img

দুইশর আগেই অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ০৭:৪৩, ১৩ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৪৬, ১৩ আগষ্ট ২০২৬

দুইশর আগেই অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করল বাংলাদেশ

ডারউইনে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানেই অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশের হয়ে একাই ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান মাহমুদ। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি পেস আক্রমণে এবাদত হোসেনসহ অন্য বোলাররাও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করেন।

ফলে ডারউইনের প্রথম টেস্টের শুরুতেই দুর্দান্ত অবস্থানে চলে এসেছে বাংলাদেশ।

ডারউইন টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান।

ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে নতুন বলের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগান তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। বিশেষ করে হাসান দুর্দান্ত ছিলেন। দুই দিকেই সুইংয়ের সঙ্গে বাড়তি বাউন্সও আদায় করে নেন এই পেসার। তার করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন ট্রাভিস হেড। তবে বল পড়ে নিরাপদ জায়গায়। ফলে সেই যাত্রায় বেঁচে যান এই ওপেনার।

নিয়মিত ভালো লাইন-লেংথে বোলিং করার পুরস্কার পেতে কিছুটা সময় লেগেছে বাংলাদেশের। প্রথম ব্রেকথ্রু পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১২তম ওভার পর্যন্ত। চতুর্থ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে করেন হাসান। সেখানে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটকিপার লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে বল। ২৩ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।

নিজের ফিরতি ওভারে আবারো আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকার আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। ১৪ তম ওভারে চতুর্থ বলে গুড লেংথ থেকে ইন সুইং করা বল ব্যাটের ভেতরের দিকের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ফেরার আগে হেড করেন ২২ রান।

১৭তম ওভারে এবাদত হোসেনের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ তামিম সেটা রাখতে পারেননি। জায়গায় দাঁড়িয়েও বল হাতে জমাতে না পারায় মাথায় হাত দেয় পুরো বাংলাদেশ! তবে নিজের প্রথম শিকার ধরতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি এবাদতকে। ফিরতি ওভারেই মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফেরান এই পেসার।

১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে গুড লেংথে করেছিলেন এবাদত। সেখানে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউট সাইড এজে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত আর কোনো ভুল করেননি। ২০ বল খেলে মাত্র এক রান করতে পেরেছেন ল্যাবুশেন।

দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অজিদের উদ্ধার করতে কাউন্টার অ্যাটাক বেছে নেন ক্যামেরুন গ্রিন। তাসকিনের করা ২২তম ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে গ্রিনের সেই আক্রমণাত্মক মনোভাবের সুযোগ নিতে ফাঁদ পাতে বাংলাদেশ। আর তাতেই পা দেন এই অজি ব্যাটার। ওভারের শেষ বলটি গুড লেংথে করেছিলেন তাসকিন। সেখানে অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন গ্রিন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি। তাতে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অজিরা।

লাঞ্চের পর বাংলাদেশি পেসারদের সাবলীল ভাবেই খেলছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। এই সময়ে দ্রুত রানও তুলছিলেন এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাতে বড় জুটি গড়ার পথে হাঁটছিল অজিরা। ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া সেই জুটি ভেঙেছেন এবাদত হোসেন।

৩৭তম ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে কিছুটা ভেতরে ঢুকেছিল। সেখানে পাঞ্চ করতে চেয়েছিলেন ক্যারি। কিন্তু ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্টাম্পে। ১৯ রান করে ক্যারি ফেরায় ভাঙে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।

ক্যারি ফেরার পর উইকেটে আসা বো ওয়েবস্টারকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ১০ বলে ১২ রান করা ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন এই পেসার। এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত ফেরায় বাংলাদেশ। দুজনের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারায় অজিরা।

চা বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন স্মিথ। তাতে হিতে বিপরীত হয়। হাসানের খাটো লেংথের বল এগিয়ে এসে পুল করার চেষ্টা করলে টপ এজ হয়ে বল সোজা উপরে উঠে যায়। ৭১ রান করা স্মিথকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এরপর নাথান লায়নকেও ফেরান এই পেসার। তাতে ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি। 

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

আমরা কাউকে ভয় পেতে আসিনি: হামজা

প্রকাশিত :  ০৭:৩৪, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাকার্তায় আজ বিকেলে লাওস-ব্রুনাই ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ফিফা আসিয়ান কাপের। আগামীকাল বিকেল ৩টায় মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতার ডিভিশন-১-এ বাংলাদেশের হয়ে খেলছেন হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়ারা।

প্রতিপক্ষদের বেশিরভাগই র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকলেও তাদের নিয়ে ভয় পাচ্ছেন না হামজা। বরং শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলাকে অভিজ্ঞতা অর্জনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই ফুটবলার। একই সঙ্গে এসব ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যও যাচাই হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

আসিয়ান কাপে অংশ নিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় পৌঁছায় বাংলাদেশ দল। পরদিন হামজা চৌধুরী ইংল্যান্ড থেকে সরাসরি জাকার্তায় গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেন। গতকাল দলের সঙ্গে অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন তিনি। এমন বড় একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে বেশ আনন্দিত হামজা। এই আসর থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে দেশকে গর্বিত করতে চান তারকা এ ফুটবলার, ‘আমরা এখানে কাউকে ভয় পেতে আসিনি। আমরা জানি, আমাদের সামর্থ্য কতটুকু। এটি আমাদের জন্য শেখার সুযোগ। আমরা এখানে যতটা সম্ভব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে এসেছি এবং আশা করি, আমাদের দেশকে গর্বিত করতে পারব।’ 

ইন্দোনেশিয়ায় আতিথেয়তা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েও সন্তুষ্ট হামজা। স্থানীয় মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং ফুটবলের জনপ্রিয়তায় তিনি মুগ্ধ, ‘এখানকার মানুষ খুব বন্ধুত্বপূর্ণ, অত্যন্ত দয়ালু। এখানে ফুটবলের বিশাল জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং সুযোগ-সুবিধাও বেশ ভালো। আমি আগামী শুক্রবার মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে আছি।’ 

প্রতিপক্ষ দলগুলো সম্পর্কেও ইতিবাচক হামজা। তাদের র‍্যাঙ্কিং, খেলোয়াড়দের মান এবং কোচের প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, আগামী বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে এই দলগুলো বেশ ভালো করবে। শেফিল্ডের এই তারকা বলেন, ‘তাদের র‍্যাঙ্কিং বেশ ভালো। তাদের দলে দারুণ মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। খুব ভালো কোচও আছেন, বিশেষ করে পরবর্তী বিশ্বকাপে বাছাইপর্বে তারা যদি বিশ্বকাপে যাওয়ার দৌড়ে না থাকে, তাহলে আমি অবাকই হব।’ 

আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের তিন প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান র‍্যাঙ্কিং ১১৮, মালয়েশিয়া ১৩৬তম এবং সিঙ্গাপুরের অবস্থান ১৪৮তম। ইংল্যান্ড থেকে আসার পথে বিমানে হামজার দেখা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার তরুণ ফুটবলার অ্যালকান ব্যাগটের সঙ্গে। তিনি ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব মিলওয়ালে খেলেন। তাঁর বিপক্ষে খেলার অপেক্ষায় আছেন হামজা। ব্যাগট তরুণ ও সম্ভাবনাময় হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। বাংলাদেশ দলের অনুশীলন নিয়েও সন্তুষ্ট হামজা। ইন্দোনেশিয়ার অনুশীলন মাঠ, হোটেল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধারও বেশ প্রশংসা করেছেন তিনি, ‘অনুশীলনের জন্য আমরা দারুণ মাঠ পেয়েছি। আমরা এটি উপভোগ করেছি। মূল স্টেডিয়াম এখনও দেখিনি। আশা করছি, সেটিও ভালো হবে। হোটেল অসাধারণ, সবাই ভীষণ বন্ধুত্বপূর্ণ। আমরা সময়টা উপভোগ করছি।’


খেলাধূলা এর আরও খবর