img

শারীর নিয়ে কটাক্ষ, মোক্ষম জবাব দিলেন রোনালদোর বাগদত্তা জর্জিনা

প্রকাশিত :  ০৭:২২, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

শারীর নিয়ে কটাক্ষ, মোক্ষম জবাব দিলেন রোনালদোর বাগদত্তা জর্জিনা

ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রেমিকা স্প্যানিশ মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার জর্জিনা রদ্রিগেজ অনলাইনে নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে সমালোচনার জবাবে আত্মস্বীকৃতি ও আত্মবিশ্বাসের এক জোরালো বার্তা দিলেন। 

৩২ বছর বয়সি এই মডেল জানিয়েছেন, তিনি চান তার সন্তানরা এটি শিখুক যে কোনো মানুষের মূল্য কখনোই তার বাহ্যিক রূপ বা অপরিচিত কারো মন্তব্যের ওপর নির্ভর করে না। 

সম্প্রতি একটি নৌকায় সুইমসুট পরা জর্জিনার কিছু ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর তার শারীরিক গঠন নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ কটূক্তি শুরু করে। এর জবাবে ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে জর্জিনা লেখেন, ‘আমি আমার শারীরিক গঠন পছন্দ করি।’ 

সঙ্গে অন্য যেকোনো নারীর মতোই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরেও পরিবর্তন আসবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনি চান তার পাঁচটি সন্তান—বিশেষ করে তিন মেয়ে—যেন এটা বিশ্বাস করে বড় হয় যে আত্মমর্যাদা ও যোগ্যতা চরিত্র দিয়ে নির্ধারিত হয়, শারীরিক অবয়ব দিয়ে নয়। 

জর্জিনা বলেন, ‘কোনো মানুষের মূল্য কখনো তার বাহ্যিক রূপ কিংবা অপরিচিত মানুষের মতামতের ওপর নির্ভর করতে পারে না।’ 

এই জীবনবোধ ধরে রাখতে এবং একজন বাবা ও আদর্শ হিসেবে পাশে থাকায় তিনি তার বাগদত্তা ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রশংসাও করেন। 

এদিকে, রোনালদো প্রকাশ্যে জর্জিনার এই বার্তাকে সমর্থন জানিয়ে তার চরিত্র ও অর্জনের প্রশংসা করেছেন। প্রেমিকাকে নিয়ে রোনালদোর মন্তব্য, ‘তুমি কেবল তোমার রূপ নিয়ে বেঁচে থাকো না, তুমি কে—সেটাই তোমার আসল পরিচয়।’ জর্জিনাকে একজন ভালোবাসায় পূর্ণ মা, সফল নারী এবং দয়ালু হৃদয়ের মানুষ হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি। 

উল্লেখ্য, তাদের এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টটি এমন এক সময়ে এলো, যখন আবারও এই যুগলের বিয়ের গুঞ্জন তুঙ্গে।

২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি গুচির শো-রুমে প্রথম সাক্ষাতের পর থেকে দীর্ঘ এক দশক ধরে একসঙ্গে রয়েছেন জর্জিনা ও রোনালদো এবং একসঙ্গে একটি সুন্দর পরিবার গড়ে তুলেছেন। ইন্টারনেটে তাদের শিগগিরই বিয়ের খবর রটলেও, এখন পর্যন্ত রোনালদো বা জর্জিনা কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের কোনো তারিখ নিশ্চিত করেননি। 

সূত্র: সামা টিভি 

img

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা রোনালদোর

প্রকাশিত :  ১০:৫৬, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পর্তুগালের ৭ নম্বর জার্সি গায়ে আর দেখা যাবে না । দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা। 

পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল, আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার ও সর্বোচ্চ গোলদাতা,  ইউরো শিরোপা, দুটি উয়েফা নেশনস লিগ—জাতীয় দলের সব অর্জনেই নিজের ছাপ রেখেছেন রোনালদো। তবে বিদায়টা যে এমন হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি তার ভক্তরা।

বিশেষ করে কোচের সঙ্গে মনোমালিন্য, জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার পর রোনালদোর এই ঘোষণা যেন বিশ্ব ফুটবলকে কাঁপিয়ে দিল। 

আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। তার বিদায় ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ, দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি এবং একটি প্রজন্মের ফুটবল ইতিহাস।

৭ নম্বর জার্সি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে

জাতীয় দলের হয়ে ২৩ বছর ধরে যে জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন, এবার সেটি নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে চান রোনালদো।

বিদায়ের ঘোষণায় তিনি বলেছেন, ‘ জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসে গেছে। কখনোই মনে করিনি, জার্সিটি শুধু আমার একার ছিল। তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার, এর প্রতিনিধিত্ব করার এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেডিয়ামে এটি গায়ে নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ ও দায়িত্ব পেয়েছি আমি।’

নিজের সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, সেটিও জানিয়েছেন এই কিংবদন্তি, ‘আজ সময় এসেছে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার। সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না।

কারণ, কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয় দিয়েও নিতে হয়।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২৩ বছর আগে। দীর্ঘ এই পথচলার দিকে ফিরে তাকিয়ে তিনি বলেছেন, ‘২০০৩ সালের আগস্টে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং আমার জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছিল, তার সমাপ্তি ঘটল। জাতীয় দলের হয়ে কাটানো সময়ের দিকে ফিরে তাকালে শুধু ম্যাচ, গোল, রেকর্ড কিংবা ট্রফির কথাই মনে পড়ে না।’

এরপর নিজ দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘আমি মানুষকে দেখি, বিদেশে বসবাস করা পর্তুগিজদের দেখি, যারা ৯০ মিনিটের জন্য হলেও দেশকে আরো কাছাকাছি অনুভব করতেন। এমন লাখো পর্তুগিজ মানুষের কথা মনে পড়ে, যাদের কখনো সামনাসামনি দেখিনি, অথচ তারা আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছেন। কারণ, দিন শেষে ফুটবল একটি খেলার চেয়ে অনেক বড় কিছু। ফুটবল মানুষের জন্য, মানুষের আবেগের জন্য।’