গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের আলোচনা সভা: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে নেতৃবৃন্দ আমন্ত্রিত
লন্ডন, ৫ আগস্ট: গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ হাউস মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের নেতৃবৃন্দ। ইউকে জমিয়ত সভাপতি ড. মাওলানা শোয়াইব আহমদ ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি আবদুল মুনতাকিমসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের নেতৃত্বকে প্রোগ্রামে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইকমিশনার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতীয় চেতনায় এর প্রভাব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এর ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, জাতির গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা সময়ের দাবি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ থেকে আগত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি তাঁর বক্তব্যে জুলাইয়ের আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সংরক্ষণ, শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় জুলাই বিপ্লবে শাহাদাতবরণকারী শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা গণঅভ্যুত্থান দিবসকে জাতীয় জীবনে স্থায়ীভাবে স্মরণীয় করে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং এর চেতনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও আদর্শের নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন এবং জাতীয় স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সভায় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জনাব নজরুল ইসলাম তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য দেন এবং সবার সাথে খোলা মনে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।
উপস্থিত অতিথিদের মতে, দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এ আয়োজন একটি তাৎপর্যপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়। তারা মনে করেন, জুলাইয়ের চেতনা, প্রত্যয়, আত্মত্যাগ ও গণআকাঙ্ক্ষাকে নতুনভাবে স্মরণ ও ধারণ করার ক্ষেত্রে এ অনুষ্ঠান একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।


















