img

গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের আলোচনা সভা: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে নেতৃবৃন্দ আমন্ত্রিত

প্রকাশিত :  ২০:০১, ১০ আগষ্ট ২০২৬

গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের আলোচনা সভা: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে নেতৃবৃন্দ আমন্ত্রিত

লন্ডন, ৫ আগস্ট: গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ হাউস মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের নেতৃবৃন্দ। ইউকে জমিয়ত সভাপতি ড. মাওলানা শোয়াইব আহমদ ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি আবদুল মুনতাকিমসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের নেতৃত্বকে প্রোগ্রামে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইকমিশনার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতীয় চেতনায় এর প্রভাব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এর ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, জাতির গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা সময়ের দাবি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ থেকে আগত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি তাঁর বক্তব্যে জুলাইয়ের আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সংরক্ষণ, শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভায় জুলাই বিপ্লবে শাহাদাতবরণকারী শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা গণঅভ্যুত্থান দিবসকে জাতীয় জীবনে স্থায়ীভাবে স্মরণীয় করে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং এর চেতনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও আদর্শের নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন এবং জাতীয় স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সভায় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জনাব নজরুল ইসলাম  তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য দেন এবং সবার সাথে খোলা মনে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

উপস্থিত অতিথিদের মতে, দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এ আয়োজন একটি তাৎপর্যপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়। তারা মনে করেন, জুলাইয়ের চেতনা, প্রত্যয়, আত্মত্যাগ ও গণআকাঙ্ক্ষাকে নতুনভাবে স্মরণ ও ধারণ করার ক্ষেত্রে এ অনুষ্ঠান একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ব্রিক লেন কারি ফেস্টিভ্যাল ফিরে আসছে আবারো: বাঙালি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও স্বাদের উৎসবে মাতবে পূর্ব লন্ডন

প্রকাশিত :  ২০:০৭, ১০ আগষ্ট ২০২৬

পূর্ব লন্ডনের প্রাণকেন্দ্র ব্রিক লেন আবারও প্রস্তুত হচ্ছে বর্ণিল এক সাংস্কৃতিক উৎসবের জন্য। গত বছরের সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় ব্রিক লেন কারি ফেস্টিভ্যাল ফিরে আসছে ২০ সেপ্টেম্বর, রোববার, যেখানে এক ছাদের নিচে মিলিত হবে টাওয়ার হ্যামলেটসের সেরা খাবার, সংগীত, সংস্কৃতি এবং কমিউনিটিগুলোর প্রাণবন্ত উপস্থিতি।

দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এই সম্পূর্ন ফ্রি পারিবারিক উৎসবে ব্রিক লেন পরিণত হবে এক উচ্ছ্বসিত মিলনমেলায়। দিনব্যাপী আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হবে সেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশি ঐতিহ্য, যা বহু দশক ধরে পূর্ব লন্ডনের পরিচয় ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং ব্রিক লেনকে বিশ্বব্যাপী কারিপ্রেমীদের অন্যতম গন্তব্যে পরিণত করেছে।

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শুরু হবে উৎসব

উৎসবের শুরুতে ব্রিক লেনজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে একটি আকর্ষণীয় ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যেখানে অংশ নেবে নৃত্যশিল্পী, ঢাক-ঢোল ও ড্রামার দল, বিশালাকার পাপেট এবং ঐতিহ্যবাহী লায়ন ড্যান্সের পরিবেশনা। এরপর উৎসবের মূল মঞ্চে সারাদিন চলবে সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এবারের উৎসবে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জনপ্রিয় ব্যান্ড খিয়ো (Khiyo)। তাদের সঙ্গে মঞ্চে পারফর্ম করবেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী নিশ এবং মামজি স্ট্রেঞ্জার। এছাড়াও দর্শকদের মুগ্ধ করতে থাকবে আইএমডি লিজিয়ন, বলি ফ্লেক্স, তাল তরঙ্গ, শওমি দাস ড্যান্স কোম্পানি, বলিউড ব্রাস ব্যান্ডসহ আরও অনেক শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনা।

শুধু মঞ্চেই নয়, পুরো ব্রিক লেনজুড়ে থাকবে ঘুরে বেড়ানো শিল্পীদের পরিবেশনা, ডিজে সেট এবং বিভিন্ন পপ-আপ বিনোদনমূলক আয়োজন।

পরিবারের সবার জন্য বিশেষ আয়োজন

উৎসবে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের জন্যও রয়েছে নানা ধরনের ফ্রি কার্যক্রম। ফেস্টিভ্যালের বিশেষ পারিবারিক জোন “দ্যা গাট”-এ আয়োজন করা হয়েছে নৃত্য কর্মশালা, ঐতিহ্যবাহী শাড়ি পরানো ও লুঙ্গি বাঁধার প্রদর্শনী, ক্রীড়া কার্যক্রম, বিভিন্ন খেলা এবং বাউন্সি ক্যাসেল।

আয়োজকদের আশা, পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা দিনভর আনন্দঘন পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।

ব্রিক লেনের বিখ্যাত স্বাদ একসঙ্গে

ব্রিক লেনের পরিচয়ের অন্যতম বড় অংশ এর সমৃদ্ধ খাবারের ঐতিহ্য। তাই কারি ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়া রেস্টুরেন্ট ও স্ট্রিট ফুড স্টলগুলো পরিবেশন করবে বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ কারি, ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার এবং স্থানীয় শেফদের লাইভ কুকিং ডেমোনস্ট্রেশন।

দর্শনার্থীরা পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ রন্ধনশৈলীর স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি জানতে পারবেন এসব খাবারের পেছনের গল্প ও ঐতিহ্য সম্পর্কেও।

আগাম রেজিস্ট্রেশনে বিশেষ ছাড়

উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রয়েছে একটি বিশেষ সুবিধা। যারা ফেস্টিভ্যালের আগে ইভেন্টব্রাইট-এর মাধ্যমে বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) করবেন, তারা একটি বিশেষ কোড পাবেন। এই কোড ব্যবহার করে ফেস্টিভ্যাল সপ্তাহান্তজুড়ে অংশগ্রহণকারী ব্রিক লেনের রেস্টুরেন্টগুলোতে বিলের ওপর ২০ শতাংশ ছাড় উপভোগ করা যাবে।

বাঙালি সংস্কৃতি, সুস্বাদু খাবার এবং সম্প্রদায়ের মিলনমেলার এই আয়োজন পূর্ব লন্ডনের ক্যালেন্ডারের অন্যতম আকর্ষণীয় উৎসব হয়ে উঠতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। রঙ, স্বাদ এবং বিনোদনে ভরপুর এক দিন কাটাতে দর্শনার্থীদের ব্রিক লেনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর