img

মাদ্রাসা ও কারিগরিতেও বিএনসিসি চালুর উদ্যোগ

প্রকাশিত :  ০৭:৩২, ৩০ জুলাই ২০২৬

মাদ্রাসা ও কারিগরিতেও বিএনসিসি চালুর উদ্যোগ

শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সাধারণ স্কুল-কলেজের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে মাদ্রাসা, পলিটেকনিক এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিএনসিসির কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশব্যাপী বিএনসিসির কার্যক্রম বিস্তৃত করতে প্রথম পর্যায়ে উপজেলাগুলোতে পাইলট ভিত্তিতে তা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, কার্যক্রম পরিচালনায় গতি আনতে শিক্ষার্থীপ্রতি বার্ষিক চাঁদার হার ৪ টাকা বাড়িয়ে ১০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ষষ্ঠ, অষ্টম, নবম ও একাদশ শ্রেণি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্নাতক (ডিগ্রি ও অনার্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ভর্তি বা নিবন্ধনের সময় বছরে ৬ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বার্ষিক এই ফি বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বিএনসিসি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে প্রশিক্ষণ, ক্যাম্প ও প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে দেশব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও সফল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলা বিকাশের লক্ষ্যে মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে বিএনসিসির আওতায় আনার বিষয়ে সভায় নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের সম্পৃক্ত করে বিএনসিসির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও নৈতিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সে ক্ষেত্রে বিএনসিসি একটি কার্যকর সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ, কারিগরি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা ধারায় বিএনসিসি পরিচালনার জন্য অভিন্ন চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের বর্ধিত চাঁদার সমপরিমাণ অর্থ সরকারি বরাদ্দ থেকে প্রদানের ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিশ্চিত করতে বিএনসিসিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পূর্ণাঙ্গ প্লাটুন গঠনে সাধারণত ৩ থেকে ৫ হাজার শিক্ষার্থীর প্রয়োজন হয়। তাই শুরুতে শিক্ষার্থীসংখ্যা, অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বিবেচনা করে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মাদ্রাসা, পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিএনসিসির নতুন ইউনিট গঠন করা হবে

এই সিদ্ধান্তের আলোকেও ইতোমধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে দেশের সরকারি ও এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার প্রধানদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে বিষয়টি বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদেরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিএনসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক এক মতবিনিময় সভায় উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কার্যক্রম সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েকটি উপজেলায় বিএনসিসির কার্যক্রম চালু করে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকাসক্তি, লেখাপড়ায় অনাগ্রহ এবং ঝরে পড়ার প্রবণতা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিএনসিসির মতো সংগঠনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সঙ্গে বিএনসিসির সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিএনসিসি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসাসহ কয়েকটি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে নতুন প্লাটুন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি, সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরিদর্শনের কাজ শুরু হয়েছে।

মাদ্রাসায় বিএনসিসি চালু হলে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণের সুযোগই পাবে না; বরং নেতৃত্ব, শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব বিকাশেরও সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবভিত্তিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজন

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস. এম. তৌহিদুজ্জামান জানান, বিষয়টি বোর্ডকে নীতিগতভাবে জানানো হয়েছে এবং শিগগিরই বিস্তারিত নোটিশ ও নির্দেশনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হবে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে ধাপে ধাপে এসব প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম চালু হবে।

বিএনসিসি সূত্র জানায়, পূর্ণাঙ্গ প্লাটুন গঠনে সাধারণত ৩ থেকে ৫ হাজার শিক্ষার্থীর প্রয়োজন হয়। তাই শুরুতে শিক্ষার্থীসংখ্যা, অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বিবেচনা করে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মাদ্রাসা, পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিএনসিসির নতুন ইউনিট গঠন করা হবে।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান মনে করেন, মাদ্রাসায় সহশিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি ইতিবাচক ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে। এ লক্ষ্যেই পর্যায়ক্রমে মাদ্রাসায় বিএনসিসির কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, মাদ্রাসায় বিএনসিসি চালু হলে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণের সুযোগই পাবে না; বরং নেতৃত্ব, শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব বিকাশেরও সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবভিত্তিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি এবং মাদকের মতো নেতিবাচক প্রবণতা শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। এসব ঝুঁকি থেকে তাদের দূরে রাখতে স্কাউট, বিএনসিসি, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্কসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বিএনসিসি সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসায় বিএনসিসি কার্যক্রম চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের পর এখন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। তবে নতুন ইউনিট গঠনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিএনসিসি ব্যাটালিয়নের অনুমোদন অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে ধাপে ধাপে বিভিন্ন মাদ্রাসায় ইউনিট গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

img

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশিত :  ১৪:২০, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ে আসার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার নতুন এ নিয়ম ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এর আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, তথাকথিত ‘ভিসা হপার’ এবং ব্যাকপ্যাকারদের জন্যও বিভিন্ন নিয়ম কঠোর করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীরা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় সঙ্গে আনতে পারবেন না। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়াতে চাইলে তাদের উচ্চতর কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পথ বেছে নিতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, আমরা আর এমন কোনো ব্যবস্থা রাখব না যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসতে পারেন।

তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে কিছু ছাড় থাকবে। পিএইচডি শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারকে সঙ্গে আনতে পারবেন। বার্ক বলেন, স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জীবন ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

‘অভিবাসন কর্মসূচি পরিচালনার কাজ: কারা আসেন, কারা থেকে যান এবং কারা চলে যান’ শিরোনামে দেওয়া এক বক্তৃতায় বার্ক এসব পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে নিট অভিবাসীর সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা।

স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ‘ভিসা হপিং’ বা ঘন ঘন ভিসা পরিবর্তনের প্রবণতাও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থী একটি কোর্স শেষ করার পর আরেকটি কোর্সে ভর্তির আবেদন করেন, যা অনেক সময় আগেরটির চেয়ে নিম্নমানের যোগ্যতার হয়। এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করা হয়, যার বৈধতা বা মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে যারা উচ্চতর শিক্ষার দিকে এগোতে চান, যেমন স্নাতক ডিগ্রি শেষ করে স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানান বার্ক।

১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের জন্য প্রযোজ্য ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’র নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণত ব্যাকপ্যাকাররা এই ভিসা ব্যবহার করেন। এতে অস্ট্রেলিয়ায় ১২ মাস কাজ করার সুযোগ থাকে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ রয়েছে। কৃষি খাতেও এই ভিসাধারীরা গুরুত্বপূর্ণ শ্রমের উৎস।

বর্তমানে দ্বিতীয় বছরের ভিসার যোগ্য হতে হলে প্রথম বছরে অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক এলাকায় তিন মাস কাজ করতে হয়। তৃতীয় বছরের যোগ্যতার জন্য কাজ করতে হয় ছয় মাস। নতুন নিয়মে দ্বিতীয় বছরের জন্য যোগ্যদের একটি ব্যালট বা লটারি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এতে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার জনের সুযোগ থাকবে, যা গত বছর ৫৭ হাজার ছিল।

তৃতীয় বছরের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা কমিয়ে ৫ হাজার করা হয়েছে। গত বছর ৩১ হাজার মানুষ তৃতীয় বছরের ভিসার জন্য যোগ্য হয়েছিলেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ব্রিটিশ ওয়ার্কিং হলিডে-মেকাররা এসব পরিবর্তনের আওতায় পড়বেন না।

বার্ক বলেন, অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি ‘শক্তি’ বা ইতিবাচক দিক হলেও এর ওপর ‘উচ্চ মাত্রার নিয়ন্ত্রণ’ থাকা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৭৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই হিসাবের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুর পাশাপাশি নিট অভিবাসন হিসেবে ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০ জনের হিসাবও রয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এবং জনসেবার ওপর বাড়তি চাপের কারণে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসন দেশটির বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে রয়েছে।

অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ডানপন্থী ও জনতুষ্টিবাদী দল ‘ওয়ান নেশন’ চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাদের অভিবাসন নীতি প্রকাশ করেছে। এতে তিন বছরের মধ্যে অস্থায়ী অভিবাসী ভিসার সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত মে মাসে নিম্নকক্ষে দলটি তাদের প্রথম আসন জয় করে।

দলট নিট বৈদেশিক অভিবাসনের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারে সীমাবদ্ধ রাখারও প্রস্তাব দিয়েছে। বার্ক এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, এমন পদক্ষেপ নিলে তা ‘অস্ট্রেলীয় অর্থনীতির কিছু অংশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে’।

জুলাই মাসে সরকার একটি নীতি চালু করে। এর আওতায় বিদেশ থেকে জমা দেওয়া আবেদনের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরতদের করা পারিবারিক ভিসার আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বিদেশে অবস্থানরতদের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় আগে থেকেই বসবাসরত দক্ষ অভিবাসীদের স্থায়ী ভিসার আবেদনকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য বাদে ২৪টি দেশের নাগরিকদের জন্য ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’র আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন আসা অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংস্থা ‘সেটেলমেন্ট সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনাল’-এর ভায়োলেট রুমেলিওটিস বলেন, অভিবাসন বিষয়ক বিতর্কটি এখন দেশের জন্য যা সর্বোত্তম, তার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি রাজনীতির দ্বারা বেশি প্রভাবিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক ভিসার নিয়মে প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি এর একটি বড় উদাহরণ। তার মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।