img

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

ডারউইনে শুরু থেকেই চালকের আসনে ছিল বাংলাদেশ। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করে টাইগাররা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছে—অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। 

আশা ছিল, তার পিঠে একটু ভয়ও ছিল বৈকি! বিশ্বাস না হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা ক্রিকইনফোর লাইভ কমেন্ট্রির ফাঁকে ফাঁকে সমর্থকদের মন্তব্যগুলো খুঁজে দেখুন? সেখানে বহু বাংলাদেশির কথা ছিল একটাই, ‘কত কিছুই তো হতে দেখলাম!’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের দর্শক–সমর্থক হলে বোধ হয় এই এক সমস্যা। শেষের আগে বিশ্বাসই হতে চায় না কোনো কিছু। ইতিহাস তাতে রসদ যুগিয়ে যায়, মুলতান টেস্টের ইনজামাম থেকে যে যাত্রার শুরু, ফতুল্লা টেস্টে রিকি পন্টিং, এরপর চট্টগ্রামে কাইল মেয়ার্সের অতিমানব হয়ে ওঠা… সবকিছুই হয়েছে যে চোখের সামনে, সে চোখ কোনো কিছু হতে দেখার আগে যদি বিশ্বাস না করে, তাকে কি দোষারোপ করা যায়?

কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যা চোখের সামনে হতে দেখলেও বুঝি খানিকটা অবিশ্বাস চলে আসে মগজে, চিমটি কেটে দেখতে হয় ‘স্বপ্নে হচ্ছে না তো সব?’ এই ভুলটা ভাঙতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয় বোধ হয় তেমনই এক ঘটনা।

কেন হবে না বলুন? জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে বাংলাদেশ ইনিংস ও ৮৫ রানে হারল মাসদুয়েক আগে, সেই দলে আজকের একাদশের ৭ জন ছিলেন। সেটাকে না হয় আপনি ঝড়ে-বকে বলে উড়িয়ে দিলেনই। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচের ওই ইনিংস ব্যবধানে হারটা? সেই দলটা তো আজকের এই একাদশই ছিল মোটাদাগে!

সেই দলটা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেবে, তাও এমন ৪ দিন ধরে ছড়ি ঘুরিয়ে! কে ভেবেছিল! অস্ট্রেলিয়া ভাবেনি, তা নিশ্চিত। মারারা স্টেডিয়ামের ভিএআইপি লাউঞ্জের দিকে তাকালেই বুঝা যায় বিষয়টা। অস্ট্রেলিয়া সফর কাভার করতে যাওয়া এক সহকর্মীর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা গেল, ম্যাচটা ৩ দিনে শেষ হয়ে যাবে, তাই না ভেবে ভিআইপি লাউঞ্জের টিকিটই কাটেননি কেউ, আজকের দিনটায় ফাঁকা পড়ে আছে জায়গাটা!

খেলাটা ৩ দিন পেরোনো নিয়েই যেখানে সন্দেহ ছিল অনেকের, সেখান থেকে বাংলাদেশের জয়… বিষয়টা অভাবনীয় ছিল। এতটাই অভাবনীয় যে বাংলাদেশের পক্ষে বাজির রেট ছিল ১-২০! বাংলাদেশ সে পাশার দানটা উলটে দিয়েছে পুরোপুরি।

একটা টেস্ট জিততে একক নৈপুণ্য যথেষ্ট হয় না। বাংলাদেশের এই জয়ও একক নৈপুণ্যে আসেনি। শুরুটা করে দিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অজিদেরকে প্রথম চমকটা দিয়েছিলেন। সে চমকের দমক সইতে না পেরে স্বাগতিকরা অলআউট হলো ১৯৮ রানে। 

এরপরও শঙ্কা ছিল ব্যাটিংয়ে। প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার দুঃস্মৃতি যে দলের ঝুলিতে আছে, আরও একটা বার এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে দল, শঙ্কাটা ছিলই। তানজিদ হাসান তামিম আর নাজমুল হোসেন শান্ত সে শঙ্কাটা বিদায় করলেন। তামিম করলেন সেঞ্চুরি, শান্ত তিন অঙ্কের দেখা না পেলেও গেলেন খুব কাছে, ৮৪ রানের এই ইনিংস চালকের আসনে জাঁকিয়ে বসার উপায় বাতলে দিল দলকে।

১১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট অবশ্য মাঝে নাড়িয়ে দিয়েছিল দলকে। এরপরই দৃশ্যপটে মেহেদী হাসান মিরাজের আবির্ভাব। প্রস্তুতি ম্যাচে দলের ব্যর্থতার মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এবার তিনি সেঞ্চুরি না করলেও যা করলেন, তা দলকে এনে দিল বিশাল এক লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে ২২৮ এর চেয়ে বড় লিড বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসেই পেয়েছে মোটে দুই বার, তাও আয়ারল্যান্ড আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার সে তেঁতো স্বাদটা বাংলাদেশ দিল অস্ট্রেলিয়াকে; বিশালত্বটা বুঝুন তাহলে?

কাজটা তখনও অর্ধেক হয়েছে। বাকি কাজটা সারতে হতো বোলারদের। হাসান মাহমুদ আবারও শুরুর ধাক্কাটা দিয়েছিলেন। তবে মূল স্পটলাইটটা কেড়ে নিলেন মিরাজ। একে একে ৫ উইকেট। ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে ভর করে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ব্যবধানে হারটা এড়াল বটে, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অস্ট্রেলিয়া শেষমেশ অলআউট হয় ২৮৪ রানে। বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭। মামুলি লক্ষ্যে বাংলাদেশ পা হড়কায়নি। ১ উইকেট হারালেও সাদমান ইসলাম আর মুমিনুলের ব্যাটে চড়ে তুলে নিয়েছে ৯ উইকেটের দারুণ এক জয়। 

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়। তাও ৪ দিন দাপট ধরে রেখে, অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় সেরা দল বানিয়ে! বাংলাদেশ দল ইতিহাসই গড়ে ফেলেছে বটে!


img

ড্রেসিংরুমে অঝোরে কাঁদলেন রোনালদো

প্রকাশিত :  ১১:৫৯, ২৮ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৩, ২৮ আগষ্ট ২০২৬

আল-ইত্তিফাকের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ১০ জনের দল নিয়ে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আল-নাসর। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ছিলেন না রোনালদো; তবে সৌদি ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব খালিদ আল-শানিফের দাবি, ম্যাচ শেষে আবেগ সামলাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন পর্তুগিজ তারকা।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) চলতি মৌসুমে প্রথমবার আল-নাসরের শুরুর একাদশে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। তবে প্রথমার্ধের পর তাকে তুলে নেন কোচ আঞ্জে পস্তেকোগলু। তার জায়গায় মাঠে নামেন আবদুল্লাহ আল-খাইবারি।

রোনালদোকে তুলে নেওয়ার কারণ নিয়েও পরে আলোচনা শুরু হয়। সৌদি সাংবাদিক খালিদ আল-শানিফ দাবি করেন, শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকায় বিরতির সময় মাঠ ছাড়ার অনুরোধ করেছিলেন রোনালদো। তবে সতীর্থরা পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে যাওয়ায় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

আল-নাসরের প্রত্যাবর্তনটিও ছিল অবিশ্বাস্য। দুই গোল পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আল-নাসর।

তবে রোনালদোকে তুলে নেওয়ার ব্যাখ্যায় ভিন্ন কথা বলেছেন পস্তেকোগলু। আল-নাসর কোচের ভাষ্য, ম্যাচটির আগে রোনালদোর জন্য ৪৫ মিনিট খেলার পরিকল্পনাই ছিল। আগের ম্যাচে ৩০ মিনিট খেলেছিলেন তিনি। এবার ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিটনেসে ফেরানোর লক্ষ্যেই তাকে ৪৫ মিনিট খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

খেলাধূলা এর আরও খবর