img

পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩

প্রকাশিত :  ০৫:৫৪, ০২ আগষ্ট ২০২৬

পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে পর্যটকবাহী একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শনিবারের (১ আগস্ট) দুর্ঘটনার সময় বিমানটি যাত্রীদের বিখ্যাত নাজকা লাইনস দেখাতে নিয়ে যাচ্ছিল। যাত্রীদের বেশির ভাগই পর্যটক ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

দুর্ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের মেজর হোর্হে আন্দ্রাদে সাংবাদিকদের বলেন, ‘১১ জন যাত্রী এবং দুইজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।\'

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 

বিমানটি ইকা বিভাগের পিসকো শহর থেকে উড্ডয়ন করেছিল বলে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন দেশ পেরু। দেশটির ঐতিহাসিক নিদর্শন, যেমন ইনকা সভ্যতার মাচু পিচ্চু এবং কুসকো শহরের প্রাচীন পাথরের স্থাপনা দেখতে প্রতিবছর লাখো পর্যটক সেখানে ভ্রমণ করেন।

পেরুর বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪১ লাখ পর্যটক দেশটি ভ্রমণ করেছেন।

নাজকা লাইনস পেরুর দক্ষিণ উপকূলীয় মরুভূমি অঞ্চলে, আন্দিজ পর্বতমালার কাছে অবস্থিত। মাটির ওপর খোদাই করা বিশাল আকৃতির এসব জিওগ্লিফ বা ভূ-চিত্র ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৫০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে ইউনেস্কো নাজকা লাইনসকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, সংখ্যায়, আকারে, বৈচিত্র্যে এবং ধারাবাহিকতায় এসব ভূ-চিত্র প্রত্নতত্ত্বের অন্যতম রহস্যময় নিদর্শন।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি পেরুর দর্শনীয় স্থান ভ্রমণসেবা প্রতিষ্ঠান এরোডিয়ানার বহরের একটি বিমান ছিল।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের মধ্যেও গাজায় ইসরাইলি হামলা, নিহত ৮

প্রকাশিত :  ০৭:৪৫, ০২ আগষ্ট ২০২৬

গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের মধ্যেই গাজা উপত্যকায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সর্বশেষ এ হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। হামলার ঘটনায় আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (২ আগস্ট) গাজার বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে দেইর আল-বালাহর দক্ষিণে একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি হেলিকপ্টারের হামলায় এক নারী ও এক পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া খান ইউনিসে পৃথক হামলায় তিনজন এবং গাজা সিটির পুরোনো এলাকায় আরও একজন নিহত হন। 

এই হামলা এমন সময় হলো, যখন দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ১৫ দফা একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করে। এতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরাইলি বাহিনীর গাজা থেকে প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়।

তবে এখন পর্যন্ত ওই পরিকল্পনার কোনো অংশই মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়নি। হামাস জানিয়েছে, ইসরাইল সামরিক অভিযান বন্ধ করে গত বছরের চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার করলেই তারা অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইসরাইলের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, হামাসের ‘প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ’ না হলে বর্তমান অবস্থান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।

এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ উদ্যোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দেশটির কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই পরিকল্পাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে হামাসের নেতাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত ফাতাহর সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ দাহলান দাবি করেছেন, ট্রাম্পের জামাতা ও মার্কিন উদ্যোগের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার তাকে জানিয়েছেন, গাজায় হামলা বন্ধে ইসরাইলের সঙ্গে কাজ চলছে। দাহলানের ভাষ্য, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করছে ইসরাইল প্রতিদিনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করে কি না তার ওপর।

এরই মধ্যে শনিবার মধ্য গাজায় ইসরাইলি হামলায় একটি চিকিৎসাসামগ্রীর গুদাম ধ্বংস হয়ে যায়। হামলায় প্রায় ২০ মিটার চওড়া ও ১০ মিটার গভীর একটি গর্তের সৃষ্টি হয়। যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও গাজাজুড়ে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর