img

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৩ শতাংশ, আস্থা হারাচ্ছেন মার্কিনরা

প্রকাশিত :  ০৬:১৯, ১৮ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২১, ১৮ আগষ্ট ২০২৬

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৩ শতাংশ, আস্থা হারাচ্ছেন মার্কিনরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। নতুন এক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট। বিপরীতে ৬৪ শতাংশ তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়েছেন। সোমবার শেষ হওয়া চার দিনের এই জরিপের ফল প্রকাশ করেছে রয়টার্স।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানেই তার জনপ্রিয়তা আরও ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। বর্তমান মেয়াদে এটিই ট্রাম্পের সর্বনিম্ন অনুমোদনের হার। একই সঙ্গে এটি তার প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশের সঙ্গে মিলে গেছে।

জরিপের ফল বলছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ। অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। মাত্র ১৬ শতাংশ মনে করেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত শেষ হয়ে যেতে পারে।

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জরিপে ৮৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৭১ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা দীর্ঘায়িত হবে বলে তারা মনে করেন। একই সঙ্গে মাত্র প্রতি পাঁচজনের একজন মনে করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সার্থক হয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও। ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনী প্রচারের সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর তিনি শুরুতে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সংঘাত প্রায় ছয় মাস ধরে চলায় সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অর্থনীতি নিয়েও ট্রাম্পের দলের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের তারা বেশি বিশ্বাস করেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৫ শতাংশ। প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের ছাড়িয়ে গেলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

অভিবাসন ইস্যুতে অবশ্য রিপাবলিকানদের সামান্য এগিয়ে থাকা এখনো রয়েছে। জরিপে ৪০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের অবস্থান ভালো। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৮ শতাংশ। তবে এই ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশীয় পয়েন্ট, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিপাবলিকানরা এ ইস্যুতে ২৬ শতাংশীয় পয়েন্টে এগিয়ে ছিল।

এই জনমত জরিপের ফল সামনে এসেছে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইতিমধ্যেই খুবই কম। যুদ্ধ, জ্বালানির দাম ও অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ আগামী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলকে চাপে ফেলতে পারে। রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপ অনলাইনে পরিচালিত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার ১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন। জরিপটির ভুলের সীমা প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড দাবি করে ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশ

প্রকাশিত :  ১৩:৫০, ১৮ আগষ্ট ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্রের ছবি পোস্ট করেছেন। ওই ছবির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’। 

এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের ‘আত্মসমর্পণের’ পর হরমুজ প্রণালিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, এই পোস্টটি তারই একটি নতুন প্রকাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি নিয়ে ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য এবং প্রচারণা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হওয়ায় ট্রাম্পের এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর