img

যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের মধ্যেও গাজায় ইসরাইলি হামলা, নিহত ৮

প্রকাশিত :  ০৭:৪৫, ০২ আগষ্ট ২০২৬

যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের মধ্যেও গাজায় ইসরাইলি হামলা, নিহত ৮

গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের মধ্যেই গাজা উপত্যকায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সর্বশেষ এ হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। হামলার ঘটনায় আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (২ আগস্ট) গাজার বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে দেইর আল-বালাহর দক্ষিণে একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি হেলিকপ্টারের হামলায় এক নারী ও এক পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া খান ইউনিসে পৃথক হামলায় তিনজন এবং গাজা সিটির পুরোনো এলাকায় আরও একজন নিহত হন। 

এই হামলা এমন সময় হলো, যখন দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ১৫ দফা একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করে। এতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরাইলি বাহিনীর গাজা থেকে প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়।

তবে এখন পর্যন্ত ওই পরিকল্পনার কোনো অংশই মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়নি। হামাস জানিয়েছে, ইসরাইল সামরিক অভিযান বন্ধ করে গত বছরের চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার করলেই তারা অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইসরাইলের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, হামাসের ‘প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ’ না হলে বর্তমান অবস্থান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।

এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ উদ্যোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দেশটির কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই পরিকল্পাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে হামাসের নেতাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত ফাতাহর সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ দাহলান দাবি করেছেন, ট্রাম্পের জামাতা ও মার্কিন উদ্যোগের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার তাকে জানিয়েছেন, গাজায় হামলা বন্ধে ইসরাইলের সঙ্গে কাজ চলছে। দাহলানের ভাষ্য, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করছে ইসরাইল প্রতিদিনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করে কি না তার ওপর।

এরই মধ্যে শনিবার মধ্য গাজায় ইসরাইলি হামলায় একটি চিকিৎসাসামগ্রীর গুদাম ধ্বংস হয়ে যায়। হামলায় প্রায় ২০ মিটার চওড়া ও ১০ মিটার গভীর একটি গর্তের সৃষ্টি হয়। যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও গাজাজুড়ে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মস্কোতে রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণে হতাহত ২৪

প্রকাশিত :  ০৬:২১, ০২ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:১৯, ০২ আগষ্ট ২০২৬

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় দুই ডজন মানুষ হতাহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আজ রোববার (২ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কোর একটি ইতালীয় রেস্তোরাঁয় হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ২১ জন আহত হন। শহরের প্রাণকেন্দ্রের কাছে কুদ্রিনস্কায়া স্কোয়ারে স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে বিস্ফোরণটি ঘটে।

জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি (এনএকে) জানিয়েছে, বিস্ফোরকসহ এক নারী রেস্তোরাঁটিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে একজন নিরাপত্তাকর্মী তাকে বাধা দেন। এ সময় বিস্ফোরকটি বিস্ফোরিত হলে ওই নারী, নিরাপত্তাকর্মী এবং রেস্তোরাঁটির একজন অতিথি নিহত হন।

মস্কোর বিখ্যাত স্তালিন আমলের একটি আকাশচুম্বী ভবনে অবস্থিত রেস্তোরাঁটিতে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান চলছিল। তবে কর্তৃপক্ষ অতিথিদের তালিকা কিংবা হামলার লক্ষ্য কারা ছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় একের পর এক মানুষকে রেস্তোরাঁ থেকে বের করে আনা হচ্ছিল। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রেস্তোরাঁটির রান্নাঘরে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে পরে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, প্রকৃতপক্ষে ভবনের বাইরে বিস্ফোরণটি ঘটেছিল।

বিস্ফোরণের পর চত্বরটির আশপাশের রাস্তাগুলো কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময় শহরের মধ্যে সান্ধ্যকালীন সাইকেল ভ্রমণে অংশ নেওয়ার জন্য কয়েক ডজন সাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলের কাছাকাছি জড়ো হয়েছিলেন। পরে তাদের অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরআইএ প্রকাশিত ভিডিওতে ঘটনাস্থলে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও এর আশপাশে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন রুশ সামরিক কর্মকর্তাকে গুপ্তহত্যা করা হয়েছে। মস্কো এসব হামলার জন্য কিয়েভকে দায়ী করেছে।

সূত্র: বিবিসি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর