একই স্থান ও একই সময়ে তিনটি সংগঠনের পৃথক কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের একই স্থান ও একই সময়ে তিনটি সংগঠন পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে একাধিক কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল জকসুর উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠান, জবি ছাত্রদলের সংঘর্ষ-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি এবং ‘ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ’-এর বিক্ষোভ কর্মসূচি। এ ছাড়া সকাল ১১টায় জবি শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের আহ্বানে একই এলাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়। একই স্থান ও সময় ঘিরে একাধিক কর্মসূচির কারণে প্রশাসন এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে আইফোন, ৫ হাজার টাকার পাওনা ও ‘অসম বন্ধুত্ব’
প্রকাশিত :
০৬:২১, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একটি আইফোন ছিনিয়ে নিতেই ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, শুরুতে এমনই ভেবেছিল পুলিশ। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, সামনে এসেছে পাঁচ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে ক্ষোভ, বয়সে বড়দের সঙ্গে তার ‘অসম বন্ধুত্ব’ এবং টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনের ঘটনা।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের ভাষ্য, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সটি কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আলাদা স্বার্থ ও ক্ষোভও কাজ করে থাকতে পারে।
গতকাল রোববার এ ঘটনা নিয়ে জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়। ফোন নিতে বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়।
এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবার করা হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ। তুহিন ছাড়া অন্য দুজন কিশোর। এদের বাইরে আরেক তরুণের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা অপ্রতিমের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পর্ককে বলছেন ‘অসম বন্ধুত্ব’। কারণ, সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অপ্রতিমের সঙ্গে যাঁদের ওঠাবসা ছিল, তাঁরা তার সহপাঠী নন; বয়সেও বড়। তদন্তে তাঁদের একসঙ্গে তোলা ছবি ও ভিডিও এবং টিকটকের জন্য তৈরি বিভিন্ন ভিডিওর তথ্যও পাওয়া গেছে।
আইফোনে টিকটক বানানোর বাহানা
ঘটনার দিন শুক্রবার অপ্রতিমকে বাসা থেকে বের করে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মুঠোফোনের খুদে বার্তার। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সেদিন অপ্রতিমের কাছে থাকা ফোনে বারবার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন তুহিন। বাসা থেকে বের হতে বলছিলেন। একপর্যায়ে বলা হয়, অপ্রতিমের কাছে থাকা দামি আইফোনটি দিয়ে তাঁরা টিকটকের জন্য ভিডিও বানাবেন, ছবি তুলবেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অপ্রতিম শেষ পর্যন্ত রাজি হয়। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে সে। পরিবারও আগে জানিয়েছিল, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে মায়ের ফোনটি নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতিম। পরে আর বাসায় ফেরেনি।
পুলিশ সূত্রের ভাষ্য, বেলা ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিটের মধ্যে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকার অন্তত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরায় তাদের গতিবিধি ধরা পড়ে। ফুটেজগুলোতে দেখা যায়, অপ্রতিম ও তুহিন পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছে, কথা বলছে। তাদের আচরণ ছিল স্বাভাবিক। একটি ফুটেজে তাদের পেছনে আরও দুজনকে যেতে দেখা গেছে। অন্য একটি ফুটেজে চারজনকেই একসঙ্গে পাওয়া যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে একজনকে দেখা গিয়েছিল। ওই ফুটেজই প্রথম সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।
নির্জন জঙ্গলে
অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে কাঁচা রাস্তা দিয়ে যেতে হয় সেখানে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে হেঁটে পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা গেছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, পরে সেখানে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয় আরও দুই কিশোর।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সে বাধা দিলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। তুহিন প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন এবং পরে অন্যরাও আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু হলে তার ফোনটি নিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
সিয়াম নামের আরেক তরুণ ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে তদন্তে পাওয়া তথ্যের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে ঘটনার সময় তিনি আশপাশে থেকে পাহারা দেওয়ার মতো কোনো ভূমিকা পালন করেছিলেন কি না, সেটি যাচাই করছে পুলিশ। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এলাকাটি বেশ নির্জন। এ কারণে বাইরে থেকে সহজে সেখানে কী ঘটছে, তা বোঝার সুযোগ কম।
অপ্রতিমের মরদেহে মাথার গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি আরও কিছু ক্ষত পাওয়া যায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এর কিছু ক্ষত মৃত্যুর পর তৈরি হয়ে থাকতে পারে। রাতে শিয়াল মরদেহ টানাটানি করেছিল। এ বিষয়ে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তথ্যও পর্যালোচনা করছে পুলিশ।
তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে আরেকটি বিরোধের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মুঠোফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে কাজ করত গ্রেপ্তার হওয়া এক কিশোর। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ওই কিশোরকে পাঁচ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল অপ্রতিম। সম্প্রতি সে টাকা ফেরত চাইছিল।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ নিয়ে অপ্রতিমের ওপর বিরক্ত ছিল ওই কিশোর। অপ্রতিম বেঁচে না থাকলে টাকা ফেরত দিতে হবে না—এমন চিন্তাও তার মধ্যে ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।
একটি ফোনকল
তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দেওয়া সময়রেখা অনুযায়ী, শনিবার সকাল নয়টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তখনো জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তারা জানতেন না যে অপ্রতিম মারা গেছে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়ার খবর তাঁদের কাছে পৌঁছায়।
তদন্তকারীরা বলছেন, শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করছিলেন। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাত আটটার দিকে তিনি ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তখনো অন্যদের নাম বলতে চাইছিলেন না তুহিন। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য, অন্যদের নাম প্রকাশ না করতে তিনি ‘ওয়াদাবদ্ধ’।
কিন্তু তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর মুঠোফোনে বারবার ফোন আসছিল। ফোন করছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ওই কিশোর। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রের ভাষ্য, আটকের সময়ও তার গায়ে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি-শার্ট ছিল। ওই কিশোরকে আটকের খবর পাওয়ার পর তুহিন আরেক কিশোরের নাম জানান। এরপর তাকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
নিজের ফোন নেয়নি কেন
ঘটনার আগে থেকেই নিজেদের অবস্থান আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ১৫ বছর বয়সী কিশোর মুঠোফোন ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা রাখত। ঘটনার দিন নিজের মুঠোফোন সঙ্গে নেয়নি সে। পরিবর্তে পরিবারের অন্য একজনের ফোন নিয়ে বের হয়েছিল।
তদন্তকারীদের ধারণা, পরে মুঠোফোনের অবস্থান যাচাই করা হলে যাতে ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি ধরা না পড়ে, সে জন্যই এমনটি করা হয়েছিল। তবে এর পক্ষে প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য আলামত আরও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ওই কিশোরের বাবাকে ঘটনার পর থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর অনুপস্থিতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
ফোন গেল তুহিনের বাড়িতে
হত্যার পর অপ্রতিমের আইফোনটি নিয়ে চলে যান তুহিন—এমনটাই বলছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও তুহিনের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ফোনটি পরে তাঁর বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়। শনিবার রাত আটটার দিকে পুলিশ সদর দক্ষিণ মডেল থানার সানন্দার বাড়িতে গেলে তুহিনের মা শিরিনা আক্তার বিছানার তোশকের নিচ থেকে ফোনটি বের করে দেন।
তুহিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যার আগেই তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। তখন তাঁর ছোট ভাই তুষারকে ফোনটি সাবধানে লুকিয়ে রাখতে বলেন।
‘অসম বন্ধুত্ব’
অপ্রতিম ছিল বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে শান্ত, মিশুক ও পড়াশোনায় ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে বর্ণনা করেছে। স্কুলে কোনো ঝামেলায় তাকে জড়াতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী জাহান।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তুহিন বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় বয়সে কম কয়েকজনকে নিয়ে চলাফেরা করতেন এবং একটি দল তৈরি করেছিলেন। একসময় অপ্রতিমকেও সেই দলে ভেড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন।
তবে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগে কোনো পুলিশ রেকর্ড নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের (অপ্রতিম) সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। তাদের বয়স নিহত শিশুটির চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বেশি।
পুলিশের কাছে অবশ্য অপ্রতিম ও ওই ব্যক্তিদের একসঙ্গে চলাফেরা, ছবি তোলা এবং টিকটক ভিডিও তৈরির তথ্য রয়েছে। এই বয়স ও সামাজিক অবস্থানের ব্যবধানের সম্পর্ককেই তদন্তকারীরা বলছেন ‘অসম বন্ধুত্ব’।
অপ্রতিমের নিখোঁজ হওয়ার খবর থেকেই ঘটনাটি কুমিল্লার গণ্ডি ছাড়িয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তার মা নাহিদা বেগম ফেসবুকে ছেলের সন্ধান চেয়েছিলেন। নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে বের করতে কাজ করা সংগঠন ‘মুন অ্যালার্ট’ থেকেও অপ্রতিমের ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর অসংখ্য মানুষ ছবিটি শেয়ার করে তাকে খুঁজে পেতে সহযোগিতা চান।
পরদিন শনিবার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেই উদ্বেগ বদলে যায় শোক ও ক্ষোভে। অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিমের ছবি শেয়ার করেন। অনেকে সন্তানের নিরাপত্তা, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ জানান।
অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম ছেলের মরদেহ উদ্ধারের পর বলেছিলেন, ‘তোরা আইফোন নিয়ে যেতি, কিন্তু আমার ছেলেকে খুন করলি কেন?’
গতকাল সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজায় শত শত মানুষ অংশ নেন। পরে গন্ধমতী ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ছেলেকে শেষবিদায় দেওয়ার সময় বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়।’
অপ্রতিমের মৃত্যু শুধু একটি হত্যা মামলার মধ্যে আটকে থাকেনি। ঘটনাটি সন্তানদের বন্ধুত্ব, মুঠোফোনকেন্দ্রিক সম্পর্ক এবং পরিবারের অগোচরে বয়সে বড়দের সঙ্গে মেলামেশার ঝুঁকি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।