, কী করবেন এবং কীভাবে তার ভাইয়ের খোঁজ পাবেন। সেই সময়ে প্রায় ১৫ জন পুলিশকর্মী এসে তাদের ভ্যানে উঠতে বলেন। তার অভিযোগ, জোর করে তাদের ভ্যানে তুলে ওরলি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে ভিডিওতে আয়শা ওরলি থানার পুলিশকর্মীদের প্রশংসাও করেন। প্রত্যেকে খুবই ভাল ব্যবহার করেছেন বলে জানান। যদিও তাঁকে কেন আটক করা হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো তাঁর কাছে স্পষ্ট নয় বলেও দাবি করেন তিনি।