img

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ২৯ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত কুকুর উদ্ধার

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ২৮ জুলাই ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ২৯ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত কুকুর উদ্ধার

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ২৯ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বেইলি নামের একটি পোষ্য কুকুরকে। প্রায় এক মাস খাবার ও পানি ছাড়াই কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার পর তার জীবিত উদ্ধার হওয়ায় এলাকাজুড়ে বিস্ময় ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনযায়ী, উদ্ধারকারীরা গত সপ্তাহে বেইলিকে খুঁজে পায়। কুকুরটির এই অবিশ্বাস্যভাবে এই বেঁচে ফেরাকে জরুরি উদ্ধারকর্মী এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা ‘অলৌকিক’ বলেই অভিহিত করেছেন।

গত জুনের শেষ সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল অসংখ্য ঘরবাড়ি। সেই প্রলয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ।

ধ্বংসস্তূপের নিচে যখন প্রাণের আর কোনো চিহ্ন পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন উদ্ধারকর্মীরা, ঠিক তখনই ঘটে এই অবিশ্বাস্য ঘটনা। উদ্ধারকর্মীরা জানায়, কুকুরটিকে ধুলোয় ঢাকা অবস্থায় তার মালিকের মৃত মায়ের লাশের পাশে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। অবিশ্বাস্য হলো, সে নিজ মালিকের মৃত মায়ের নিথর দেহের পাশেই আশ্রয় নিয়ে বেঁচে ছিল এতদিন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ২৯ দিন অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে গেলেও বর্তমানে বেইলি স্থিতিশীল রয়েছে এবং ভেটেরিনারি চিকিৎসায় দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে। এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে ছোট্ট মালিক ১১ বছরের ভিক্টোরিয়া নিজের মা ও দাদিকে চিরতরে হারিয়েছে। 

 মিরনা নামের এক পশুচিকিৎসক বলেন, ‘এটা সত্যিই একটা অলৌকিক ঘটনা, তার সাথে যা কিছু ঘটেছে, সবই অলৌকিক। তার চোখে কিছু ঘা হয়েছে, কিন্তু সে শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবে।’

ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে সেই আবেগঘন মুহূর্তটি ধরা পড়েছে, যখন উদ্ধারকারীরা দৃশ্যত শীর্ণ ও পানিশূন্য প্রাণীটিকে বাঁচিয়ে তোলেন। ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে বেইলিকে পানি দেন এবং চিকিৎসা দলের সদস্যরা জরুরি ভিত্তিতে স্যালাইন প্রয়োগ করেন।

 গত ২৪শে জুন উত্তর ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, এই দুর্যোগে প্রায় ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারান। শত শত ভবন মাটির সাথে মিশে যায় এবং বিশ্বব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী প্রত্যক্ষ ভৌত ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৯.৬ বিলিয়ন ডলার।


 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

এফ-৩৫ ও তুরস্ক ইস্যু

img

আমি কাকে কী বিক্রি করব, সেটা কেউ ঠিক করে দেয় না: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৭:৪৩, ২৮ জুলাই ২০২৬

তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য আপাত্তিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান যে ‘আমি কাকে কী বিক্রি করব, সেটা কেউ ঠিক করে দেয় না’। 

সোমবার (২৭ জুলাই) এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ন্যাটো মিত্র তুরস্কের প্রশংসা করেন এবং এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। 

হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের মাত্র একদিন আগে ট্রাম্প তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গে তাঁর চমৎকার সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং নেতানিয়াহুর বিপরীত অবস্থান সত্ত্বেও ট্রাম্প তুরস্ককে শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতার অধিকারী এক অনন্য পরাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। 

এর আগে নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুরস্ককে চরমপন্থী মুসলিম ব্রাদারহুড ভাবধারার অনুসারী বলে আখ্যা দিয়ে তাদের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা এর ইঞ্জিন বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে ট্রাম্প এই বিমানে দেওয়া বক্তব্যে জানান যে আঙ্কারা ইসরায়েল বা নেতানিয়াহুর ভক্ত না হলেও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তারা ওয়াশিংটনের দারুণ সহযোগী। মূলত ২০২০ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার অপরাধে আঙ্কারাকে আমেরিকার এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে তুরস্ক এখনও এস-৪০০ ব্যবস্থা সম্পর্কিত শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টারিং আমেরিকার অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্টের অধীনে থাকা এসব আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা এখনও পুরোপুরি না মিটলেও ট্রাম্প আঙ্কারাকে যুদ্ধবিমান প্রদানের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। তুর্কি সরকারের ওপর থাকা এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি আপাতত আইনি শর্ত বাস্তবায়নের দিকেই নির্দেশ করছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর