img

সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১১:০৭, ১২ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৩, ১২ আগষ্ট ২০২৬

সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি কৌশল নেওয়া হয়েছে, যা মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিটের টার্মিনালে কার্গো খালাস সম্ভব হচ্ছে না। এক্সিলারেট টার্মিনালটি আংশিক সক্ষমতায় চলছে। এটিকে পুরো সক্ষমতায় চালাতে হলে আবার প্রায় ৭২ ঘণ্টার জন্য টার্মিনালটি বন্ধ রাখতে হবে। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে কথা বলছি। আজ দুপুরেও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক আছে। কোন সময়ে টার্মিনালটি বন্ধ রাখলে জনদুর্ভোগ সবচেয়ে কম হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মানুষের ভোগান্তি চরমে, এটি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এ কারণে আমরা বারবার জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কারও কিছু করার থাকে না। আমরা অসহায়, প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়। প্রকৃতি স্বাভাবিক হলে গ্যাস খালাস করতে পারব এবং সেই ক্ষেত্রে গ্যাসের সরবরাহও স্বাভাবিক হবে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে মিটিং করেছি, টিমও সেখানে গেছে। তাদের অফার নিয়ে কাজ চলছে। তাদের কাছ থেকে অন্তত এক কার্গো এলএনজি পাব বলে আশা করছি। এটি একটি মধ্যমেয়াদি সমাধান। হাতে যতগুলো বিকল্প আছে, সবগুলো নিয়েই কাজ করছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে, সেটি দিনক্ষণ বেঁধে বলা সম্ভব নয়। তবে জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে। এটি জনগণ নিশ্চয়ই বোঝেন। চেষ্টার ন্যূনতম কোনো ত্রুটি নেই। ইউএস বাংলাদেশ চেম্বারের কাছেও এলএনজির ব্যাপারে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজেনি; বরং তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে গেছে। এ কারণে হঠাৎ করে সংকট এসেছে। একটি সময়ে এই পরিস্থিতির মুখে পড়তেই হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গ্রীষ্মকালীন সময়ে এ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।


img

ভারত থেকে দেশে আসছে ১৯টি নতুন রেলবগি

প্রকাশিত :  ০৮:৫৯, ১২ আগষ্ট ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে ভারত থেকে আনা নতুন প্রজন্মের ১৯টি লিংকে হফম্যান বুশ (এলএইচবি) কোচ।

বুধবার (১২ আগস্ট) ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ কারখানা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি প্রথম রেকটি কারখানা ছাড়ার কথা রয়েছে। এসব কোচ দেশে পৌঁছানোর পর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনে যুক্ত করা হবে।

নতুন প্রজন্মের এলএইচবি কোচ যুক্ত হলে যাত্রীসেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি ট্রেনের নিরাপত্তা ও আরামও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা ও পরিচালনব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষভাবে এসব কোচ তৈরি করা হয়েছে। প্রথম রেকে থাকবে তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযান, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ, ১১টি সাধারণ চেয়ার কোচ এবং দুটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোচ।

এসব কোচ ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের একটি বড় চুক্তির অংশ। ২০২৪ সালে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রাইটসের মাধ্যমে কোচগুলো কেনার চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চুক্তিটির মূল্য প্রায় ৯১৫ কোটি ভারতীয় রুপি। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো চালান সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

কাপুরথালার রেল কোচ কারখানায় মোট সাত ধরনের কোচ তৈরি করা হচ্ছে। প্রথম রেকটি দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হবে। সেখানে কোচগুলোর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কারিগরি যাচাই শেষে যাত্রীবাহী ট্রেনে যুক্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

ভারত থেকে এবারই প্রথম এলএইচবি কোচ আসছে না। এর আগে ২০১৫-১৬ সালে ভারতীয় রেল কোচ কারখানা বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করেছিল। তবে এবারের কোচগুলো বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন ও আধুনিক সুবিধা যুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে।

নতুন কোচগুলোতে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পাদানি, হেলানো যায় এমন আসন এবং আংশিক খোলা যায় এমন জানালা রাখা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে ফ্যানের পাশাপাশি সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ও যাত্রী সতর্কীকরণ ব্যবস্থা থাকবে।

এ ছাড়া শিশু পরিচর্যার জন্য আলাদা কক্ষ এবং নামাজের কক্ষের ব্যবস্থাও থাকছে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় কোচগুলোর ছাদও শক্তিশালী করা হয়েছে। ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠার ঝুঁকি কমানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

নিরাপত্তার দিক থেকেও কোচগুলোতে আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় মান ইএন ১৫২২৭ অনুযায়ী সংঘর্ষের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি নিরাপদ করে কোচগুলো তৈরি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে মূল কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কোচগুলোর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ৪১৫ ভোল্টে পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় রেলের প্রচলিত কোচে সাধারণত ৭৫০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়।

নতুন কোচগুলো কোন ট্রেনে যুক্ত করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এগুলো দিয়ে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে, নাকি পুরোনো কোনো ট্রেনের কোচ পরিবর্তন করা হবে সেটিও নির্ধারণ করা হয়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, নতুন কোচ পাওয়ার পর বিভিন্ন রুটে নতুন রেক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম রেকের কোচ দিয়ে নতুন যাত্রীসেবা চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে যাত্রী পরিবহনে যুক্ত করার আগে কোচগুলোর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এরপর রুট ও ট্রেনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চলতি বছরের এপ্রিলে সংসদে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছিলেন, ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করা হবে। ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ এর আরও খবর