img

সাভারে পুলিশের ধাওয়ায় ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৫:৪৩, ০৮ আগষ্ট ২০২৬

সাভারে পুলিশের ধাওয়ায় ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

সাভারে পুলিশের ধাওয়ার মুখে ছাদ থেকে পড়ে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৯) সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) গার্ড জাফরের ছেলে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুলিশের ধাওয়ার সঙ্গে মৃত্যুর সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারের ৫ম তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ওই ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়। 

পুলিশ জানায়, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানা থেকে প্রেমের সম্পর্কের জেরে শাহারিয়ার কবির সৌমি নামে একটি ছেলে একটি মেয়েকে নিয়ে সাভারে তার মামা মনোয়ারুল হোসেন বকশীর বাসায় আসে। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার পীরগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করলে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ সাভার মডেল থানায় আসে। পরে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ সাভার মডেল থানার পুলিশের আরও একটি টিম নিয়ে মামা মনোয়ারুল হোসেন বকশীর বাসায় অভিযান চালায়। ভাগ্নে ও ওই মেয়ে এর আগেই ওই বাসা থেকে চলে যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামা মনোয়ারুল ছাদে পালাতে যান। এসময় পুলিশও তার পিছু নিয়ে ছাদে খুঁজতে যায়। এরপর হঠাৎ মনোয়ারুল হোসেন বকশী পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়।

প্রতিবেশী রাসেল মনি জানান, রাত ১২টার দিকে পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালায়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী ছাদ থেকে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত পুলিশরাও ঘটনাস্থল চলে যায়। পরে পরিবারের লোকজন মনোয়ারুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ওই রাতেই চিকিৎসার জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার জানান, রাতে পুলিশ তার ভাগ্নেকে খুঁজতে মনোয়ারুলের বাসায় যায়। এসময় মনোয়ারুল ছাদে গেলে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে ধাওয়া করে। এরপর মনোয়ারুল ছাদ থেকে পড়ে মারা যান।

পীরগঞ্জ থানা থেকে অভিযানে আসা উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেয়েটির বাবা একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সাভারে অবস্থান করছিল বলে নিশ্চিত হই। বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েটির বাবাকে নিয়ে সাভার মডেল থানায় যাই এবং ওই থানার পুলিশ নিয়ে বিপিএটিসি যাই। পরে বাসায় ঢুকে জাফর ও তার স্ত্রীকে পাই। এসময় বাসায় আর কেউ ছিল না। তার কয়েক মিনিটের ভেতরে একটি শব্দ শুনতে পাই। পরে নিচে গিয়ে দেখি একটি ছেলে বাসার নিচে পড়ে আছে। তারপরে আমরা চলে আসি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, পীরগঞ্জ থানা পুলিশ রাতে আসামি ধরার জন্য সাভারে এসেছিল। পরে আমাদের অবহিত করলে আমাদের থানা পুলিশের একটি টিমও সঙ্গে গিয়েছিল। কিন্তু পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ভবনের ভিতরে আসামি ধরতে গেলে এক যুবক ছাদ থেকে পড়ে নিহত হয়। তবে সাভার মডেল থানা পুলিশ ভবনের নিচে অবস্থান করছিল। 

এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।


জাতীয় এর আরও খবর

img

শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতকে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৫৬, ০৮ আগষ্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানিসহ দেশের প্রতিটি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর করতে সরকার বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

\r\n

তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজন ও সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বর্তমান সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ড চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা যদি সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের নিবেদিত না রাখেন তাহলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নতি দিয়েই সফলতা আসবে না।

তিনি বলেন, চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর। বর্তমান সরকার মনে করে, মানুষকে যদি শুরুতেই রোগের উৎপত্তির কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করা যায় তাহলে সহজেই অনেক রোগের নিরাময় সম্ভব। সে কারণে বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি বর্তমান সরকার নতুন করে আরো এক লাখ হেলথ ওয়ার্কার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে। যারা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সতর্ক এবং সচেতন করবেন। তবে হেলথ ওয়ার্কার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীরা রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকবেন কিনা কিংবা কতটা সম্পৃক্ত থাকবেন এ নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা রয়েছে। এর পক্ষে বিপক্ষে নানামতও রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে। সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী সবাই যার যার মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকা কিংবা রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা অযৌক্তিক নয়।

তবে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

এ সময় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চিকিৎসক নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য একদিকে সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অপরদিকে চিকিৎসক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে জনগণ ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা প্রত্যাশা করি।

আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে হবে না।

জাতীয় এর আরও খবর