img

ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবির পাল্টা হিসাব দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৩:৩৬, ১১ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩৭, ১১ আগষ্ট ২০২৬

ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবির পাল্টা হিসাব দিলেন ট্রাম্প

ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক দশক ধরে ইরানের সমর্থনে বা ইরানের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন হামলা ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তেহরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের মতে, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কোনো শান্তি চুক্তির আলোচনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এ ক্ষেত্রে ইরানকেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

ট্রাম্প গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইরান গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে নিজেদের ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। ইরানের এই দাবিকে ‘আকর্ষণীয় ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনিও ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের ক্ষতিপূরণের দাবি এখন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি।

তবে ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প তার পোস্টে ২০০০ সালের অক্টোবরে ইয়েমেনের এডেন বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল-এ চালানো বোমা হামলার কথা উল্লেখ করেন। ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ জন নাবিক নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ওই হামলার জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছ থেকে তিনি বিভিন্ন হামলা ও সংঘাতে নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার হামলাও রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে ইরানের প্রয়াত জেনারেল কাসেম সোলেইমানির নেতৃত্বের বিষয়টিও যুক্ত। ইউএসএস কোল হামলায় নিহত মার্কিন নাবিকদের পরিবার এবং বিভিন্ন যুদ্ধে নিহত আরো হাজারো মানুষের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার কথা বলেন তিনি। ক্ষতিপূরণের দাবির পরিধি আরো বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে ইরানে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে নিহত আরও ৫২ হাজার মানুষের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলবেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা হলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সেখানে ‘দৃঢ়ভাবে’ অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন। এর এক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার অবস্থান কিছুটা নিম্নমাত্রায় আনছেন। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের ওপর আরো সামরিক হামলা চালানোর বদলে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরানও শান্তি বা ভবিষ্যৎ আলোচনার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা প্রণালিটি আবার খুলবে না।

ইরানের দাবি, গত কয়েক মাসের যুদ্ধে দেশটির যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং দেশটির জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে। ইরান জানিয়েছে, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আলাদাভাবে জানিয়েছে, আঞ্চলিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনা হলে ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা, জব্দ করা সম্পদ এবং হরমুজ প্রণালির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত :  ১১:২৮, ১১ আগষ্ট ২০২৬

গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সংঘটিত অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এ রায় ঘোষণা করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাশার আল-আসাদ এবং দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে দেশটির গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সংঘটিত অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত আসাদকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে। অন্যদিকে, নাজিবকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত করা হয়েছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে দেরা প্রদেশে আসাদ সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

আসাদের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আতেফ নাজিব তার চাচাতো ভাই। তিনি সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন। ২০১১ সালে আসাদের অধীনে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্রোহ এবং পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, নাজিব ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং মৃত্যুদণ্ডযোগ্য নির্যাতন চালিয়েছেন। আদালত বলেছেন, তার এসব কর্মকাণ্ড ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল’।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন বাহিনী দামেস্কের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে সাবেক শাসক তার ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিরিয়া থেকে মস্কোতে পালিয়ে যান। তবে এ সময় নাজিব পালাতে পারেননি। ফলে তাকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।

আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই রায়টি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রথম কোনো রায়। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাফেজ আল-আসাদ এবং পরে তার পুত্র বাশার আল-আসাদ  সিরিয়া শাসন করেছেন।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্যমতে, ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশজুড়ে তাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। এরপর দেশটি ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পার হয়েছে। এ সময় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

সূত্র : আল জাজিরা