img

স্পেনের সেউতায় অনুপ্রবেশের চেষ্টায় নিহত ১৯, সেনা পাঠানোর ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১১:৩৩, ৩১ জুলাই ২০২৬

স্পেনের সেউতায় অনুপ্রবেশের চেষ্টায় নিহত ১৯, সেনা পাঠানোর ঘোষণা

মরক্কো সীমান্তবর্তী স্পেনের স্বশাসিত ভূখণ্ড সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর একযোগে প্রবেশের চেষ্টার পর সেখানে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন সরকার। সীমান্তের বেড়া টপকে এবং সমুদ্রপথে সাঁতরে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টার সময় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সেউতার আঞ্চলিক সরকার মাদ্রিদের কাছে সেনাসহ অতিরিক্ত নিরাপত্তা সহায়তা চায়। এর পরই কেন্দ্রীয় সরকার সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। শুক্রবার সেউতা সফর করার কথা রয়েছে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।

সেউতায় দায়িত্ব পালনকারী স্প্যানিশ সিভিল গার্ড অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান রশীদ সেবিহি বলেন, সীমান্তের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মরক্কোর বিপুলসংখ্যক তরুণের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও তারাজাল সৈকত দিয়ে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন।

সেউতার প্রশাসন জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। সমুদ্রে কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে বলেও নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনার পর ইউরোপীয় সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মরক্কোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সীমান্তে অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না—স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের এমন একটি রায়ের পর থেকেই সেউতা সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে। ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় মরক্কোর ফেনাইদেক এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সমুদ্রপথ সাঁতরে কিংবা স্থলসীমান্ত অতিক্রম করে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন অভিবাসীরা।

এর আগে ২০২১ সালেও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে মাত্র দুই দিনে প্রায় ৮ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করলে বড় ধরনের সীমান্ত সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল।

সূত্র: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

বেলুচিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে নিহত ৩২, ভেতরে আটকা আরও ১০ শ্রমিক

প্রকাশিত :  ১০:৫৩, ৩১ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৪, ৩১ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার উপকণ্ঠে একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন খনিশ্রমিক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর আরও ১০ জন শ্রমিক খনির ভেতরে আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সংঘটিত এ দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সরকারি খনি পরিদর্শক ঘানি বালুচ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খনির ভেতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণ থেকেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার আশঙ্কা, ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা প্রথমে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে আরও ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘানি বালুচ বলেন, খনির ভেতরে আটকে পড়া প্রত্যেক শ্রমিককে শনাক্ত না করা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চলবে। তবে বিস্ফোরণের পর অক্সিজেনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। একই সঙ্গে উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

বেলুচিস্তান প্রদেশের এই কয়লাখনিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কোয়েটা, বেলুচিস্তান, পাকিস্তান, ৩০ জুলাইবেলুচিস্তান প্রদেশের এই কয়লাখনিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বেলুচিস্তানের খনি ও খনিজসম্পদবিষয়ক মন্ত্রী শোয়েব নশেরওয়ানি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের পরিবারকে পাঁচ লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ এবং খনিগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের কথাও জানান।

এদিকে পাকিস্তান সেন্ট্রাল মাইনস লেবার ফেডারেশন অভিযোগ করেছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, খনিগুলোতে নিরাপত্তাবিধির কঠোর বাস্তবায়ন এবং আইন লঙ্ঘনকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

পাকিস্তানের কয়লাখনিগুলোতে দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে বেলুচিস্তানের বহু খনিতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, গ্যাস শনাক্তকরণ যন্ত্র এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ ও স্বল্প মজুরি সত্ত্বেও বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের কারণে প্রদেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবিকার তাগিদে এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হন।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর